সিলেট কিংবা মৌলভীবাজার থেকে বিয়ানীবাজার শহরে প্রবেশ করতে হলে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি সেতু পাড়ি দিতে হয়। এসব সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার পাশাপাশি এ অঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। কিন্তু কোটি-কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সন্ধ্যার পর থেকেই অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ।
Manual3 Ad Code
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেতুগুলোর চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়। দিনের বেলায় যেসব সেতু সৌন্দর্য আর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকে, রাতের অন্ধকারে সেগুলো পরিণত হয় এক নির্জন ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে। আলোর ব্যবস্থা না থাকায় এসব সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বহু বছর পূর্বে নির্মিত শেওলা সেতুটি বিয়ানীবাজার তথা এতদঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। উদ্বোধনের পর থেকেই এটি বিয়ানীবাজার, বড়লেখা-জুড়িসহ এতদঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল এ সেতু ব্যবহার করে। কিন্তু পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে যানবাহন চালকদের অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে চলতে হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, চন্দরপুর-সুনামপুর সেতুকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি জনপ্রিয় আড্ডা কেন্দ্র। সেতুর দুই পারে দু’টি বাজার রয়েছে। বিকাল হলেই তরুণরা সেতুর উপরে বসে রসালো গল্পে মেতে ওঠে।
যদিও সন্ধ্যার পর সেতুর উপর এলাকার নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের অনেকেই এখানে আসতে চান না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যায়।
Manual6 Ad Code
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিয়ানীবাজারের ছোট-বড় সেতুগুলোর চারপাশে অন্ধকার। সেতু দিয়ে কিছু সময় পরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা, মোটরসাইকেল যাওয়া-আসা করছে। এতে পথচারীরা কিছুটা আলো পাচ্ছেন। তবে যানবাহন চলাচল না করলে পথচারীদের অন্ধকারের মধ্যেই হাঁটতে হচ্ছে।
শেওলা সেতুর প্রতিবেশী মেওয়া গ্রামের বাসিন্দা বিয়ানীবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল খালিক বলেন, রাত হলে সেতু পার হতে ভয় লাগে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলে চলাচলের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।সেতুটি একসময় দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও এখন চিত্র ভিন্ন। দর্শনার্থী শিমুল ও পরিতোষ জানান, অন্ধকার ও নিরাপত্তার অভাবে রাতে এখন আর কেউ সেতু এলাকায় আসতে চান না।
Manual7 Ad Code
বিয়ানীবাজারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সেতু সদাখালের উপরও আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বারইগ্রাম-চান্দগ্রাম সেতুর উপর আলোর ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। উপজেলার গ্রামীন জনপদে নির্মিত ছোট-বড় সেতুগুলোও অন্ধকারে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি-কোটি টাকার সেতুতে বাতি না থাকা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা। সুনাই নদীর উপর নির্মিত কানলী-দৌলতপুর সেতু ও আতুয়া-নয়াগ্রাম সেতুতেও আলোর ব্যবস্থা নেই।
Manual8 Ad Code
বিয়ানীবাজার উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্তত: অর্ধশত সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এসব সেতুতে নেই রাত্রীকালীন আলোর সরবরাহ। ফলে সময়ের প্রয়োজনে এসব সেতুর উপর আলোর ব্যবস্থা করা জরুরী প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমান। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ও টার্নিং পয়েন্ট স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরাধ প্রবণতা: নির্জন ও আলোকহীন সেতুর সুযোগ নিয়ে পথচারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেট জোনের সহকারি প্রকৌশলী মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নির্মাণকালীন সময়ে অনেক সেতুতে আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণ করা হবে।