মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন বিয়ানীবাজারে প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অনেক শ্রমিকের বেকার হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। উপজেলার একাধিক প্রবাসীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে আগামী প্রজন্ম। প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা এখন সেখানকার যুদ্ধ নিয়ে উৎকণ্ঠিত। সবার মাঝে দুশ্চিন্তা। এই দুশ্চিন্তা শুধু মৃত্যু ভয়ের নয়। অনেকের আছে চাকরি হারানোর শঙ্কা।
Manual7 Ad Code
মোবাইল ফোনে কথা হয় দুবাইয়ের একটা রেস্টুরেন্টের কর্মচারী রায়হানের সঙ্গে। তিনি উপজেলা চারখাই এলাকার বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শনিবার মাগরিবের আজানের সময় ইফতার করতে বসি, তখন আল উদেইদ ঘাঁটিতে একের পর এক মিসাইল আছড়ে পড়ছিল। মিসাইলের বিকট শব্দে এবং বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। একটি মিসাইল ঘাঁটির বাইরে এসে একটি গাড়ির ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়। মনে হচ্ছিল মৃত্যুর খুব কাছে চলে এসেছি। যেকোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।’
আলাপকালে রায়হান জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি না থেকেও তিনিসহ তার আশপাশের শতাধিক বাংলাদেশি প্রচন্ড ভয়ের মধ্যে আছেন। কখন কোন দিক থেকে মিসাইল কিংবা ড্রোন উড়ে এসে বিস্ফোরণ ঘটাবে, তা নিয়ে সবাই শঙ্কিত। আবুধাবিতে থাকেন পৌরসভার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমির হোসেন। মুঠোফোনে তিনি জানান, সেখানে বেশ কয়েকবার মিসাইল হামলা হয়েছে। যতবার মিসাইল আঘাত হেনেছে ততবারই মনে হয়েছে ভূমিকম্প হচ্ছে। মিসাইলের আঘাতে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
Manual3 Ad Code
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বিয়ানীবাজারের ঈদ অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দেশে থাকা স্বজনরা। তারা জানান, যারা দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন যুদ্ধের কারণে তাদের অনেকেই বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। আয় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এর প্রভাব পড়বে ঈদে। কারণ অনেক প্রবাসী ঈদের আগে বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারবেন না। তাতে ¤øান হবে স্বজনদের ঈদের আনন্দ।
Manual1 Ad Code
বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি রেজাউল করীম শামীম বলেন, এখনো ঈদের কেনাকাটা জমেনি। যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে এখানকার ঈদের বাজারে। তিনি বলেন, প্রবাসীরা সাধারণত: ১৫ রমজানের পর ঈদের জন্য টাকা পাটান। এবারতো এর আগেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তাছাড়া শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে অনেক মালিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে নিরাপদে চলে গেছেন বলে শুনেছি।