প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আদালতের সাক্ষ্যতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন রামিসা মা-বাবা

editor
প্রকাশিত জুন ২, ২০২৬, ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আদালতের সাক্ষ্যতে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন রামিসা মা-বাবা

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তার। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবা। অসুস্থ বোধ করায় আদালতের অনুমতি নিয়ে বসে সাক্ষ্য দেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় রামিসার বাবা বলেন, ঘটনার দিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর স্ত্রীর ফোন পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে আসেন। বাসার সামনে মানুষের ভিড় দেখে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে যান। সেখানে জানতে পারেন, তার মেয়ে রামিসা পাশের ফ্ল্যাটের ভেতরে রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আদালতে তিনি বলেন, স্থানীয়রা দরজা খুলতে না পেরে ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন ভেতর থেকে মূল লক খুলে দেন। ঘরে ঢোকার পর টয়লেটের সামনে রক্ত দেখতে পান তিনি।

আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, পরে আসামিদের ব্যবহৃত কক্ষের স্টিলের খাট উঁচু করে নিজের মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। ওই দৃশ্য দেখেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করলে তিনি থানায় গিয়ে মামলার এজাহার দায়ের করেন।

জেরাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে যা বলেছেন, তা নিজের দেখা ঘটনার ভিত্তিতেই বলেছেন। আসামিদের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না বলেও জানান তিনি।

এর আগে একই আদালতে সাক্ষ্য দেন রামিসার মা পারভীন আক্তার। তিনি আদালতকে জানান, ঘটনার দিন সকালে রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বড় মেয়েকে ছোট মেয়ে রামিসাকে নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় যেতে বলেছিলেন। কিছু সময় পর শিশুদের কোনো শব্দ না পেয়ে তিনি ধারণা করেন তারা চলে গেছে।

Manual1 Ad Code

পারভীন আক্তার বলেন, পরে বড় মেয়ে ফিরে এলে রামিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন ভবনের বিভিন্ন তলায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় তলায় আসামিদের ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে দরজার নিচে রামিসার জুতা দেখতে পান। বারবার দরজা ধাক্কা দিলেও কেউ খুলছিল না।

তিনি আদালতে বলেন, চিৎকার শুরু করলে ভবনের লোকজন জড়ো হয়। পরে মোবাইল ফোনে উঁকি দিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের ভেতরে স্বপ্না খাতুন হাঁটাহাঁটি করছেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে বাথরুমের কাছে রক্ত দেখতে পান সবাই।

কাঠগড়ায় থাকা স্বপ্না খাতুনকে দেখিয়ে পারভীন আক্তার বলেন, “ওরে ওই সময় বলছি, বোন দরজা খুলে দে।” একই সঙ্গে অপর আসামি সোহেল রানাকে দেখিয়ে তিনি বলেন, “ধর্ষণ ও হত্যাও করেছে।”

Manual2 Ad Code

জেরাকালে তিনি দাবি করেন, সোহেল রানা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন তাকে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালিয়েছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন বলেও আদালতকে জানান।

Manual5 Ad Code

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

Manual4 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code