মোজাফফরের ফোনের সূত্রে ৪৫ বছর পর মিলল জিয়া হত্যার নতুন তথ্য
মোজাফফরের ফোনের সূত্রে ৪৫ বছর পর মিলল জিয়া হত্যার নতুন তথ্য
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। হত্যাকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে তিনি জানান, এবার অনেক অমীমাংসিত রহস্যের সুরাহা হবে। আর এসব ঘটনায় তাদের পথ দেখাচ্ছে মোজাফফরের ফোন।
গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন।
ঐতিহাসিক বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তার কাছেই উপস্থিত ছিলেন মোজাফফর। ঘটনার পর ওই কক্ষে নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছু অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শুরু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে অনুসন্ধান চলছে। খোঁজা হচ্ছে ডিজিটাল এভিডেন্সও। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে নতুন কিছু তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ প্রসিকিউটর।
Manual7 Ad Code
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুটা নিয়ে কিন্তু এখনো অনেক রহস্য রয়েছে। সে রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে মোজাফফর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কারণ, তার সঙ্গে দেশের ভেতর এবং দেশের বাইরের বেশ কিছু লোকের যোগাযোগ আমরা পেয়েছি। তারা আসলে কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কি না, কেনইবা এতদিন পর মোজাফফরের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন এবং কীভাবে মোজাফফর বাংলাদেশে প্রবেশ করল, কোন কারণে তিনি প্রবেশ করেছেন, কার পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি থেকেছেন, কার ছত্রচ্ছায়ায় তিনি ব্যাংকে বিভিন্ন লেনদেন করেছেন সবকিছুই আমরা তদন্তের আওতায় আনছি।
Manual4 Ad Code
জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর সেনানিবাসে ফিরে আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে দৃশ্যমান উচ্ছ্বাস ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন মেজর জেনারেল মঞ্জুর। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত কে দিয়েছিল, সে প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর আরও বলেন, কেন তৎকালীন প্রশাসক তাকে সেনা হেফাজতে নিয়েছিলেন, কোন আইনের বলে যেহেতু এটা একটি সিভিল হত্যাকাণ্ড, সিভিল এলাকায় মৃত্যু সংঘটিত হয়েছে পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে কারা নিয়ে গেল এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুর খবর সেখানে কীভাবে নিশ্চিত করা হলো, তার পোস্টমর্টেম কে করেছিলেন এবং সেখানে যে গুলি করা হয়েছিল, সেই তথ্য থাকলেও কমিশন তা নির্ণয় করতে পারেনি। আসলে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিল এবং মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, সে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত।
তিনি বলেন, তবে আশা করি, সেই সময়কার জীবিত যেসব সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন অথবা তার ইমিডিয়েট জুনিয়ররা যারা রয়েছেন, সেই সঙ্গে গোয়েন্দা ও অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে রিপোর্টগুলো রয়েছে সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা হয়তো এই মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা বের করতে পারব। এই ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা কী চেয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রেসিডেন্টের পক্ষে একটি সিক্রেট পেপার তারা খোঁজার চেষ্টা করেছিল এ মর্মে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। সেই সিক্রেট পেপারটি আসলে কী এবং তাকে হত্যা করার পর সে বিষয়টি নিয়ে কেন তাদের এত আগ্রহ ছিল, সেটিও আমরা তদন্ত করছি।
Manual1 Ad Code
হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির এবং ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই প্রসিকিউটর।