প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পুড়ে যাওয়া বস্তিজুড়ে গরিবের হাহাকার

editor
প্রকাশিত নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ০৫:২৯ অপরাহ্ণ
পুড়ে যাওয়া বস্তিজুড়ে গরিবের হাহাকার

Manual8 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

আগুনে পোড়া কড়াইল বস্তিজুড়ে এখন শুধুই হাহাকার। এই হাহাকার সর্বস্ব হারানোর, নিঃস্ব হয়ে যাওয়ার। শত না থাকার মাঝেও গত মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত যাদের সব ছিল এখন তাদের সম্বল শুধু বিশাল আকাশ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর সামনে পড়ে থাকা পোড়া ধ্বংসস্তূপ। কড়াইল বস্তির চারিদিকে ধ্বংসস্তূপের মাঝে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ঘরের টিনগুলো যেন বহন করছে বিভীষিকাময় একটি রাতের ক্ষতচিহ্ন। বিশাল বস্তিজুড়ে হাজারো মানুষ সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই খুঁজে ফিরছেন হারানো সম্পদ। যদি কিছু বেঁচে থাকে। কেউ বা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে। সব হারিয়ে কেউ বা করছেন বিলাপ, কেউ বা খুঁজছেন নতুন আশ্রয় আবার কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন গ্রামে ফেরার। চোখের সামনে জ্বলতে দেখেছেন তিলে তিলে মমতায় গড়ে তোলা সংসার। এ যেন কিছুতেই মানতে পারছেন না তারা। এরকম অসংখ্য খণ্ড খণ্ড মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ছিল কড়াইল বস্তিজুড়ে। কিন্তু তারপরও অদম্য সাহসী এই খেটে খাওয়া মানুষরা সাহস সঞ্চয় করছেন ঘুরে দাঁড়ানোর। সাময়িকভাবে একটু আশ্রয় আর খাবারের ব্যবস্থার জন্য তারা তাকিয়ে আছেন সরকার, রাজনৈতিক দল আর সমাজসেবামূলক সংগঠনগুলোর দিকে।

সরেজমিন কড়াইল বস্তি ঘুরে দেখা যায় এসব চিত্র। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এলেও বস্তির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা গতকালও এরপর ছিলেন সতর্ক অবস্থানে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা থাকা ধোঁয়া বা ছাইয়ের স্তূপ থেকে যাতে নতুন করে কোনো অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের দেখভাল করেন ডেসকোর (ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষগুলোর এখন শুধু একটাই চাওয়া নিরাপদে বাচ্চাদের নিয়ে একটু ঘুমানোর জায়গা। গত মঙ্গলবার সারা রাত সবাই ধ্বংসস্তূপের পাশে বসেই রাত কাটিয়েছেন। বাচ্চাগুলো সারা রাত কেঁপেছে ঠান্ডায়। সে সঙ্গে খাবার আর পানির সমস্যা তো ছিলই। নগদ অর্থ না থাকায় অনেকের পক্ষে খাবার কিনে খাওয়াও সম্ভব হয়নি। তবে মধ্যরাতে বস্তিবাসীর মাঝে খাবার বিতরণ করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।

Manual2 Ad Code

জমানো টাকা পুড়ে ছাই : বস্তির বাসিন্দা সেলিম মন্ডল। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালান। স্বপ্ন ছিল নিজের একটা রিকশা কেনার। তারপর পরিবারকে নিয়ে আসবেন ঢাকায়। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে থাকবেন একসঙ্গে। গত ৯ মাস ধরে জমিয়েছিলেন ৪৫ হাজার টাকা। বিকালে যখন আগুন লাগে তখন বনানীতে রিকশা চালাচ্ছিলেন। পাশের ঘরের বাসিন্দার কাছে জানতে পারেন আগুন লাগার খবর। সবার প্রথমেই তার চিন্তায় আসে জমানো টাকার কথা। দ্রুত চলে আসেন বস্তিতে। কিন্তু নিরাপত্তার জন্য ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তাকে। ভোরের দিকে যেতে পারেন বস্তির ভেতরে। কিন্তু নিজের ঘরটি চিনতে বেগ পেতে হয় তাকে।

