প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ণ
পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার

Manual5 Ad Code

রংপুর প্রতিনিধি:
রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের দেওয়া হত্যার কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে নিহতদের পরিবার। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে চারজনকে হত্যা করেছেন আটক দুই তরুণ। তবে নিহতদের স্বজনদের প্রশ্ন, শারীরিকভাবে দুর্বল ও কম বয়সী দুই তরুণের পক্ষে একসঙ্গে চারজনকে হত্যা করা সম্ভব কি না।

Manual5 Ad Code

গত শনিবার রাতে কামালকাছনা এলাকার একটি নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে স্থানীয় দুই তরুণ মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। পরে তাদের ওই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত প্রীতিলতার ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, ‘হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশের দাবি নিয়ে আমরা সন্দিহান। কিছুই বুঝতে পারছি না। পুলিশ বলছে, ইয়াবাসেবী দুজন নাকি একে একে চারজনকে হত্যা করেছে।’
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুর কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় মামলা করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। পরে আগে আটক মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় পুলিশ।

Manual6 Ad Code

গোপীনাথ চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘পুলিশ যা বলছে, তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কম বয়সী দুই ছেলে চারজন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে না। তাদের শারীরিক অবস্থাও এমন নয় যে তারা চারজনকে হত্যার ক্ষমতা রাখে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন আছে।’

তিনি আরও বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির আলমারি ও ড্রয়ার খোলা এবং তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবি জানান তিনি।

গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা কানু দাস বলেন, ‘আমি বিভিন্ন এলাকায় কীর্তন করে বেড়াই। আমার ছেলে সহজ-সরল। পুলিশ রাতে বাড়িতে এসে ঘুম থেকে তাকে ডেকে আনতে বলে। আমি তাকে ঘুম থেকে তুলে পুলিশের সঙ্গে পাঠাই। পরে তাকে ধরে নিয়ে যায়। শুনেছি, আমার ছেলে কিছুটা নেশা করে। তাই বলে সে কাউকে খুন করবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

মুগ্ধ দাসের মা সেনা দাস বলেন, ‘ছেলেটা কিছু ছেলের পাল্লায় পড়ে নেশা করে। তবে মানুষ খুন করা তো সহজ নয়।’

তবে পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এর আগে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে দুই তরুণকে আটক করা হয়। তাদের একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুঁতবাগানে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তুঁতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও ঘটনাস্থলের আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে বসেই খুনিরা ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে রোববার ভোরে আটক করা হয়। পরে তারা হত্যায় জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। এ কারণে মামলায় তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’

Manual1 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code