জাতিসংঘে ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করলেন খলিলুর রহমান
জাতিসংঘে ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করলেন খলিলুর রহমান
editor
প্রকাশিত জুন ৩, ২০২৬, ০৭:২৭ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে ছয় দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
Manual4 Ad Code
মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর আস্থা ও সমর্থনের কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন এবং তিনি তা বিনয় ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে গ্রহণ করছেন।
এসময় তাকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তিনি ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতাকারী দেশের জনগণ, তার টিম এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আন্দ্রেয়াস কাকৌরিসের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কাকৌরিস একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক প্রচারণা পরিচালনা করেছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত।
Manual8 Ad Code
বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ বর্তমানে এমন এক সময় নবম দশকে প্রবেশ করছে যখন বিশ্বব্যাপী সংঘাত, মানবিক সংকট, উন্নয়নগত স্থবিরতা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির মতো নানা চ্যালেঞ্জ সংস্থাটির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটও জাতিসংঘের কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
Manual4 Ad Code
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি শান্তি ও নিরাপত্তা ইস্যুকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস থেকে সুদান পর্যন্ত বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।
Manual7 Ad Code
তিনি সংঘাত প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সমাধান, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আরও কার্যকর ও সমন্বিত শান্তিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনে এখনও বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০২৭ সালের এসডিজি সম্মেলনকে সামনে রেখে পিছিয়ে থাকা লক্ষ্যগুলো অর্জনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ ছাড়া এসডিজি অর্থায়ন, ঋণ ব্যবস্থাপনার স্থায়িত্ব, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার এবং নারী ও কন্যাশিশুদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের জন্য গৃহীত দোহা কর্মসূচিসহ আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানান ইউএনজিএর নবনির্বাচিত সভাপতি।