জানালেন, নিজের ঘরটাই চিনতে পারিনি প্রথমে। সব ঘর পুড়ে এক হয়ে গেছে। তারপরও যখন খুঁজে পাই ভেতরে দেখি কিছুই নাই। সব কয়লা আর ছাই। টাকাগুলো রেখেছিলেন প্লাস্টিকের একটা বক্সে। আগুনে বক্সটির সঙ্গে পুড়েছে ভেতরে রাখা টাকাও। কড়াইল বস্তিতে ঘুরে এরকম অনেককেই দেখা গেছে ঘরে রাখা তাদের সঞ্চিত অর্থ বা মূল্যবান জিনিসের খোঁজ করতে। তবে সবাইকেই হতাশ হতে হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই কয়েকজনকে পাওয়া যায়, যারা আগুন লাগার পরপরই স্বর্ণ কিংবা সঞ্চিত অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বের হয়ে আসতে পেরেছিলেন। তাদেরই একজন মনির হোসেন। কাজ করেন বারিধারায় একটি স্থপতি প্রতিষ্ঠানে।
মনির বলেন, আগুন লাগার সময় তার স্ত্রী বাসায় ছিলেন। আগুন তাদের ঘরের কাছে আসার আগেই তার স্ত্রী ঘরে থাকা নগদ কিছু অর্থ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় কিছু কাগজ নিয়ে বের হতে পেরেছেন।

কিস্তির টাকা নিয়ে চিন্তা : কড়াইল বস্তিতে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বস্তির অনেকেই টিভি, ফ্রিজ কিংবা সংসারের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থাগুলো থেকে ঋণ নেন। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন সব হারানো দুঃখ-কষ্টে তারা ভেঙে পড়েছেন অন্যদিকে ঋণের অর্থ কীভাবে ফেরত দেবেন সেই চিন্তুা যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দেখা দিয়েছে তাদের কাছে।

বস্তির বাসিন্দা মাসুদ হাসান বলেন, চার মাস আগে একটা এনজিও থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি ফ্রিজ কিনি। প্রতি মাসে দুই হাজার টাকা পরিশোধ করতাম। এখনও সুদ বাদেই ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। সংসারের সব কিছু শেষ। ঋণে কেনা ফ্রিজটাও আগুনে পুড়ে গেছে। কীভাবে সংসারের সব কিছু আবার কিনব, কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব তা জানি না। জানালেন তার মতো অনেকেই স্থানীয় ঋণদানকারী বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে প্রয়োজন মেটান। মাসুদের পাশেই বসে ছিলেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান। রাতে কিছু খেয়েছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, হাতে নগদ কোনো টাকা নেই যে কিছু কিনে খাব। রাতে কারা যেন খিচুড়ি বিতরণ করেছিল। সেখান থেকে ৫ প্যাকেট খিচুড়ি এনে সবাই মিলে খেয়েছি। জানালেন, মহাখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। কিন্তু সব পুড়ে যাওয়ায় আবার নতুন করে সব গড়তে অনেক সময় লাগবে। পরিবারের সবাইকে হয়তো অপাতত গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে।

 

