মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা : সেই শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে
মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা : সেই শিক্ষক ৩ দিনের রিমান্ডে
editor
প্রকাশিত মে ৭, ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত সেই শিক্ষককে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম পুলিশের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তিন দিনের রিমান্ড শেষে আগামী ১০ মে বিকেলে তাকে আদালতে উপস্থিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আজ তাকে আদালতে তোলা হলে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচারকার্য নিয়ে নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। এই মামলাটি জনস্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তার বিবেচনায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আদালত কক্ষ সবার জন্য উন্মুক্ত রেখে বিচারকার্য করার সিদ্ধান্ত নেন বিচারক। আদালত কক্ষের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী সাধারণ মানুষ, সংবাদকর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত থেকে সরাসরি বিচারকার্য পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, ধর্ষণের এই ঘটনাটি এখন ‘টক অব দ্যা কান্ট্রি’। আসামির পক্ষের লোকজন সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। মেয়েটির চিকিৎসা করেছিলেন যে চিকিৎসক তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাকে নির্দোষ প্রমাণের জন্য একটি দল বা গোষ্ঠী দলগতভাবে কাজ করছে। আসামি নিজেও ফেসবুক লাইভে এসে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন। যার কারণে অনলাইনে একটি ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। তার আরো কোন অনৈতিক কাজ আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখার দরকার বলেও দাবি করেন এই আইনজীবী। এই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার আবেদন করছি।
Manual8 Ad Code
আসামি পক্ষের আইনজীবী টিপু সুলতানের (ডায়মন্ড) প্যানেল থেকে অ্যাডভোকেট জিয়াউদ্দিন খান জিয়া বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই তাকে অপরাধী বলা যায় না। এভাবে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাকে অপরাধী সাজাতে পারে না। আমি রিমান্ডের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জামিন মঞ্জুর করার আবেদন করছি। সে অপরাধী হলে তার বিচার হবে।
Manual5 Ad Code
দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম আজ বৃহস্পতিবার (৭মে) বিকেল ৪টা থেকে রোববার (১০মে) বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
Manual5 Ad Code
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতে পেশ করেছে। আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং অভিযুক্তকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
Manual2 Ad Code
ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে আসছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হয় যখন মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে পরিবার তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। পরীক্ষায় জানা যায়, ওই ছাত্রী ৭ মাসের বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত শিক্ষক এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেন।
এর আগে নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিশু ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪। বুধবার (৫মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে র্যাব-১৪ এর একটি অভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।