প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১লা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

editor
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২৬, ০৬:১১ পূর্বাহ্ণ
যৌতুকের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী বিপ্লবের (২৪) বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, স্বামীর মারধর ও পেটে লাথির পর গর্ভস্থ সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার (৩ জুন) রাতে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Manual7 Ad Code

ঘটনাটি উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের। অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লব (২৪) একই গ্রামের সাহাবুলের ছেলে। ভুক্তভোগী শিখা খাতুন (১৮) একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ভুক্তভোগী স্ত্রী শিখা খাতুন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই বিপ্লব বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন দাবি করে আসছিল। কিন্তু শিখা খাতুনের পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় এসব দাবি পূরণ করতে পারেনি। এ কারণে প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

Manual1 Ad Code

ভুক্তভোগী শিখা খাতুন জানান, গত ২৬ মে রাতে যৌতুকের দাবিতে তার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় স্বামী বিপ্লব তাকে মারধর করার পাশাপাশি তার পেটে লাথি মারে।

Manual1 Ad Code

শিখা খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩১ মে রাত প্রায় ১০টার দিকে বিপ্লব বাজার থেকে বাড়ি ফিরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে শুরু করে। একপর্যায়ে এক লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন দাবি করে। তখন আমি স্বামীকে বলি, আমার বাবা একজন দরিদ্র মানুষ এবং এত টাকা কিংবা মূল্যবান জিনিসপত্র দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব না। এই কথা শুনে বিপ্লব আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে আমাকে মারধর করে এবং পেটে সজোরে লাথি মারে। এতে আমি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি।

ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য মতে, পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জীবননগরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করে। পরদিন ১ জুন বিকেলে তাকে জীবননগর মনোয়ারা সনো সেন্টারে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়।

সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গর্ভের সন্তানের কোনো হৃদস্পন্দন খুঁজে পাননি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রায় এক ঘণ্টা অক্সিজেন দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এরপর পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হলেও সন্তানের হার্টবিট পাওয়া যায়নি। পরে একটি ক্লিনিকে শিখা খাতুন মৃত সন্তান প্রসব করেন।

Manual8 Ad Code

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিখা খাতুন বলেন, আমার স্বামী আমার বাবার আর্থিক অবস্থা জেনেশুনেই বিয়ে করেছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই টাকা, মোবাইল ও মোটরসাইকেলের জন্য চাপ দিতে থাকে। দাবি পূরণ করতে না পারায় আমাকে প্রায়ই মারধর করত। ঘটনার দিন পেটে লাথি মারার পর আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানতে পারি আমার ৭ মাসের সন্তান আর বেঁচে নেই। আমি এর বিচার চাই।

জীবননগর থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মো. সোলায়মান শেখ বলেন, ভুক্তভোগী শিখা খাতুন বাদী হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তার স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে ভ্রূণ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃত ভ্রূণের ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code