প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মরুর শহরে বাংলাদেশিদের গোপন সম্পদের পাহাড়

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৫, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
মরুর শহরে বাংলাদেশিদের গোপন সম্পদের পাহাড়

Manual3 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

দুবাইয়ের ব্যস্ততম এলাকা থেকে শুরু করে শান্ত মরুভূমির প্রান্তর—এই ঝকমকে শহরটি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি ধনীদের ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে ভীষণ প্রিয়।

শহরটির দ্রুত বর্ধনশীল আবাসন খাত বাংলাদেশিদের জন্য সম্পদ গচ্ছিত রাখার আকর্ষণীয় জায়গা। এর বড় কারণ হলো—সুউচ্চ ভবন ও পর্যটনের জন্য খ্যাত দুবাইয়ে নগদ অর্থ দিয়ে সম্পত্তি কেনা যায়। এমনকি শীর্ষস্থানীয় আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোও নগদ অর্থে সম্পত্তি বিক্রি করে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বারবারই দুবাইকে হুন্ডি লেনদেনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। বিশাল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক ও বাংলাদেশিদের সেখানে অবস্থান করা এর অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া, দুবাইয়ে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ডলার বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি অর্থ দেশটির সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করলে ‘গোল্ডেন ভিসা’ দেয় দুবাই।

দুবাইয়ের ভূমি বিভাগের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট খাতে ২০ লাখ আরব আমিরাত দিরহাম বা তার বেশি মূল্যের সম্পত্তি ক্রয়ে বিনিয়োগকারীদের ১০ বছরের নবায়নযোগ্য রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ দেয় এই সেবা (গোল্ডেন ভিসা)। স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান ও পিতামাতাকেও এই ভিসায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। যদি সম্পত্তিটি বন্ধক থাকে, তাহলে ২০ লাখ দিরহাম পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকের একটি চিঠি জমা দিতে হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্যাক্স অবজারভেটরির ২০২১ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী, দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন অফশোর সম্পত্তির মূল্য ২৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে সিঙ্গাপুরের পর দুবাই হচ্ছে বাংলাদেশি ধনীদের পছন্দের গন্তব্য।

 

আ. লীগ শাসনামলে বছরে পাচার হয়েছে ১৪ বিলিয়ন ডলার

তবে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের (সিফোরএডিএস) সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগের এই পরিমাণ অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ দুবাই ভূমি বিভাগের ২০২০ ও ২০২২ সালের রেকর্ড ও কিছু ইউটিলিটি কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি ডেটাসেট তৈরি করে। এই ডেটাসেটটি ২০২৪ সালের শুরুর দিকে অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের ‘দুবাই আনলকড’ শীর্ষক বৈশ্বিক তদন্তে ব্যবহার করা হয়। তবে, সেখানে বাংলাদেশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

ডেটাবেস পর্যালোচনা করে দেখেছে, ৪৬১ বাংলাদেশির নামে দুবাইয়ে ৯২৯টি সম্পত্তি নিবন্ধিত রয়েছে।

এসব সম্পত্তির মধ্যে ২৫৯টি রাজনীতিবিদ, বড় ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের নামে নিবন্ধিত।

এই ৪৬১ জনের নাম ও তাদের সম্পত্তির সংখ্যা ২০২০ ও ২০২২ সালের ডেটা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা সংগ্রহ করেছে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ। এসব সম্পত্তির মালিকরা এর মধ্যে কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে থাকতে পারেন বা নতুন আরও সম্পত্তি কিনে থাকতে পারেন।

 

ভূমি রেকর্ড ব্যবহার করে ৯২৯টি সম্পত্তির মধ্যে ২৭১টির মূল্য বিশ্লেষণ করেছে, যেগুলোর মূল্য সহজে পাওয়া যায়। এই ২৭১টি সম্পত্তির মূল্য অনুযায়ী মোট ৯২৯টি সম্পত্তির মূল্য প্রাক্কলন করে দেখা গেছে যে, দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন সম্পত্তির মোট মূল্য ৪০ কোটি ডলার বা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

 

১৯ জনের বিস্তারিত তথ্য

দুবাইয়ের ভূমি বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে সরাসরি সম্পত্তি কর ও সেবা চার্জ সম্পর্কিত নথি সংগ্রহ করা গেছে, এমন ১৯ জনের তালিকা তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ১৯ জন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ৮২টি সম্পত্তির কর, সেবা চার্জ ও অন্যান্য নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

