প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে উভয়সংকটে ইসি

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩, ২০২৫, ১২:৪২ অপরাহ্ণ
নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে উভয়সংকটে ইসি

Manual6 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

 

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কাল নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কারণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী ২০২৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন করার ঘোষণা করলেও তা মানতে রাজি নয় দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ বেশ কিছু দল।

দলটির দাবি, ডিসেম্বরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হোক জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সে বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তারা নানামুখী চাপেও রেখেছেন।

Manual7 Ad Code

অন্যদিকে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের দাবি, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আগে এই কমিশনের নির্বাচন আয়োজন মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে পুরোনো ব্যবস্থায় নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নেতারা। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন সংস্কারের কথাও বলেছেন তারা। গত ২০ এপ্রিল রবিবার ইসির সঙ্গে বৈঠকে সংস্কার নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার আগে ইসিকে সব ধরনের নির্বাচনি তৎপরতা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে এনসিপি।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন বিশ্লেষকরাও বলছেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে ইসিকে সরকারি রোডম্যাপের ওপর নির্ভর করতে হবে, এটাই বাস্তবতা। তবে তাদের উচিত নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া। এ বিষয়ে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল আহমেদ মনে করেন, সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী ইসিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

সুজন সম্পাদক ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, সরকার এবং ইসির মধ্যে সমন্বয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

Manual4 Ad Code

একই কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আবদুল আলীম বলেন, অযথা বিতর্কে না জড়িয়ে ইসির অপেক্ষা করা উচিত।

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি- এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আমরা চাই, আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে বলে আশা করছি।’

একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্রুত সময়ে নির্বাচনের তাগিদ। অন্যদিকে সরকারপ্রধানের এমন ঘোষণার পর সংসদ নির্বাচনের পথে সময় ডিসেম্বরকে মাথায় রেখে অগ্রাধিকারমূলক সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সে লক্ষ্যে নির্বাচনি রোডম্যাপের আদলে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়ে খসড়া তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “ভোটের প্রাথমিক কাজ শেষ করে জুন-জুলাইয়ে ‘কর্মপরিকল্পনা বা অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করা হবে ইন্‌শাআল্লাহ।”

এদিকে নির্বাচন নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা না থাকা এবং ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের আগেই সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসির এমন তৎপরতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির নেতারা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে নতুন এই রাজনৈতিক দলটি। গত রবিবার দল নিবন্ধনের সময়সীমা ৯০ দিন বাড়ানোসহ জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠক করে এনসিপির ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে ইসির নির্বাচনি কর্মতৎপরতার সমালোচনা করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘সরকারি রোডম্যাপ ঘোষণার আগেই নির্বাচন নিয়ে ইসির তৎপরতা সন্দেহজনক। আর ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে এই কমিশন (ইসি) থাকবে, না পুনর্গঠন হবে।’

Manual8 Ad Code

ইসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এনসিপির এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। যোগাযোগ করা হলেও ইসির পক্ষ থেকে গতকাল এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও দেশের চলমান পরিস্থিতিতে তারা নিজের ইচ্ছামতো নির্বাচন করতে পারবে না- এটাই বাস্তবতা। সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসির ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ আসবে এটাও স্বাভাবিক। তবে এবারের নির্বাচন কবে, কীভাবে হবে- সে সিদ্ধান্ত তারা নিজেরা নিতে পারবেন না। এসব বিষয়ে নির্বাচন আয়োজনকারী এই সংস্থাকে ঐকমত্য কমিশন থেকে চূড়ান্ত হওয়া সংস্কারের পরামর্শ এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

Manual8 Ad Code

তবে আগের মতো সংসদ ও সংবিধান বহাল থাকলে ইসিকে নির্বাচন আয়োজনের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হতো না।

তিনি বলেন, ‘চলমান প্রেক্ষাপটে ইসির উচিত হবে এ ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে কথা বলা এবং নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি যতটা সম্ভব এগিয়ে নেওয়া। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে আইনগত কিছু সংস্কারের সুপারিশ রয়েছে সংস্কার কমিশনের। এই নির্বাচনের আগেই সেগুলো বাস্তবায়ন হবে কি না, আর হলেও তা কীভাবে সম্ভব, সেসব বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ দেশের ভেঙে পড়া নির্বাচনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো আসছে। সেসব পরামর্শ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন না করে আগের পদ্ধতিতেই নির্বাচন হলে- আগামী সংসদ নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য ও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। কাজেই আমি মনে করি নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে হবে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো তো নিজ নিজ অবস্থান থেকে নির্বাচনের দাবি করবেই। দলগুলো হলো রাজনৈতিক শক্তি আর সরকার হলো নীতিনির্ধারক। সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের। আমি মনে করি, নির্বাচন নিয়ে সরকার ও ইসির মধ্যে সমন্বয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’

সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশ্লেষক ড. আব্দুল আলীমের মতে, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান- এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এবারের বাস্তবতা ভিন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক সংস্কারের প্রস্তাব এসেছে। জাতির প্রত্যাশিত এসব সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের উচিত ইসির সঙ্গে সমন্বয় রাখা, যেটা আমরা দেখছি না। দল নিবন্ধনের বিষয়ে আমরা বেশ কিছু সুপারিশ দিয়েছি। সেগুলো বাস্তবায়ন না হলে তো এর প্রায়োগিক ফল পাওয়া যাবে না। সরকারের উচিত ইসিকে এমন বার্তা দেওয়া যে, ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্তে ন্যূনতম যে কটি বিষয়ে সংস্কারের সিদ্ধান্ত আসবে সেগুলো বাস্তবায়নের পর আপনারা নির্বাচন আয়োজনের কাজ শুরু করুন। নির্বাচন কমিশনের উচিত অযথা বিতর্কে না জড়িয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা।’

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪৫
৭৮৯১০১১১১৩
৪১৫১৬১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৯৩০  

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code