দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ইসলামি বক্তা মাদানী
দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ইসলামি বক্তা মাদানী
editor
প্রকাশিত মে ৭, ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
নিউজ ডেস্ক:
দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। এবার নিজের ফেসবুক পোস্টে বিয়েকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্ন, গুঞ্জন ও অভিযোগের জবাব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেছেন, বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত নতুন স্ত্রীকে তিনি কখনো দেখেননি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে করা পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
Manual5 Ad Code
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় নতুন স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে চাপে পড়ে তিনি বিয়ে করেন। আবার কেউ কেউ বলেন, টিকটকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল।
Manual2 Ad Code
তবে এসব অভিযোগকে গুজব আখ্যা দিয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনো দিন দেখিনি। এমনকি তার সঙ্গে একবারের জন্য কথাও হয়নি। আর টিকটকে জীবনে কোনো দিন আমার আইডি ছিল না, সেটা এত বুঝিও না।’
তিনি জানান, আইএমভির মাধ্যমে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বিয়েটা করেছি আইএমভির মাধ্যমে। সেখানে যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়ে করতে আগ্রহী ছেলে বা মেয়ে তাদের ফরম পূরণ করতে হয়।
‘আমার ফরম পূরণ করা হয়েছিল কয়েক মাস আগে। এরপর তারা কুফু অনুযায়ী মিলে গেলে ছেলে ও মেয়ের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে, উভয় পক্ষ রাজি হলে বিয়ে সম্পন্ন হয়।’
প্রথম স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় কেন দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রশ্নও ওঠে। এর জবাবে মাদানী বলেন, ‘আমি সেই সময়ই আমার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি জানিয়েছিলাম। অতএব আইএমভি শুধু বিবাহের মধ্যস্থতাকারী।
Manual5 Ad Code
‘আমার জন্য উপযুক্ত মেয়ে পাওয়ার সময়টা আমার স্ত্রীর প্রেগন্যান্সির সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমিও দ্বিধান্বিত ছিলাম, সিদ্ধান্ত নিতেও কষ্ট হয়েছে।’
তবে নিজের সংসারজীবন নিয়ে তিনি দাবি করেন, প্রথম স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব পালনে তিনি অবহেলা করেননি। মাদানী বলেন, ‘আড়াই বছরের সংসারে আমার স্ত্রী যদি ন্যূনতম একবারও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে থাকে—পৃথিবীর কেউ যদি সেটা প্রমাণ করতে পারে, আমি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এই হালাল ও বৈধ সিদ্ধান্তের কারণে আজ নিজের ভেতরেও এক ধরনের অপরাধবোধ জন্মেছে। তবে সেটার জন্য আমি একজন মানুষের কাছেই দায়ী—তিনি আমার প্রথম স্ত্রী। তার কাছে আমি কীভাবে আগের মতো হতে পারি, সেটাই আমার ইনসাফের মাধ্যমে প্রমাণ হবে, ইনশাআল্লাহ।’
দ্বিতীয় বিয়ের পর মাওলানা মামুনুর রশীদ কাসেমী ও তার প্রতিষ্ঠান আইএমভিকে নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, ‘আইএমভি কী করছে? তারা শুধু এমন দুই পক্ষকে মিলিয়ে দিচ্ছে, যারা স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী। তারা তো কাউকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে না।’
পোস্টের শেষাংশে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ দেশের অনেক আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টেইন ফাইলস বা বড়লোক বড় নেতাদের স্ত্রী রেখে ৫-৭টা রক্ষিতা নিয়েও এত কথা বলেনি, যতটা আমার একাধিক বিয়ে নিয়ে বলছে।
‘তাদের কাছে মনে হয়, এপস্টেইন ফাইলসের সেই ছোট ছোট শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার চেয়েও আমার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ।’