রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, ১ বছরে এলো ৩০ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, ১ বছরে এলো ৩০ বিলিয়ন ডলার
editor
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২৫, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষ হতে এখনো প্রায় ১২ দিন বাকি থাকলেও এরই মধ্যে বাংলাদেশ প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্সে এক নতুন মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এখন পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯.৩৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭.৩ শতাংশ বেশি। চলতি জুন মাসের প্রথম ১৮ দিনেই এসেছে ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই এই অঙ্ক ৩০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে যাবে।
Manual5 Ad Code
রোজ ১০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, জুন মাসের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ১.৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।
অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের মতো রেমিট্যান্স এসেছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি জুনের প্রথম দিকেই রেমিট্যান্স-প্রবাহ অত্যন্ত ইতিবাচক। এই ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে মার্চের মতোই তিন বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’
Manual8 Ad Code
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণ কী?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারের রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রণোদনা হার বাড়ানো এবং বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর সুবিধা বৃদ্ধি এই প্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে।
অন্যদিকে হুন্ডিচক্রের ওপর কঠোর নজরদারি এবং ব্যাংকিং খাতে নজরদারিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও একটি বড় প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব নিয়ে শঙ্কা : তবে আশঙ্কার একটি দিকও রয়েছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি যদি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে রেমিট্যান্স-প্রবাহ ব্যাহত হতে পারে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করেছে।
যদিও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ইরান ও ইসরায়েলে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা খুবই কম। সে ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব কমই থাকবে। তবে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা অন্য উপসাগরীয় দেশে প্রভাব ফেলতে পারে।
Manual5 Ad Code
Manual3 Ad Code
অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা : বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত প্রবাস আয় এমন এক সময়ে বাড়ছে, যখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে রয়েছে, বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ রয়েছে এবং ডলার সংকট বিদ্যমান। এই প্রবাহ সামষ্টিক অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও স্থিতিশীল রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সার্বিকভাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁয়ে যাবে এবং তা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই সাফল্য বিদেশে অবস্থানরত কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির শ্রম, প্রেরণা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসারই প্রমাণ।