ডিজিটাল ডেস্ক :
ইসলামের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থাপনা কাবা শরিফের বার্ষিক ঐতিহ্যবাহী ধৌতকরণ অনুষ্ঠান (গুসলুল কাবা) ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ফজরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে এ আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামিক ইনফরমেশনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
Manual4 Ad Code
দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ-এর পক্ষে কাবা শরিফ ধৌত করার এ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল বিন আবদুল আজিজ। প্রতিবছরের মতো এবারও নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা ও সুগন্ধি সামগ্রী ব্যবহার করে কাবা শরিফের অভ্যন্তর পরিষ্কার ও সুগন্ধিমণ্ডিত করা হয়।
প্রথম ধাপ: প্রস্তুতি
প্রাথমিক পর্যায়ে ধৌতকরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কাবার কিসওয়া রক্ষায় দরজার পর্দার নিচের অংশ সাময়িকভাবে উত্তোলন করা হয়। এ ধাপে প্রায় ২০ লিটার জমজম পানি এবং ৮০ মিলিলিটার বিশেষ উদ তেল ব্যবহার করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপ: ধৌতকরণ
কাবার দেওয়াল, স্তম্ভ ও মেঝে জমজম পানি ও তায়েফের গোলাপজলে ভেজানো বিশেষ কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। এতে ব্যবহৃত হয়-
Manual4 Ad Code
১.৫৪০ মিলিলিটার গোলাপজল
২.১১ লিটার বিশেষ সুগন্ধি
৩. ৩ মিলিলিটার মৃগনাভি (মাস্ক)
Manual6 Ad Code
তৃতীয় ধাপ: সুগন্ধিকরণ
শেষ ধাপে কাবার অভ্যন্তরভাগ আতর ও বখুর ধূপ দিয়ে সুরভিত করা হয়। এতে ব্যবহার করা হয়-
ইসলামের ইতিহাসে কাবা শরিফ ধৌত করার এ ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুহাম্মদ (সা.) কাবা শরিফে প্রবেশ করে এর অভ্যন্তরে নামাজ আদায় করেছিলেন এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। সেই সুন্নাহর ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে কাবা শরিফের বার্ষিক গোসলের আয়োজন করে আসছে।
বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে এই বার্ষিক গোসল অনুষ্ঠান গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য বহন করে। এটি কাবা শরিফের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান, পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা রক্ষার এক অনন্য ঐতিহ্যের প্রতীক।