প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

ধীর কর্মসংস্থানের গতি, বাড়ছে বেকারত্ব

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
ধীর কর্মসংস্থানের গতি, বাড়ছে বেকারত্ব

Manual1 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual4 Ad Code

 

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম বড় দাবি ছিল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈষম্য দূর করা। কিন্তু সেই প্রত্যাশার বড় অংশই অপূর্ণ রয়ে গেছে।

এই সময়ে কর্মসংস্থান তো বাড়েইনি, উল্টো শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে চাকরি হারাতে হয়েছে অনেককে। এ ছাড়া সরকারি নিয়োগ দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকা, বিনিয়োগ আশানুরূপ না বাড়া; অন্যদিকে প্রতি বছর লাখো শিক্ষিত তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে না পারা—সব মিলিয়ে দেশে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে অনেকেই জড়াচ্ছে ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে। কেউ কেউ মাদকেও আসক্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে সরকারি হিসাবে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ এবং বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে এ হিসাব বাস্তব পরিস্থিতির পুরো চিত্র তুলে ধরছে না। কারণ বিপুলসংখ্যক তরুণ আছেন যারা কাজ খুঁজে হতাশ হয়ে শ্রমবাজার থেকে সরে গেছেন, আবার অনেকে যোগ্যতার তুলনায় অনেক কম মানের কাজে নিয়োজিত। দেশের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব।

 

Manual6 Ad Code

তথ্যানুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় বা সমমানের গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা সব শিক্ষাস্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রতি বছর দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে প্রায় ৭ লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করেন। কিন্তু আনুষ্ঠানিক চাকরি তৈরি হয় মাত্র ৩ লাখের মতো। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ নতুন গ্র্যাজুয়েট দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়ছেন। অর্থনীতিবিদরা একে স্কারিং ইফেক্ট হিসেবে উল্লেখ করেন, যেখানে দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়ার কারণে একজন তরুণের আয়, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবন স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

কর্মসংস্থানের সঙ্গে সবচেয়ে গভীর সম্পর্ক বিনিয়োগ ও শিল্পোৎপাদনের। নতুন শিল্প না হলে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে, যা দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে গ্যাসসংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন ব্যয়ের কারণে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমিয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীর শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজিএমইএর সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্পপুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

Manual8 Ad Code

অন্যদিকে আগস্ট, ২০২৪ থেকে জুন, ২০২৬ পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ছিল বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১০৮, বিকেএমইএর ৩৫, বিটিএমএর ৮ এবং বেপজা-সংশ্লিষ্ট ১৯টি। অর্থাৎ পোশাক, নিটওয়্যার, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এই বন্ধের তালিকায় রয়েছে। বাকি ২৮৭টি ছিল পোশাকবহির্ভূত শিল্প।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ এখনো আশানুরূপ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কিংবা উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, অন্যদিকে বিদ্যমান চাকরিও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।’

 

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ ও শিল্পের গতি না বাড়লে বেকারত্ব কমানো কঠিন হবে। শুধু বিদেশে কর্মী পাঠিয়ে এ সংকট মোকাবেলা করা যাবে না। দেশে টেকসই কর্মসংস্থান তৈরির জন্য শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে প্রকট হয়ে উঠেছে জ্বালানি অব্যবস্থাপনা। এর কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ যেমন গড়ে উঠছে না, তেমন বিদ্যমান অনেক কারখানাও আগামী দিনে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমান সময়ে নতুন কর্মসংস্থানের পেছনে না ছুটে, কিভাবে বিদ্যমান কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখা যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।’

Manual3 Ad Code

 

৫ লাখের বেশি শূন্যপদ, নিয়োগ নেই : কর্মসংস্থানের আরেক বড় সংকট সরকারি চাকরিতে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুযায়ী, অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার পদ শূন্য। অথচ এসব পদে নিয়োগের আশায় লাখো চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। বিসিএস, ব্যাংক ও অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ পর্যন্ত গড়ে তিন থেকে পাঁচ বছর লেগে যায়। এ দীর্ঘসূত্রতা তরুণদের বেসরকারি খাতেও পিছিয়ে দেয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকার পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তবে এজন্য শুধু রাজনীতিকদের দায়ী না করে আমলাদের ভূমিকাকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।

 

