প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিয়ানীবাজারে নেই খেলার মাঠ; রমরমা ইনডোরের ব্যবসা

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৪:১৭ অপরাহ্ণ
বিয়ানীবাজারে নেই খেলার মাঠ; রমরমা ইনডোরের ব্যবসা

Manual6 Ad Code

বিয়ানীবাজারে শিশু-কিশোররাও ইনডোর স্টেডিয়ামে ভিড় করছে। তারা অংশ নিচ্ছে খেলাধুলায়-আগামী প্রজন্ম/

 

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:

 

দুই কিংবা আড়াই দশক আগেও যারা বড় হয়েছেন তাদের কাছে খেলার মাঠ ছিল ‘সেকেন্ড হোম’। ফুটবল পায়ে নিয়ে দৌড়ানো শিশুদের চিৎকারে স্কুলের মাঠগুলো মুখরিত থাকতো। বাতাসে ভাসতো ক্রিকেট বল। গাছে রশি দিয়ে বাঁধা হতো ব্যাডমিন্টনের নেট। সন্ধ্যা তখনই হত যখন সূর্য ডুবে চারপাশ অন্ধকার করে দিত। ঘামে ভেজা শরীরে ধুলাবালি নিয়ে দেরি করে ঘরে ফেরা শিশু-কিশোরদের শুনতে হতো বাবা-মায়ের বকাঝকা। কিন্তু আজ সেসব মাঠে সুনসান নীরবতা। বিয়ানীবাজারে এখন মাঠ নেই। সব বাণিজ্যিকরনে হারিয়ে গেছে। মাঠের জায়গায় ওঠেছে ভবন, বিপনী বিতান।

Manual3 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

বিয়ানীবাজারের প্রাকৃতিক মাঠ অথবা কৃষি জমি জমি নির্ভর খোলা মাঠগুলো শহরায়নের ভারে চাপা পড়ে গেছে। উপজেলায় খেলার মাঠের অভাব। তবে যেখানে শূন্যতা, সেখানেই উদ্যোক্তারা সুযোগ দেখতে পান। আর সে সুযোগ নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলায় অন্তত: এক ডজন ইনডোর স্টেডিয়াম গড়ে তোলা হয়েছে। একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন রেজাউল ইসলাম। বয়স ত্রিশের কোঠায়। ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা তার নেশার বিষয় ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ও তিনি প্রতিদিন খেলতেন। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে যখন বিয়ানীবাজার আসেন, তখন ভেবেছিলেন খেলার দিন শেষ। যদিও তিনি একটি স্থানীয়ভাবে কৃত্রিম মাঠের কথা জানতে পারেন। তখন তার ফিরে আসে শৈশবের স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘খেলা আমাকে প্রশান্তি দেয়। এমন প্রশান্তি কোথাও পাই না। যেহেতু খোলা জায়গা বা সবার জন্য খেলার মাঠ নেই, তাই কয়েকজন সহকর্মীকে নিয়ে ইনডোর মাঠে ফুটসাল খেলি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাতে খেলি, কারণ দিনে নিজ পেশায় ব্যস্ত থাকি।’

 

নির্মিতব্য একটি ইনডোর মাঠের দায়িত্বশীল মাহমুদ সামি কামাল বলেন, খেলার ছোট সংস্করণের ইনডোর মাঠ খুব প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিকেল ৫টায় পিক আওয়ার শুরু হয়ে চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। বাকিটা অফ-পিক হিসেবে বিবেচিত হয়। সন্ধ্যায় চাহিদা বেশি থাকলে খরচ বেশি হয়। সে সময় বিদ্যুৎ বিলও খরচের সঙ্গে যোগ হয়।

Manual8 Ad Code

 

এই ইনডোর স্টেডিয়ামের উদ্যোক্তা মোস্তফা বাদল বলেন, বিয়ানীবাজারে মানুষ বাড়লেও মাঠ প্রায় নেই বললেই চলে। বুঝতে পারি খেলার মাঠের চাহিদা আছে। তিনি জানান, প্রাথমিক বিনিয়োগ হিসেবে প্রয়োজন জমি, অগ্রিম টাকা, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও টার্ফ। আবার টার্ফের মানের ওপর ভিত্তি করে খরচ ভিন্ন হয়।

 

বিয়ানীবাজার ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ জানান, ইনডোর মাঠ অনেকের জন্য সামাজিক মিলনমেলা। এখানে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। ব্যাংককর্মী, শিক্ষার্থী, এমনকি ছোট ব্যবসায়ীসহ অনেকেই খেলতে আসেন।’

 

 

তবে ইনডোর ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা সত্তে¡ও জমি ভাড়া নিতে প্রচুর খরচ ও টার্ফের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এই খাতে সংকট সৃষ্টি করেছে। রাতে বিদ্যুৎবিল খরচ আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

 

সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টার্ফগুলোর ফ্লাডলাইট জ্বলে ওঠে। কৃত্রিম ঘাসে ফুটবলের শব্দ, খেলোয়াড়দের হৈহুল্লোড়-উল্লাস অতীতের খোলা মাঠের মতো না হলেও একেবারেই অনুভূতিহীন নয়।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code