বিএনপির ৩৬ সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আবেদন সাত শতাধিক, আলোচনায় যারা
বিএনপির ৩৬ সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আবেদন সাত শতাধিক, আলোচনায় যারা
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে তোড়জোড় শুরু করেছে বিএনপি। আগামী ১২ মে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির নারীনেত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
Manual1 Ad Code
নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী প্রতি ছয়জন সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হবে। সেই হিসেবে বিএনপি জোটের ভাগে ৩৬টি আসন পড়ছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। বাকি আসনগুলোর মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা একটি আসন পেতে পারেন।
সংরক্ষিত আসনে লড়তে আগ্রহী প্রার্থীরা এরই মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে, যা চলবে রোববার পর্যন্ত। প্রথম দিনেই ৫০০-এর বেশি ফরম বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর আগে কোনো ঘোষণা ছাড়াই প্রায় সাত শতাধিক নেত্রী আগাম আবেদন জমা দিয়ে রেখেছিলেন।
নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীরা নিজেদের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও ত্যাগের খতিয়ান তুলে ধরছেন নীতিনির্ধারকদের কাছে। বিশেষ করে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা, কারাভোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার বিষয়গুলো তারা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরছেন। সাবেক ছাত্রনেত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও মহিলা দলের শীর্ষ নেত্রীরা এই দৌড়ে শামিল হয়েছেন।
Manual1 Ad Code
অনেক প্রার্থী দলের হাইকমান্ড ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ জাতীয় সংসদ এলাকায় গিয়েও নীতিনির্ধারকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত, রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা তরুণীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
এছাড়া সমাজের বিভিন্ন পেশায় সুপরিচিত ব্যক্তিদেরও তালিকার জন্য বিবেচনা করা হতে পারে। বিগত দিনের আন্দোলন ও সংসদের কাজে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন—এমন নেত্রীদেরই মূলত বেছে নিতে চায় দলটি।
Manual7 Ad Code
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় হেভিওয়েট অনেক নামই আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম, রেহেনা আক্তার, শাম্মী আক্তার, হেলেন জেরিন খান, নাজমুন নাহার বেবী, আরিফা সুলতানা, সেলিনা হাফিজ, নুরুন্নাহার রেজা, সানজানা চৈতি, সানজিদা ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন এবং তাহসিন শরমিন তামান্না।
এছাড়া সাবেক ও প্রয়াত অনেক শীর্ষ নেতার পরিবারের সদস্যরাও এই তালিকায় রয়েছেন। হাসনা জসিমউদ্দীন মওদুদ, সালিমা বেগম, শাকিলা ফারজানা, ফেরদৌসী আহমেদ, খায়রুন নাহার, মাহমুদা হাবিবা, সুলতানা জেসমিন, আসমা আজিজ, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফাহিমা নাসরিন, নাসিমা আক্তার কল্পনা, বীথিকা বিনতে হোসাইন, নাসিমা আক্তার, রোকেয়া চৌধুরী, সুরাইয়া বেগম এবং অধ্যাপক নাজমা সুলতানাসহ আরও অনেকে মনোনয়নের প্রত্যাশা করছেন।
দলের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, পার্লামেন্টারি বোর্ড সব দিক বিচার-বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বিশেষ করে যারা দুর্দিনে মাঠে ছিলেন এবং যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সংসদীয় কাজে দক্ষতা রয়েছে, তারাই অগ্রাধিকার পাবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও আশা করছেন, যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন করে দলের হাইকমান্ড তাদের ওপর আস্থা রাখবে।