স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— এক নারী, তার তিন সন্তান ও ভাই।
Manual4 Ad Code
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. ফোরকানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাউৎকোনা গ্রামের জনৈক মনির হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন মো. ফোরকান (৪৫)। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওই বাড়ির নিচতলায় বসবাস করতেন। বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ৮টা থেকে শুক্রবার (৯ মে) সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে যে কোনো সময়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতরা হলেন— ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩৫), মেয়ে মিম (১৫), মারিয়া (১২), শিশু কন্যা ফারিয়া (১) এবং শ্যালক রসুল। তাদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর এলাকায়।
কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে থানায় খবর আসে যে, অভিযুক্ত ফোরকান মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে জানিয়েছেন— তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
Manual2 Ad Code
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘরের ভেতরে শিশুদের মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। অপরদিকে শারমিন ও তার ভাই রসুলের মরদেহ আলাদা স্থানে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের বিভৎস দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
Manual3 Ad Code
স্থানীয়দের দাবি, ফোরকান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এলাকাবাসীর ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
Manual5 Ad Code
গাজীপুর জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে পলাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।