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আমলাদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে কমান্ডারদের অস্ত্র মেশিনগান আর এখানে আমলাদের অস্ত্র কলম। তারা কেন ভয় পাবেন? সরকারি চাকরি করতে গেলে নানান ধরনের চাপ আসবে। সেই চাপের সম্মুখীন হয়েই কাজ করতে হবে।’

সাবেক এই আমলা বলেন, ‘সরকারি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দৃঢ়তা, সততা ও নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে রাখা বা দীর্ঘায়িত করা উচিত নয়। যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে শূন্যপদ পূরণ হবে, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যেও আস্থা তৈরি হবে।’

বিদেশে কর্মসংস্থানের বাজারও সংকুচিত : দেশে কর্মসংস্থানের সংকট বাড়লেও বিদেশি শ্রমবাজার এখনো বড় আশ্রয়। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যানুযায়ী, গত ছয় মাসে ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ কর্মী বিদেশে গেছেন। যদিও বাংলাদেশ ১৪০ দেশে কর্মী পাঠায়, বাস্তবে ১০ থেকে ১২ দেশের ওপরই নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি। মোট জনশক্তি রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। যুদ্ধের কারণে সেই বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জাপান ও ইউরোপের নতুন বাজারে সম্ভাবনা বাড়ছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ তরুণ নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। বিপরীতে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৩ লাখের মতো। বিনিয়োগ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা-সব ক্ষেত্রেই সংকোচন দেখা যাচ্ছে। তাই এখন বিদেশি শ্রমবাজার বা অভিবাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।’

তিনি বলেন, ‘অভিবাসন এখন আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা যায়। আমরা এখনো মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীর জন্য ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ইউরোপ, জাপানসহ বিভিন্ন নতুন শ্রমবাজারে আমাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এসব বাজার ধরতে হবে। শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করে থাকলে হবে না।’

আলী হায়দার চৌধুরীর মতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারলে দেশে বেকারত্বের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। তবে নতুন শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াও দ্রুত করতে হবে।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রতি বছর নতুন করে ২০-২২ লাখ মানুষ প্রবেশ করেন। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে কাজের সুযোগ পান। বাকি ১৪-১৫ লাখের জন্য দেশে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে হয়। কিন্তু বাস্তবে নতুন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের গতি সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফলে প্রতি বছর আগের বছরের বেকারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন চাকরিপ্রার্থীর বড় একটি অংশ। এতে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

 

বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা : বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশ এমন এক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত বৈদেশিক ধাক্কার মুখে পড়েছে, যখন অর্থনীতির সক্ষমতা সীমিত। সীমিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রম আয়ের দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ২০২৫ সালে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। ২০২৬ সালে আগে যেখানে ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার আশা ছিল, সেখানে এখন সেই সংখ্যা নেমে আসতে পারে মাত্র ৫ লাখে। একই সঙ্গে প্রায় ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে কর্মসংস্থানসংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি একে অন্যকে আরো তীব্র করছে। চাকরি কমলে আয় কমে, আর মূল্যস্ফীতি বাড়লে সেই আয়ও দ্রুত ক্ষয় হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবেলায় শিল্প খাতে দেশিবিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্ধ ও রুগ্ণ কারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ৫ লাখের বেশি শূন্যপদ দ্রুত, স্বচ্ছ ও যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা, নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও তারা জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, কর্মীদের ভাষা ও যোগাযোগদক্ষতা উন্নয়ন, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সময় কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদারের সুপারিশ করেছেন তারা।

ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শুধু বিনিয়োগের ঘোষণা নয়, বিনিয়োগকে বাস্তব কারখানা ও উৎপাদনে রূপ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিনিয়োগ পরিবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ২৫টি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং এরই মধ্যে ১০ হাজার একরের বেশি শিল্পভূমিতে ৪৪টি বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। বন্ধ ও অব্যবহৃত সরকারি শিল্পসম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনাও এ পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।’

তিনি জানান, আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ১ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এখনো সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা বাস্তবায়নের গতি। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হলেও তা মাঠপর্যায়ে কার্যকর হতে দেরি হয় এবং একটি কারখানা চালু করতে বিনিয়োগকারীদের একাধিক সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়।

আশিক চৌধুরীর মতে বিনিয়োগকারীদের কাছে নীতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ধারাবাহিক ও সময়মতো বাস্তবায়ন। এ কারণে সিঙ্গেল উইন্ডোব্যবস্থার মাধ্যমে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যাবসায়িক অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আগামী পর্যায়ের মূল লক্ষ্য হবে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব প্রকল্প, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়া।’

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code