জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত জুন ১, ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
Manual3 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের সাধারণ জনগণের প্রতিটি সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা ও মৌলিক দাবি পূরণ করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণভাবে বদ্ধপরিকর বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
Manual8 Ad Code
রোববার (৩১ মে) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ ‘কেআইবি’ মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।
Manual1 Ad Code
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ‘বিএনপি’ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কালজয়ী রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। নির্বাচনের আগে ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সর্বস্তরের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাই এই সরকারের একমাত্র মূল লক্ষ্য।’
Manual5 Ad Code
সরকারপ্রধান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচনের পর বিএনপির দেওয়া সেই ইশতেহার এখন আর কেবল কোনো একক দলের নয়, এটি এখন দেশের আপামর জনগণের জাতীয় ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। দেশের যে বিশাল জনগোষ্ঠী ভোটের মাধ্যমে এই ইশতেহারের পক্ষে নিজেদের মূল্যবান রায় দিয়েছেন, তাদের সেই আজন্ম আশা-আকাঙ্ক্ষা আমাদের যেকোনো মূল্যে পূরণ করতে হবে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমান অতীতে দেশের উন্নয়নের জন্য যে কালজয়ী পথনির্দেশনা দিয়েছিলেন, তার সুদূরপ্রসারী ধারাবাহিকতা রক্ষা করেই আমরা নতুন নতুন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছি এবং দেশ পরিচালনা করছি।’
দেশের বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ সামগ্রিক গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের সাধারণ মানুষের কাঙ্ক্ষিত আকাঙ্খা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। বিশেষ করে গত ১৭ বছরে দেশের বিচার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতসহ মূল গণতন্ত্রকে যেভাবে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে, পুরো জাতি আজ তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। বিএনপি সরকার দেশ ও জাতির এক অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই এমন একটি সংবেদনশীল সময়ে রাষ্ট্রের কেউ হেসেখেলে দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে চললে দেশ ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
দেশে চলমান সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে সুদৃঢ় পারিবারিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে স্বদেশে ফেরার পর আমার মনে হয়েছে বর্তমান সমাজে পারিবারিক শিক্ষার কিছুটা বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাই সামাজিক ও পারিবারিক মূলবোধ এবং নৈতিকতা ব্যাপকভাবে বাড়াতে দেশজুড়ে কাজ করার জন্য ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ সভায় নিজের প্রয়াত বাবার স্মৃতিচারণ করে আবেগঘন কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দিয়েই একসময় বিশ্বমঞ্চে পুরো বাংলাদেশকে চিনত। বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ মানেই অনেকে তাকে বুঝত। একজন সন্তান হিসেবে বাবার এই ঐতিহাসিক কীর্তি আমাকে আজীবন গর্বিত করে।’
দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় তখনই পুরোপুরি সফল হবে, যখন দলের সর্বস্তরের লোকজন ও অঙ্গসংগঠনগুলো প্রশাসনকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের মন্ত্রীরা দিনরাত পরিশ্রম করলেই দেশের সফলতা আসবে না। দেশের সাধারণ নেতাকর্মীরা ঠিক যেভাবে নিজেদের জীবন বাজি রেখে গত জাতীয় নির্বাচনে সহযোগিতা করে দলের অভাবনীয় বিজয় নিশ্চিত করেছেন, ঠিক সেভাবেই রাজপথের মতো ইশতেহার বাস্তবায়নেও দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর অত্যন্ত সুনিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।