বিয়ানীবাজারের আলীনগরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন নিয়ে জটিলতা
বিয়ানীবাজারের আলীনগরে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন নিয়ে জটিলতা
editor
প্রকাশিত জুন ১৫, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
Manual4 Ad Code
মিলাদ জয়নুল:
Manual2 Ad Code
বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি এবং দেশের বাইরে অবস্থান করায় বরখাস্ত হতে পারেন বিয়ানীবাজারের আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু। সম্প্রতি তিনি কানাডা থেকে দেশে ফিরলেও তার দায়িত্ব পালন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশে ফিরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাইলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে বারণ করেছেন। ফলে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মনিরুজ্জামান যথারীতি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
Manual2 Ad Code
তবে দায়িত্ব পালনে কোন জটিলতা নেই বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশু। তিনি বলেন, আমাকে বরখাস্ত করা হয়নি। রাজনৈতিক কারনে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমি মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে অনুমতি ছাড়া কানাডা চলে যাই। এজন্য সরকার আমাকে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিতে বাধ্য। দেশে আসার পর আমি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি জানান, বিয়ানীবাজারের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাকে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করতে বলেছেন।
Manual3 Ad Code
এদিকে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশুর বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিতি এবং দেশের বাইরে অবস্থান করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পত্র প্রেরণ করেছেন। এতদসঙ্গে তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করেন। সচিব বরাবর প্রেরিত পত্রে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদত্ত মতামতে স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (জ) ধারা মোতাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এই আইন অনুযায়ী, কোন চেয়ারম্যান বা সদস্যের বিরুদ্ধে সাময়িকভাবে বরখাস্ত অথবা চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা যায়। চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান খান শিশুও বরখাস্ত হতে পারেন বলে তিনি নিজেই মনে করছেন।
চেয়ারম্যান আহবাবুর গত ১৮ মার্চ কাউকে না জানিয়ে দেশ ছাড়েন। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত এই চেয়ারম্যান সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তার বিরুদ্ধে অন্তত চারটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্যানেল ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, আইন না মেনে চেয়ারম্যান অফিসে এসে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে চাইছেন। ইউএনও মহোদয় তাকে দায়িত্ব পালনে বারণ করলেও তিনি নিজ থেকে কাগজপত্রে সই-স্বাক্ষর করতে চাইছেন। অনেকটা জোর করে দায়িত্ব পালন করার মত অবস্থা। তাছাড়া জন্ম নিবন্ধনসহ নানা তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে সরকারি ওটিপি নাম্বারসহ অন্যান্য তথ্য তিনি অত্র কার্যালয়কে অবগত করছেননা। এতে ইউনিয়ন দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।