বিয়ানীবাজারে বেড়েছে আবেগের বিয়ে, বিপদগ্রস্ত হচ্ছে মেয়েরা
বিয়ানীবাজারে বেড়েছে আবেগের বিয়ে, বিপদগ্রস্ত হচ্ছে মেয়েরা
editor
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে পালিয়ে বিয়ের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে মেয়েরা চরম আইনি ও সামাজিক ঝুঁকিতে পড়ছেন। এটি রোধে পরিবারের সতর্ক নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি জরুরি বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘরছাড়া এই তরুণ-তরুণীদের দশম বা একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কিংবা এই বয়সের। সদ্য সমাপ্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিন বিয়ানীবাজার থেকে ৩ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়।
Manual4 Ad Code
জানা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের পরিবার অপহরণ মামলা করতে চাইলেও আইনি জটিলতা কিংবা লোকলজ্জার ভয়ে তা থেকে সরে আসছেন। সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক বাবা-মা শেষ পর্যন্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। স্থানীয়রা মনে করেন, পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়া ও ইন্টারনেটের অপব্যবহারই এই সমস্যার অন্যতম কারণ। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের এমন অবাধ্যতা রোধে এবং সামাজিক অবক্ষয় ঠেকাতে এখনই পরিবার ও সমাজকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে বিয়ানীবাজারে অসাধু উপায়ে জন্মনিবন্ধন তৈরি ও সংশোধনের কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করছেন ইউনিয়নের কতিপয় অসৎ উদ্যোক্তা। তারা বিভিন্ন ব্যক্তির বয়স কমিয়ে বা বাড়িয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিচ্ছেন। সাধারণত জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তার সত্যায়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে। কিন্তু এই অসাধু চক্রটি জাল সিল ও নকল স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করছে, যা দিয়ে বয়স পরিবর্তন করে নতুন জন্মনিবন্ধন বানানো হচ্ছে। আইন অনুযায়ী, বিয়ের সময় বর ও কনের সরকার স্বীকৃত জন্মনিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সরকারি পোর্টালে অনলাইনের মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। কিন্তু নানা কারণে ত্রুটিপূর্ণ কাগজের বিয়েগুলো কাজিদের মুল নিবন্ধন বইয়ে স্থান পায়না। তাছাড়া পালিয়ে যাওয়া যুগলগুলো কেবলমাত্র নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ কার্য সম্পাদন করেন। পরে তারা এগুলো নিবন্ধন করেননা।
পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হলে বা নির্যাতন করলে মেয়েরা আইনি প্রতিকার চাইতে গিয়ে দেখে তাদের বিয়ের কোনো বৈধ কাবিননামাই নেই। কাবিননামার মূল কপি বা অনলাইন কপি দেখাতে না পারায় সবচেয়ে বেশি ঠকছে মেয়েরা ।
Manual3 Ad Code
Manual5 Ad Code
নোটারী পাবলিক এডভোকেট মো: আমান উদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ রোধে আইন অনুযায়ী ছেলেদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর ও মেয়েদের ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে পালিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলেও ছেলের বয়স ২১ বছর না হওয়ায় কাজি বিয়ে রেজিস্ট্রি করেন না। তখন কেউ কেউ ভুয়া বা ডুপ্লিকেট এনআইডি ব্যবহার করে বয়স বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করে। অল্প বয়সে সংসার শুরু করার কারণে এরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। ফলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হয় ও সংসার টেকে না।’
অপর নোটারী পাবলিক এডভোকেট মো: আবুল কাশেম বলেন, ‘শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করলেই সেটি পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ বিয়ে হিসেবে গণ্য হয় না। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’
Manual1 Ad Code
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ওমর ফারুক বলেন, প্রায়ই মেয়ে নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়রী করতে আসেন অভিভাবকরা। আমরা এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ আইনী প্রতিকার দেয়ার চেষ্টা করি।