দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষোভ
দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়া নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষোভ
editor
প্রকাশিত আগস্ট ৬, ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
নিউজ ডেক্স:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশগ্রহণ করায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। সেখানে তিনি ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন।
Manual3 Ad Code
এ ঘটনায় ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে ভারতের সরকারকে পূর্বেই উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই জনসম্মুখে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেই দিনে শেখ হাসিনার ভারতীয় মাটিতে এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি এক গুরুতর অপমান।
Manual7 Ad Code
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জাতিসংঘ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সত্য অস্বীকার করে জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এ ফ্যাসিবাদী শাসনের হাতে নিরীহ নাগরিক, এমনকি শিশুদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে অস্বীকার করা পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার অপরাধী চক্রের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে যেমন এই ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে, এখনো তেমনই করছে।
Manual3 Ad Code
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে আমাদের জনগণ দৃঢ়ভাবে সংকল্প করেছে যে বাংলাদেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনে ফিরে যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ কখনোই কোনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট (অনুগত রাষ্ট্র)’ পরিণত হবে না। দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার ‘মাফিয়া চক্রের’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো স্থান নেই।
দুই দেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
Manual4 Ad Code
এতে আরও বলা হয়, দুঃখজনকভাবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধের কোনো উত্তর ভারত সরকার এখনো দেয়নি।
বরং তাকে যে কোনো অজুহাতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে এবং বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ সরকার।