আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। সরগরম হয়ে উঠেছে গ্রাম-শহর, পাড়া-মহল্লার আড্ডা চক্র। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রায় সবখানেই চলছে ভোট-রাজনীতির বিশ্লেষণ। এবার জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এখনো ইসি বা সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনি সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়নি। একই দিনে দুই ভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে ভোটারদের অবহিত করতে কার্যত কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। এগুলোর মধ্যে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুথি পাঠ, পালাগান, গম্ভীরা, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, ভাণ্ডারীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক গান প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, জনবহুল সমাগমস্থল, জেলা ও উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রান্তিক এলাকার পাশাপাশি বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব প্রচার চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট কী ও কেন? কীভাবে গণভোট দিতে হবে–তা জানাতে বিজ্ঞাপন, প্রামাণ্যচিত্র ও জিঙ্গেল তৈরির কথা বলা হলেও এই বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা ধারণা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলছে, গণভোট সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এবং কীভাবে গণভোটে সাধারণ ভোটাররা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে জানাতে ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Manual4 Ad Code
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, পিআইডি (তথ্য অধিদপ্তর) বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে জনগণকে নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে এসব প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকার শুধু নির্বাচনের প্রচার নিয়েই নয়, নির্বাচনে সাংবাদিকদের ভূমিকার বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেবে। সাংবাদিকরা যেহেতু মাঠপর্যায়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যোগাযোগ রাখবেন, তাই তাদের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে নির্বাচনি আচরণবিধি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা যায়, সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রিকশার (প্যাডেল/ব্যাটারিচালিত) মাধ্যমে সড়কপথে প্রচার মাইকিং করা হবে। এভাবে ইতোমধ্যে নির্বাচন ও গণভোটকেন্দ্রিক যেসব ‘কনটেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে, সেসব প্রচার করা হবে। এ ছাড়া এবার প্রবাসীদের ভোট দিতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পোস্টাল ভোটের আয়োজন থাকবে। এ জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে বৃহৎ পরিসরে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, এবার অনেক নতুন ভোটার যোগ হয়েছেন, যারা এবারই প্রথম ভোট দেবেন। তা ছাড়া প্রান্তিক পর্যায়ে নিরক্ষর, আধা শিক্ষিত এবং নারী ভোটারদের উৎসাহিত করা হবে। এবার নির্বাচনি প্রচারে সাধারণ ট্রাকের পাশাপাশি বড় আকারের ৪০টি ‘ক্যারাভান’ ট্রাক ব্যবহার করবে সরকার। তিনি বলেন, রিকশার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা প্রচার ছাড়াও সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে সড়ক প্রচারের অংশ হিসেবে অঞ্চলভেদে গান ও মাইকিং করা হবে।
Manual1 Ad Code
দায়িত্বশীলরা আরও জানান, একসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন ভোট ও গণভোটে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সারা দেশে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, তথ্যচিত্রের প্রচার ও ‘টিভিসি’ প্রচার করা হবে। এসব প্রচার জেলা মোট ৬৮০টি উদ্বুদ্ধকরণ চলচ্চিত্র, তথ্যচিত্র, টিভিসির মাধ্যমে প্রদর্শিত হবে।
পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি ও নির্বাচনি বিজ্ঞপ্তি প্রচারের জন্য গ্রাফিক্স, টেলপ, কার্ড তৈরি করা হবে। প্রতিদিন পিক ও অফপিক আওয়ারে সম্প্রচারের জন্য টিভিসি, টেলপ, শর্ট ফিল্ম, কাউন্টডাউন প্রচার করা হবে। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর বক্তব্য প্রচার করা হবে।