রাতযাপনই বড় চিন্তা : আগুনে বস্তির দেড় সহস্রাধিক ঘর পুড়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। কমপক্ষে ১০ সহস্রাধিক মানুষ এখন সেখানে অবস্থান করছেন। আগুন লাগার পর গত মঙ্গলবার নারী-শিশুসহ সবাই এই শীতের রাতে ছিলেন খোলা আকাশের নিচে। এরই মধ্যে কেউ কেউ বিকল্প আশ্রয়ের খোঁজ করছেন। মিলন শেখ গত ৬ বছর ধরে তার চার সদস্যের পরিবার নিয়ে থাকতেন এই বস্তিতে। স্ত্রীসহ কাজ করেন একটি পোশাক কারখানায়। আগুন লাগার সময় বাসায় ছিলেন তার মা ও দুই সন্তান। তারা সবাই নিরাপদে সরে যেতে পারলেও আগুন থেকে কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। জানালেন, গত মঙ্গলবার অন্য সবার সঙ্গে তারাও এই বস্তিতেই খোলা আকাশের নিচেই রাত কাটিয়েছেন। শীতে দুই ছোট সন্তান খুব কষ্ট পেয়েছে। আজ কীভাবে থাকবেন, কী খাবেন সবই অনিশ্চিত। ঢাকায় কোনো আত্মীয়স্বজন নেই যে তাদের বাসায় আশ্রয় নেবেন। তাই আশপাশে খোঁজ করছেন কম টাকায় কোথাও ভাড়া পাওয়া যায় কি না। মিলন শেখের মতো একই অবস্থা বস্তির সবারই। কীভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাত কাটাবেন সেই চিন্তা তাদের অস্থির করে তুলেছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একমাত্র স্কুলটিও : আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কড়াইল বস্তিতে অবস্থিত একমাত্র স্কুলটিও। আগুনে ‘মায়ের দোয়া বিদ্যানিকেতন ও হাই স্কুল’ নামে তিন তলা স্কুল ভবনটি তৃতীয় তলায় ফাটল ধরেছে। ফলে তা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন জানান, স্কুলটি বেসরকারিভাবে নির্মিত। এখানে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। বস্তির ছেলেমেয়েদের একটি বড় অংশ স্কুলটির শিক্ষার্থী। আগুনে স্কুল ভবনের তৃতীয় তলার একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় তা ভেঙে ফেলা হবে। তাই আপাতত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এ ছাড়া বস্তির শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ শিক্ষা সরঞ্জামও সব পুড়ে গেছে। করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।

আগুনের সূত্রপাত যেভাবে : কড়াইল বস্তিতে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কিছু জানাতে পারেননি। তবে বস্তির কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় গুদারাঘাটের কবরস্থান রোডের জনৈক মিন্টু মিয়ার বাড়ি থেকে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে মিন্টু মিয়ার স্ত্রীও নিখোঁজ আছেন বলে জানান তার মেয়ে শিউলি আখতার।
তিনি জানান, এখানে তাদের ২০টি ঘর ছিল। দুটিতে তারা থাকতেন। বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া ছিল। বিকালে তার মা বাসায় ছিলেন। হঠাৎ তিনি আগুন দেখতে পান। পরে বাসায় থাকা ছোট দুই ভাগনিকে বোনের হাতে দিয়ে দ্রুত বের হতে বলেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে তিনি আবারও ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর থেকেই তার খোঁজ পাচ্ছি না।
স্থানীয় মুদি দোকানদার শরিফ বলেন, বিকালে দিকে তিনি মিন্টু মিয়ার বাসায় আগুন দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে বাসার লোকজন বালতি দিয়ে পানি ছিটাতে শুরু করেন। কিন্তু মুহূর্তেই আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

তদন্ত কমিটি : অন্যদিকে কড়াইল বস্তির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পক্ষ থেকে। অধিদফতরের উপপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) মো. মামুনুর রশিদকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধিদফতরের ঢাকা জোন-২-এর উপসহকারী পরিচালক অতীশ চাকমা, তেজগাঁও স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন, ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. সোহরাব হোসেন এবং কমিটির সদস্য সচিব সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান।

কড়াইল বস্তির মালিকানা কার : কড়াইল বস্তির বিশাল জায়গাটি সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের। কিন্তু মামলাসংক্রান্ত কারণে কখনোই তারা জায়গাটি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেনি। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব গতকাল তার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, কড়াইল বস্তির প্রায় ৪৩ একর জায়গা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কখনোই এই জায়গা বুঝে পায়নি। অতীতে জায়গাটির মালিকানা ছিল টিএন্ডটি (বর্তমান বিটিসিএল)। এখানে আদালতের মামলা রয়েছে, মামলা নিষ্পত্তি হয়নি বলে আইসিটি সেখানে এমনই দখলে যাওয়ার চেষ্টাও করেনি।
দখল সূত্রে এই বস্তির বিভিন্ন অংশ দখল করে সেখানে নিজেদের মতো করে ঘর তুলে নিম্নবিত্তদের কাছে আড়াই হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় ঘর ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

