প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বড় হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হতে পারে নতুন মুখ

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বড় হচ্ছে মন্ত্রিসভা, যুক্ত হতে পারে নতুন মুখ

Manual4 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ এবং বড় রদবদলের জোর আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বর্তমান ৫০ সদস্যের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে আরও পাঁচ-সাতজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। এ যাত্রায় মন্ত্রীর পাশাপাশি উপমন্ত্রীও থাকতে পারেন। এদের মধ্যে দু-একজন প্রবীণ নারী সংসদ সদস্যও থাকতে পারেন।

Manual4 Ad Code

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা বাড়াতে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজে সমন্বয় আনতে খুব শিগগির মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে কবে নাগাদ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হবে, এর সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ কেউ বলতে পারছেন না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পবিত্র রমজান মাসের ব্যস্ততার কারণে এই মুহূর্তে বড় কোনো ঘোষণা না এলেও ঈদের পর বা খুব দ্রুত সময়ের ভেতরেই মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের নাম ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। জনগণের সেবার মান বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষাও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অন্যতম কারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ পর্যায়ের একজন মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার আকার বড় হতে পারে। দপ্তরও রদবদল হতে পারে। খুব শিগগির এই ঘোষণা আসতে পারে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘মন্ত্রিসভার সম্পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি কখন কাকে নেবেন, কোথায় দেবেন এটা তার (প্রধানমন্ত্রীর) এখতিয়ার।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি বলেন, ‘মন্ত্রিসভার আকার বাড়ছে কিনা–এটা এখনো আমার জানা নেই। এ বিষয়ে জানেন শুধু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার পরিকল্পনায় সবকিছু হবে।’

মন্ত্রিসভায় ইতোমধ্যেই পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। গত ৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দুজন উপদেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলোকে মন্ত্রিসভার বড় ধরনের পুনর্গঠনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা।

Manual4 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর অধীনে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকায় তারা কাজ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন। ফলে কাজে আরও গতি আনতে এবং জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে তা হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সময় এই ঘোষণা আসতে পারে, যা সরকারের আগামী দিনের পথচলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী বাদে ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। ৪৯ সদস্যর এই মন্ত্রিসভায় উপমন্ত্রী নেই। এদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালকে ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে। এর মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজের মন্ত্রণালয়ে আহমেদ আজম খানকে মন্ত্রী পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।

২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ২৮ জন মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় প্রথম দফায় খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে প্রয়োজন অনুসারে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে।

একাধিক মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার চায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিটি সেক্টরে আরও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা। মন্ত্রিসভার এই সম্ভাব্য সম্প্রসারণ সেই লক্ষ্যপূরণের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

 

আলোচনায় যেসব মন্ত্রণালয়

সরকার ও বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, ২০০১ সালের মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যার সমান হতে পারে নতুন মন্ত্রিসভা। কারণ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রণালয়ে এখনো কোনো মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। যদিও সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তবে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সেক্টরে দক্ষ ও প্রতিষ্ঠিত এমন সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন মুখ মন্ত্রিসভায় বেছে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। বিভাগ ও জেলাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিত্বেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বতমান মন্ত্রিসভা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ বড় দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ এসব মন্ত্রণালয়ে অতীতে একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী দেখা গেছে। যেমন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়; নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

Manual8 Ad Code

গুরুত্বপূর্ণ এসব মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছে। এ জন্য সবশেষ ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বিন্যাস করে কাজের পরিধি নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অন্য প্রতিমন্ত্রীর কাজের চাপ কমানো হতে পারে।

প্রবীণ ও তরুণ সংসদ সদস্যরা আলোচনায়

Manual2 Ad Code

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্যকে মন্ত্রিসভার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বেগম সেলিমা রহমান এখনো সরকারের বাইরে আছেন।

২০০১ সালের খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় চারজনই ছিলেন। এবার তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। তবে সংসদ উপনেতা পদে খন্দকার মোশাররফ হোসেন এগিয়ে আছেন। সেলিমা রহমান এবার নির্বাচনে অংশ না নিলেও তিনি সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হচ্ছেন, এটা অনেকটাই নিশ্চিত। টেকনোক্রেট কোটায় এখনো ২ জনকে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

অনেকের মতে, সবার কাছে দলের প্রবীণ নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তাদেরকে মন্ত্রিসভায় নিলে আগের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা ভালো করবেন। তরুণ-প্রবীণের সংমিশ্রণে সরকারের কাজে গতি বাড়বে।

সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভায় যাদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে তারা হলেন, নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক বিশিষ্ট অর্থপেডিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী এবং ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল।

এদের মধ্যে প্রবীণ রাজনীতিক বরকত উল্লাহ বুলু পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি যুবদলের সভাপতি ও যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। খালেদা জিয়ার সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির পদেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি সদস্য ছিলেন।

যেহেতু এবার মন্ত্রিসভায় নোয়াখালীর একজন এমপিকেও রাখা হয়নি, সে জন্য বরকত উল্লাহ বুলুকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান নোয়াখালীর মানুষ।

সম্ভাব্য বর্ধিত মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আলোচনায় আরও আছেন ঢাকা বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি ‘যেন’ নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির ত্রাণকর্তা। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সামনে থেকে যেমন সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তেমনই তার নির্বাচনি এলাকার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলেন। অপেক্ষাকৃত তরুণ এই এমপিকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান অনেকেই।

দীর্ঘ ২৯ বছর পর আওয়ামী অধ্যুষিত নরসিংদী-৫ আসনে ৯৪ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন আশরাফ উদ্দিন বকুল। ২৪টি ইউনিয়ন ও দুর্গম আটটি চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত এই আসন। বছরের পর বছর নিজের নির্বাচনি এলাকায় নীরবে দলের কাজ করে চলেছেন বকুল। এলাকার গরিব মানুষের সেবা করেছেন। নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। শিল্পায়নে আশরাফ উদ্দিন বকুলের অবদান অনেক। এ ছাড়া প্রকৌশলী সমাজকে তিনি দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দিয়ে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। তিনি বিএনপিপন্থি প্রকৌশলীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন অ্যাবের নির্বাচিত সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। তার নির্বাচনি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, বকুলের মতো উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ এবং ত্যাগী রাজনীতিবিদদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া জরুরি। তাহলে সরকারের কাজে যেমন গতি বাড়বে তেমনই দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে হারিয়েছেন আসগার আলী লবি। এই আসনে প্রথমবার নির্বাচন করেই চমক দেখিয়েছেন তিনি। খুলনার রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতাকে দেখতে চায় নগরবাসী।

অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক বিগত আওয়ামী লীগের আমলে নানাভাবে হয়রানি ও হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। জেলা বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি নেতা-কর্মীদের মিথ্যা মামলায় জামিন পেতে ও ক্ষতিগ্রস্তদের নানা সহযোগিতা দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশিষ্ট অর্থপেডিক সার্জন হিসেবে নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ফ্রি চিকিৎসাও দিয়েছেন তিনি। তার অনুসারীসহ নেত্রকোনা-২ আসনের মানুষ তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code