সনদনির্ভর নয়, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর
সনদনির্ভর নয়, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর
editor
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু একাডেমিক সনদ অর্জন যথেষ্ট নয়; কর্মক্ষেত্রের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
রোববার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
Manual1 Ad Code
অনুষ্ঠানে ‘কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব’ প্রতিপাদ্যে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। পরে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করতে হবে। শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজেদের প্রস্তুত করতে না পারলে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বের কর্মক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে একদিকে কিছু প্রচলিত পেশা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের শুধু সনদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে গুরুত্ব দিতে হবে।
Manual5 Ad Code
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুই হাজারের বেশি অধিভুক্ত কলেজে বর্তমানে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। ফলে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা বিস্তারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক বিজ্ঞান, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ডিজিটাল যোগাযোগ, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং আর্থিক সচেতনতার মতো বিষয়গুলো এখন আধুনিক শিক্ষার অপরিহার্য অংশ। পাশাপাশি জেনেটিক প্রকৌশল, জীবপ্রযুক্তি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, শিল্পভিত্তিক ইন্টারনেট অব থিংস, ন্যানোপ্রযুক্তি, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণ এবং পঞ্চম প্রজন্মের বেতার প্রযুক্তি সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার এরইমধ্যে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষাক্রমকে বাস্তবভিত্তিক, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ শুরু করেছে।
Manual5 Ad Code
শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যবহারিক দক্ষতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জন করতে পারেন না। এ কারণে শিক্ষানবিশ কার্যক্রম এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
Manual1 Ad Code
তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতামূলক ভিত্তিতে ‘প্রারম্ভিক তহবিল’ বা ‘উদ্ভাবন অনুদান’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেরাই উদ্যোক্তা হয়ে অন্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিখতে পারলে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।
সবশেষে তিনি বলেন, এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু সনদ প্রদান করবে না; বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে এবং দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করবে।