শিক্ষায় বদলের হাওয়া, ‘চমকে ভরা’ ১৮০ দিনের পরিকল্পনা
শিক্ষায় বদলের হাওয়া, ‘চমকে ভরা’ ১৮০ দিনের পরিকল্পনা
editor
প্রকাশিত মার্চ ২৮, ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
শিক্ষাখাতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এটা বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ। স্বল্পসময়ে ‘চমক জাগানো’ কিন্তু ‘টেকসই’ কিছু কাজের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ৩৬টি কাজ। সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৩৬ কোটি টাকা।
Manual1 Ad Code
কর্মসূচিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গড়তে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে দেশের সব স্তরের ৫০ হাজার শিক্ষকের হাতে অত্যাধুনিক ট্যাব দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করবে সরকার। চমক জাগানো প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত ‘বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস’ দেওয়া হবে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া শিক্ষা টিভি চালু, শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার মতো টেকসই উদ্যোগ রাখা হয়েছে।
শিক্ষাখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অগ্রাধিকার তালিকার ৩৬ কাজের মধ্যে অধিকাংশই সাময়িক চমক জাগানিয়া। তবে টেকসই প্রকল্প কম। তারপরও শিক্ষার উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি এ পরিকল্পনার অর্ধেকও যদি ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে শিক্ষাখাতে গতি বাড়বে। শিক্ষকরা যেমন উৎসাহিত হবেন, তেমনি শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়বে। ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে এ পরিকল্পনার অন্তত ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন জরুরি। এক্ষেত্রে দুর্নীতি-অনিয়ম ও ধীরগতি ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেও মনে করেন শিক্ষাবিদরা।
ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব
নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক শিক্ষকের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষকদের হাতে প্রথম পর্যায়ে ৫০ হাজার ট্যাব তুলে দেবে সরকার।
শিক্ষকদের ডিজিটাল ডিভাইসে অভ্যস্ত করা, ইন্টার-অ্যাকটিভ শিখন পদ্ধতি বাস্তবায়ন ও ক্লাসরুমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথমে মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষকদের ডাটাবেজ হালনাগাদ করা হচ্ছে। শিগগির এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা তৈরি করবে মন্ত্রণালয়।
এরপর পূর্ণাঙ্গ এডুকেশন অপারেটিং সিস্টেমসহ এলএমএস, কনটেন্ট রিপোজিটরি, টিচিং লার্নিং ম্যাটেরিয়ালস, ম্যানেজমেন্ট টুলস (শিক্ষার্থী মূল্যায়ন, উপস্থিতি ও ফলাফল তৈরি) প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করা হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ডিভাইস উপযোগী এডুকেশন প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করবে সরকার।
২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিতে ১৮০ দিনের মধ্যে ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বর্তমানে থাকা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সরঞ্জামের অডিট করা হবে এবং নতুন প্রকল্পের কারিগরি স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করা হবে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলো পুরোদমে চালু করা হবে আগামী আগস্টের মধ্যে।
Manual5 Ad Code
শিক্ষামূলক ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্টারি ও অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলো স্থাপন করা হবে। গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতির বদলে অডিও-ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই
Manual1 Ad Code
শিক্ষাখাতে ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই সংযোগ দেবে সরকার। স্কুলে শিক্ষকদের কমনরুম, কলেজ কিংবা উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে ক্যাফে ও লাইব্রেরিতে এ সংযোগ চালু থাকবে। এটি ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস ও গবেষণার কাজে সহায়ক হবে। বিনামূল্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তা ব্যবহার করতে পারবে।
বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিশেষ করে স্কুলে) বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার। ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে বিষয়টি রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রতিটি উপজেলা ও মহানগরে তিনটি করে এক হাজার ৮শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এটি চালু করা হবে সারাদেশে। অনগ্রসর এলাকার ১০০টি বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। ঝরে পড়ার হার ও সামাজিক বৈষম্য কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ
শিক্ষার সার্বিক গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করবে সরকার। ধাপে ধাপে এ লক্ষ্য অর্জন করা হবে। এক্ষেত্রে ব্যয়ের খাত চিহ্নিত ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ করা হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো সমন্বয় করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আনন্দময় শিক্ষায় জোর
শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমিয়ে আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস নামে এ প্রকল্পের আওতায় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ছয় মাসের মধ্যে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে কর্মশালা ও মডিউল তৈরি করা হবে। মডিউলে থাকবে নিয়মিত খেলা, বিতর্ক, নাট্যানুষ্ঠানের আয়োজন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দৈনন্দিন কুশল বিনিময়, প্রতিষ্ঠানের পাঠাগারে দৈনিক একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি পত্রিকা পড়ার সুযোগ থাকবে। এ প্রক্রিয়া টেকসই করতে ২০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