তাদেরই একজন মো. গিয়াস উদ্দিন। পেশায় গাড়িচালক। কাজ করেন বনানী এলাকায়। কড়াইল বস্তিতে তার ছিল ১১টি ঘর। গত মঙ্গলবারের আগুনে সেগুলো পুড়ে গেছে।
গিয়াস উদ্দিন জানান, ১৯৯৯ সাল থেকে দখলসূত্রে তিনি এক টুকরো জমি নেন। এরপর সেখানে টিনশেডের ১১টি ঘর ও একটি দোকান করেন। ঘরগুলো ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা করে ভাড়া দেওয়া ছিল। আর ফার্মেসির দোকানটি থেকে পেতেন ৪ হাজার ৫০০ টাকা। ঘরগুলোর মধ্যে নিজে থাকতেন দুটি রুমে। বাকিগুলো ভাড়া দেওয়া ছিল। ভাড়ার টাকা ও নিজের চাকরির আয় দিয়ে পরিবার নিয়ে ভালোই চলছিল তার। কিন্তু গত মঙ্গলবারের আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। গিয়াস উদ্দিন বলেন, এই ঘরগুলো আবারও তৈরি করতে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা লাগবে।

Manual8 Ad Code

এর আগেও দুবার বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনবার হলাম। প্রথমবার ২০০৪ সালে। দ্বিতীয়বার ২০১৭ সালে। আর এবার লাগল।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। একে একে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট গিয়ে পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ১৬ ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণ নেভানোর কথা জানায় সংস্থাটি। রাজধানীর গুলশান ও বনানী লাগোয়া প্রায় ৯০ একর জায়গায় গড়ে উঠেছে কড়াইল বস্তি।

Manual7 Ad Code

কড়াইল বস্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণের গুঞ্জন নিয়ে যা বলল সরকার : আগুনে পুড়ে যাওয়া রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণ করার যে গুঞ্জন চলছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, কড়াইল বস্তির জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বুধবার এক ফেসবুক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লিখেছেন, বিশেষভাবে হাজার হাজার মানুষ যখন আগুনে বিপর্যস্ত হয়ে নিরাপত্তাহীন অসহায় পরিস্থিতিতে রয়েছে, তখন হাইটেক পার্ক স্থাপনের আজগুবি বিষয় সামনে এনে সরকারকে বিব্রত করার এমন অপচেষ্টার নিন্দা জানাই। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এ ধরনের প্রস্তাবনা মৌখিক ও লিখিতভাবে দিয়ে আসছেন কেউ কেউ। সঙ্গত কারণেই সরকার এসব প্রস্তাবনা আমলে নেয়নি। বর্তমানে কড়াইল বস্তির জায়গায় যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের নেই।

রাজনৈতিক দলের ও ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা : বস্তির সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। কেউ রিকশা চালিয়ে সংসার চালান, কেউ বাসাবাড়িতে কাজ করে, কেউবা দিনমজুরের কাজ করেন। এ ছাড়া আগুনে বাসায় থাকা চাল-ডাল থেকে শুরু করে সবই পুড়ে গেছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খাদ্যাভাবে ভুগছে। এ অবস্থায় কিছুটা হলেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিরা।
বুধবার বস্তিতে ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থের পক্ষ থেকে খিচুড়ির প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে। পারটেক্স গ্রুপের পক্ষ থেকে খাবার পানি ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও খাবার বিতরণ করেন। সহকর্মীদের নিয়ে খিচুড়ি বিতরণ করেন ল্যান্ড মার্ক গ্রুপের সিইও বিএম সাইফুদ্দিন। এ ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে আরও অনেককে খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে। অসহায় বস্তিবাসীর এই খাবারই একমাত্র বেঁচে থাকার সম্বল।

দেখা যায়, ঢাকা-১৭ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের ব্যানারে পোড়া বস্তির দুই স্থানে মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। সেখানে বস্তির আহত বাসিন্দাদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন কয়েকজন চিকিৎসক। এ ছাড়া জরুরি ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদফতর, ব্র্যাক ও বেশ কয়েকটি এনজিও কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের তালিকা সংগ্রহ করেন।

Manual7 Ad Code

জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদফতরের একটি প্রকল্পের ফিল্ড কর্মী মোসাম্মদ রাবেয়া খাতুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত যেসব পরিবারে শিশু রয়েছে, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। অধিদফতরে চলমান প্রকল্প থেকে শিশুদের কিট বক্স, বয়স অনুযায়ী পোশাক, জুতা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code