Manual2 Ad Code

‘দুবাই আনলকড’ প্রজেক্টের জন্য ওসিসিআরপি যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, সেই একই পদ্ধতিতে ব্যবহার করে এসব সম্পত্তির মালিকানা যাচাই করেছে।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের ডেটাবেসে অ্যাক্সেস পাওয়ার পাঁচ মাস পর—২০২৪ সালের ডিসেম্বরে—এই ১৯ জন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে ৮২টি সম্পত্তি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়েছে। একটি সম্পত্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

এই ১৯ জনের মধ্যে অন্যতম—

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ
ঢাকা-১০ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল
ঢাকা-১০ আসনের সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য মোসাদ্দেক আলী ফালু
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের স্ত্রী জিসান মির্জা
ব্যবসায়ী নাফিজ সরাফাত
ব্যবসায়ী সায়েম সোবহান আনভীর ও তার ভাই সাফওয়ান সোবহান তাসবীর
ওরিয়ন গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ ওবায়দুল করিম
পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এমএ হাশেমের দুই ছেলে আজিজ আল কাইসার ও আজিজ আল মাসুদ

এ ছাড়া, তালিকায় রয়েছেন শাহাব সাত্তার ও তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরী, যারা বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের মালিক বা প্রধান ছিলেন।

Manual4 Ad Code

নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শাহাব সাত্তার ও তাসবীরুল আহমেদ চৌধুরীর কাছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ৭৮৫ কোটি টাকা পাওনা।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশের কঠোর মুদ্রা নীতি অনুযায়ী, দেশ থেকে মূলধন স্থানান্তর নিষিদ্ধ। তবে, যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব বা বৈদেশিক আয় আছে, তারা বৈধভাবে বিশ্বের যেকোনো স্থানে সম্পত্তি কিনতে পারেন এবং অবশ্যই সেটা আয়কর নথিতে ঘোষণা করতে হবে।

পাঁচ মাস ধরে চলা আমাদের তদন্তে দেখা গেছে, এই ব্যাক্তিদের কেউ কেউ বর্তমানে বা পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। তাদের কেউ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন, আবার কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। গত নভেম্বরে এমন অন্তত তিনজন আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন, যাদের সম্পত্তি রয়েছে দুবাইয়ে।

অনেকের নামে শত শত কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ না করা ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের মামলা রয়েছে। আবার অনেকের কোম্পানির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলমান।

দুবাই ভূমি বিভাগের সরকারি রেকর্ড এবং সম্পত্তির প্রতি বর্গফুটের গড় মূল্যের ভিত্তিতে প্রাক্কলন করা হয়েছে যে, এই ১৯ জনের মালিকানাধীন ৮২টি সম্পত্তির মোট মূল্য প্রায় ২৯ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

কিছু ক্ষেত্রে এসব সম্পত্তি পরিবারের সদস্য বা অন্যান্য একাধিক সুবিধাভোগীর নামে রয়েছে। কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নাম এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হচ্ছে না, কারণ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

২০২৪ সালের নভেম্বরে ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে, বাকি একজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন আমাদের প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। তাদের কেউ দাবি করেছে, বিদেশে আয় থেকে বৈধভাবে এসব সম্পত্তি কিনেছেন, আবার কেউ তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

গোল্ডেন ভিসা ও লেয়ারিং: সম্পত্তি কেনার কৌশল

এসব সম্পত্তির মধ্যে অনেকগুলো গোল্ডেন ভিসা ব্যবহার করে লেয়ারিং পদ্ধতিতে কেনা হয়েছে।

যেমন: বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের ফ্ল্যাটটি তার যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি ওয়ার্ল্ডএরা করপোরেশন এফজেডইর নামে কেনা হয়েছে। কোম্পানিটিতে তিনি পরিচালক হিসেবে রয়েছেন। কোম্পানিটির নথিতে আনভীরকে স্লোভাকিয়ার নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্লোভাকিয়ার গোল্ডেন পাসপোর্টকে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল বলে মনে করা হয়। এর জন্য অন্তত ১০০ মিলিয়ন ইউরো বা প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে হয়।

সায়েম সোবহানের ভাই সাফওয়ান সোবহানের ঠিকানা দুবাইয়ের কর্নিশ ১ স্ট্রিটে এমিরেটস হিল থার্ড এলাকায়। তবে, দুবাই ভূমি বিভাগ থেকে এই বাড়িটির মালিকানার তথ্য যাচাই করা যায়নি। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী তিনি বাংলাদেশ নয়, সাইপ্রাসের নাগরিক।

আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, একটি কর্মসূচির অধীনে সাইপ্রাস ধনী বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেয়। এর জন্য প্রায় ২০ লাখ ইউরো বা প্রায় ২৫ লাখ ডলার সাইপ্রাসের রিয়েল এস্টেটে এবং আরও ২ লাখ ইউরো সাইপ্রাস সরকারের গবেষণা ও ভূমি উন্নয়ন তহবিলে বিনিয়োগ করতে হয়।

ওরিয়ন গ্রুপের ওবায়দুল করিমও দুবাইয়ে সম্পত্তি কিনতে একই পথ অনুসরণ করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়। তার নামে দুবাইয়ে যেসব সম্পত্তি নিবন্ধিত রয়েছে, তার কোনোটিই বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে কেনা হয়নি।

 

Manual2 Ad Code

দুবাইয়ের একটি হোটেলের রেজিস্ট্রেশন নথিতে তাকে আলবেনিয়ার নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই হোটেলে তার মালিকানা রয়েছে। আলবেনিয়ার করপোরেট রেজিস্ট্রির রেকর্ডে তার মালিকানাধীন একটি কোম্পানি অ্যাগ্রি প্রোডাক্টস ইউরোপের উল্লেখ রয়েছে, যা ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিমের মাধ্যমে নাগরিকত্ব দিয়েছে আলবেনিয়া।

বাহরাইনের করপোরেট রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ওরিয়ন ফার্মা বাহরাইনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ছিল ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের। এই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে ওবায়দুল করিম ও তার ছেলে ছিলেন। তবে সেখানে তার ছেলেকে বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ওবায়দুল করিমকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কোম্পানিটি ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।

দুবাইয়ের কোম্পানি রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল করিমের মেয়ে জারিন করিম সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি জেশা জেনারেল ট্রেডিং এলএলসির মালিক, যেখানে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাকে ডোমিনিকান নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

দুবাইয়ে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের অন্তত ৩৭টি সম্পত্তি রয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা। দুবাইয়ে কোনো বাংলাদেশির নামে নিবন্ধিত সর্বোচ্চ সংখ্যক সম্পত্তি তার নামে। এর মধ্যে অন্তত ১০টি সম্পত্তি তিনি কিনেছেন নিজেকে আমেরিকান সামোয়ার নাগরিক দেখিয়ে। আমেরিকান সামোয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঞ্চল, যা দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সাতটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।

তথ্য অনুযায়ী, তার নামে থাকা প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের আরও ১৬টি সম্পত্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাতবদল হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ২০২৪ সালে, নয়টি ২০২৩ সালে, একটি ২০২২ সালে এবং দুটি ২০২১ সালে বিক্রি হয়েছে।

২০২৪ সাল পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ৭০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ৩৭টি সম্পত্তি রয়েছে তার নামে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার মালিকানাধীন অন্তত ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ১৬টি সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে।

 

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের ডেটাবেস অনুযায়ী, এই নামে আরও অন্তত ২৪টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু, রেকর্ডে পাসপোর্ট নম্বর ও জন্ম তারিখের মতো অন্য কোনো বিবরণ না থাকায় এটি নিশ্চিত নয় যে, সম্পত্তিগুলো তারই।

তার ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির নামে পাম জুমেইরার গোল্ডেন মাইল ৪-এ দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকা।

 

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ও তার পরিবারের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, ঢাকার একটি আদালত তার ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানের সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে।

 

 

 

 

গত ৫ নভেম্বর তার সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করা হয় এবং গত ১৪ নভেম্বর আদালত থেকে খালাস পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের গুলশান অফিসে তিনি কথা বলেন। তিনি নিশ্চিত করেন, এই সম্পত্তিগুলো বৈধ বৈদেশিক আয় থেকে কিনেছেন।

সাম্প্রতিক তিনি চারটি সম্পত্তি বিক্রি করেছেন—ওয়েস্ট হাইটস ২-এর দুই বেডরুমের ফ্ল্যাট, কেম্পিনস্কিতে এক বেডরুমের ফ্ল্যাট, হারবার ভিউসের ৩৪ তলার তিন বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট এবং টু টাওয়ার্সের পেন্টহাউস অ্যাপার্টমেন্ট।

তিনি বলেন, ‘এগুলো বৈধ বৈদেশিক আয় দিয়ে কেনা হয়েছে। ব্যবসায়ীক সফলতার সুবাদেই আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছি। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে দুবাইয়ে আমার কয়েকজন বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে মিলে তিনটি নির্মাণ সামগ্রীর ট্রেডিং কোম্পানি শুরু করেছিলাম। সেগুলো এখনও সফলভাবে চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুদকের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আদালত তাদের তদন্তে সন্তুষ্ট হয়নি।’

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code