শিক্ষা সংস্কার কমিশন
শিগগির শিক্ষা সংস্কারে একটি কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হবে। তারা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা সংস্কারে কাজ করবেন। শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের পথ সুগম করতে এ কমিশন গঠনের উদ্যোগ সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
শিক্ষা টিভি চালু
শহর ও গ্রামে শিক্ষার গুণগত পার্থক্য রয়েছে। বৈষম্য কমাতে শিক্ষা টিভি চালু করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষা টিভি চালু করা হবে। সেখানে প্রচার করা হবে মানসম্মত অনুষ্ঠান ও ভিডিও কনটেন্ট। টিভিতে দক্ষ শিক্ষকরা নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ক্লাস নেবেন। একযোগে তা সারাদেশে প্রচার করা হবে।
করমুক্ত হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিগগির সমন্বয় সভা করা হবে। করমুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমবে এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে।
Manual6 Ad Code
গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গবেষণায় গুরুত্বারোপ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাত যৌথ গবেষণাগার প্রতিষ্ঠায় নীতিমালা করা হবে। গবেষণা প্রস্তাব জমা দেওয়া সব আবেদনকারীকে অর্থায়ন করা হবে। ৩০০টি গবেষণা প্রস্তাব অনুমোদন দিয়ে তাতে পূর্ণ অর্থায়ন করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত নীতিমালা শিগগির জারি করা হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের এগিয়ে নিতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রথমে অবকাঠামোগত বাধা দূর করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরোনো ভবনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো (র্যাম্প, বিশেষ টয়লেট) নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় ২৫৫টি ওয়াশরুম ও ১৩৫টি র্যাম্প তৈরি করা হবে। ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরো-ডেভেলপমেন্ট ডিজঅ্যাবিলিটিজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু রাখা ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত জমিতে নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক
শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলা ও আউটসোর্সিং সক্ষমতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এটি চালু হবে প্রাথমিক স্তর থেকে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভাষা ল্যাব স্থাপন, বিদেশি ভাষা বিশেষজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে তৃতীয় ভাষা সার্টিফিকেটের দেওয়া হবে বিশেষ গুরুত্ব।
১৮০ দিনের পরিকল্পনায় আরও যা আছে
সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা, ক্রীড়া ও দেশীয় সংস্কৃতি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার, সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষাখাতে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসন, রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের আহতদের সহায়তা দেওয়া, অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা এডু-আইডি প্রবর্তন।
এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন, ইউজিসির ক্ষমতায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যা দূরীকরণ ও মানোন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি, সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়া, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ঋণ দেওয়া ও ব্যাংক ঋণের জটিলতা দূরীকরণ এবং ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি প্রোগ্রাম ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেন, ‘১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে মার্চ মাসের শুরু থেকেই কাজ চলছে। মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে আমরা এ পরিকল্পনার শতভাগ বাস্তবায়নে চেষ্টা করছি। এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থ বরাদ্দ পাওয়া। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সেগুলো সংকুলান করা হলে আমরা সফল হবো।’
শিক্ষকদের ট্যাব, শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, ফ্রি ওয়াইফাই দেওয়াসহ অধিকাংশই চমক দেখানো কাজ বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। স্বল্পমেয়াদি এ পরিকল্পনায় শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে টেকসই কিছু কর্মসূচিও রয়েছে। তবে দুর্নীতিমুক্তভাবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাটাকেই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গঠিত কনসালটেশন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক। ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘শিক্ষায় টেকসই পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ জরুরি। জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন, কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়ার বিষয়গুলো টেকসই কাজ হবে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও নারী শিক্ষার্থীদের বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের বিষয়টি ভালো দিক।’
তবে স্কুল ড্রেস দেওয়া, ওয়াইফাই, ট্যাব বিতরণকে চমক দেখানোর স্বল্পমেয়াদি প্রয়াস বলে উল্লেখ করেন তিনি। ড. মনজুর বলেন, ‘স্কুল ড্রেস, ট্যাব দেওয়াকে আমি নেতিবাচক বলছি না, তবে এর চেয়েও জরুরি আরও কাজ রয়েছে শিক্ষাখাতে। জরুরি বিষয়গুলোকে এড়িয়ে এগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া যৌক্তিক মনে করি না। পাশাপাশি এসব কাজে অতীতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। আগামীতেও এ দুর্নীতি ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’