পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার সুহান ‘ছাত্রলীগ নেতা’, সমন্বয়ক দাবি করে থানা ঘেরাও
পুলিশ বলছে গ্রেপ্তার সুহান ‘ছাত্রলীগ নেতা’, সমন্বয়ক দাবি করে থানা ঘেরাও
editor
প্রকাশিত আগস্ট ২০, ২০২৫, ০৫:২০ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
বরিশাল সংবাদদাতা:
বরিশাল শের ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে আন্দোলনে জড়িত এক যুবকের পরিচয় নিয় ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। হোসাইন আল সুহান নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা। অন্যদিকে সুহানকে এই আন্দোলনের।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা। থানার ভেতরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে তাদের।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নগর ভবনের সামনে ফজলুল হক এভিনিউ সড়ক থেকে সুহানকে করা হয়। তোকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাও করে ও সড়ক আটকে বিক্ষোভ করে। এরপর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কোতোয়ালী মডেল থানা ঘেরাও করে মূল ফটকে বিক্ষোভ করতে শুরু করে আন্দোলনকারীরা।
সুহানকে গ্রেপ্তারের খবরে রোববার দুপুর থেকে ডাকা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে সোমবার দুপুর তিনটার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্যরা কাজে ফিরেছেন।
Manual1 Ad Code
পুলিশ কমিশনার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, সুহানকে বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপর হামলার মামলাসহ জুলাই অভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। সুহান ছাত্রলীগ নেতা।
Manual8 Ad Code
স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বলেন, ‘মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। তাই আমরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। সেখান পুলিশ আমাদের সমন্বয়ক সুহানকে নিয়ে গেছে। তার মুক্তির দাবিতে আমরা এখন থানায় অবস্থান নিয়েছি।’
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগের ক্যাডার সুহান বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও পলাতক শেখ হাসিনার মামাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারী। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্বাস্থ্যখাত আন্দোলনের কয়েকজন সদস্য জোর করে টহল পিকআপে উঠেছিল। তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুহানকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হবে।
Manual3 Ad Code
এর আগে সোমবার বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে হামলা চালিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আহত করার অভিযোগে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী বাহাদুর শিকদার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মহিউদ্দিন রনিকে একমাত্র নামধারী ও অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে জনতার উপর হামলা, হত্যা করতে আঘাতসহ মারধর-জখমসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক মহিউদ্দিন রনি বলেন, ডিসির প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য বলেন। শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষার্থীরা সবাই একসাথে স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে যেতেই পুলিশ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেয় এবং হোসাইন আল সুহানকে ধরে নিয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ২৩ দিন ধরে চলা আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি গত ১১ আগস্ট শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি গেটে আমরণ অনশনে বসেন কয়েক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে অনশন থেকে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে দাবি করা হয়। গত রোববার শেবাচিম হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে আন্দোলনে নামে। একই সময় ছাত্রজনতা শেবাচিমের প্রধান গেটে অবস্থানকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন ছাত্রজনতার ছোড়া ইটে চিকিৎসক আহত হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়। এরপর রোববার দুপুর থেকে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দিয়ে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা জানান, হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে হাসপাতাল শাটডাউনের কথা জানান।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর, রোগীদের হয়রানি ও স্বাস্থ্যখাতের সিন্ডিকেট ভাড়ার দাবিতে চলমান এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কয়েকজন নেতা।
Manual4 Ad Code
এদিকে জেলা প্রশাসক সম্পর্কে মহিউদ্দিন রনির ‘বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন’ করে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিবাদ প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে ডিসি অফিস।