উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
উন্নয়নে বাধা কাটাতে ইউএনওদের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
Manual3 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
দেশে প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডিসেম্বরে। ৫ শতাধিক ইউএনও সরাসরি সরকারপ্রধান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা পাবেন।
মাঠপর্যায়ে সরকারের যে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয় ইউএনওদের হাত দিয়েই। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনায় মাঠ প্রশাসন বেশ উজ্জীবিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উপজেলার উন্নয়নে সব ধরনের বাধা কাটানোর নানা দিকনির্দেশনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইউএনওদের নিয়ে এ সম্মেলন হবে এক দিনের।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজন করে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ডিসিরা সরকারের মন্ত্রী-সচিবদের সামনে মাঠ প্রশাসনের নানা ধরনের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। একইভাবে যদি ইউএনওরা সরকারের কাছে মাঠ প্রশাসনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি তুলে ধরেন, সেটা সরকারের জন্য ভালো হবে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এ কারণেই এবার ডিসি সম্মেলনের আদলে ইউএনও সম্মেলন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উপজেলা পর্যায়ের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সারা দেশের ইউএনওদের নিয়ে এক সভায় প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের মতো ইউএনওদের নিয়ে সম্মেলন করার প্রস্তাব দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সেই সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
Manual7 Ad Code
উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিক সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউএনওরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
Manual8 Ad Code
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ ডিসেম্বর ডিসি সম্মেলনের আদলে আয়োজিত এ সম্মেলন হতে পারে।
সম্মেলন ঘিরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কাজ করছে। এরই মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সময়ও চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ইউএনও সম্মেলন নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর এটি হবে এরকম প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এটি কোথায় হবে জানতে চাইলে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, এখনো ভেন্যু ঠিক হয়নি। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বিবেচনায় আছে, আর বিকল্প ভেন্যু ওসমানী উদ্যান। সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ অগ্রাধিকার বিষয় আলোচনা গুরুত্ব পাবে। গ্রামগঞ্জে যারা প্রবাসে আছেন তারা যেন বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান, এজন্য প্রবাসী কার্ড নিয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন। সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হবে ওই সম্মেলনে। শুধু নামমাত্র গাছ লাগিয়ে দায় শেষ করা নয়, বৃক্ষরোপণ যেন সত্যিকারের উপকারে আসে, সে বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা আসবে। সরকারের খাল খনন নিয়ে কী বাধা, কী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে এসব বিষয় জানতে চাওয়া হতে পারে। এ ছাড়া, সম্মেলনে উপজেলার উন্নয়ন কার্যাবলির সমন্বয় ছাড়াও সরকারি কর্মসূচি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতিসঞ্চার, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি উন্নয়ন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হবে।
সভায় এলাকার উন্নয়নে ইউএনওদের কাছ থেকে সরাসরি নানা বিষয়ে শুনতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ইউএনওদের সরাসরি সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কারণে প্রান্তিক উন্নয়ন, সমস্যা বা এলাকার রাজনীতির হস্তক্ষেপ থাকলেও সেটি তুলে ধরার সুযোগ হবে ইউএনওদের।
এ ছাড়া মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব পালনকালে ইউএনওদের যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়, সে বিষয়ে সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও সরাসরি দিকনির্দেশনা দেবেন বলে জানা গেছে।
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, এটি সরকারের খুবই ভালো উদ্যোগ। এতে কর্মকর্তারা উজ্জীবিত হন। কাজেও গতি আসে। মাঠের সমস্যা সরাসরি বলতে পারেন। প্রধানমন্ত্রীও লিখিত তথ্যের চেয়ে বিষয়গুলো সরাসরি শুনতে পারেন।
তিনি আরো বলেন, এরশাদ শাসনামলে এটি হয়েছিল, তবে সব ইউএনওকে নিয়ে একত্রে নয়, বিভাগ অনুযায়ী। আমি মনে করি, সব ইউএনওকে নিয়ে আলোচনা করলে জনসভার মতো হতে পারে, সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকটা কয়েকটা জেলা বা বিভাগওয়ারি হলে আরো কার্যকর হবে। সরকারপ্রধান এবং ইউএনওদের যোগাযোগ কার্যকর হবে বেশি।