ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ১৭৫ শিশুর গণজানাজায় মানুষের ঢল
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ১৭৫ শিশুর গণজানাজায় মানুষের ঢল
editor
প্রকাশিত মার্চ ৪, ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক:
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে একটি মেয়েদের বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত ১৬৫ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের স্মরণে গণজানাজার আয়োজন করেছে তেহরান। ইরান এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা বলে দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা যায়, মিনাবের একটি উন্মুক্ত চত্বরে হাজারো মানুষ জড়ো হয়েছেন। পুরুষেরা ইসলামিক রিপাবলিকের পতাকা নাড়িয়ে স্লোগান দেন, আর কালো চাদর পরা নারীরা আলাদা অংশে অবস্থান নেন। মঞ্চে উঠে ‘আতেনা’ নামে এক কিশোরীর মা বলে পরিচয় দেওয়া এক নারী নিহতদের ছবিসংবলিত পোস্টার তুলে ধরে একে ‘আমেরিকার অপরাধের দলিল’ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘তারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে।’ জনতা তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় এবং ‘নো সারেন্ডার’ ধ্বনি তোলে।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলার ঘোষণা দেওয়ার পর এই আঘাত হানা হয়। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বেসামরিক হামলা। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মিনাব এলাকায় তাদের বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলার বিষয়ে তারা অবগত নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘১৬০-এর বেশি নিষ্পাপ কিশোরীর কবর খোঁড়া হচ্ছে— যারা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে নিহত হয়েছে। তাদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘প্রতিশ্রুত উদ্ধারকে’ কটাক্ষ করে বলেন, ‘গাজা থেকে মিনাব— নিরীহ মানুষ ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হচ্ছে।’
Manual5 Ad Code
তেহরান জানিয়েছে, দেশজুড়ে কয়েকটি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও বিমান হামলার প্রভাব পড়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নির্বিচারে আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল, রেড ক্রিসেন্ট স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক নিদর্শনে হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটি নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এবং নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী শিক্ষা অধিকারকর্মী মালালা ঈউসুফজাঈ। এদিকে এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন, এটি যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি-না তা নির্ধারণে পর্যাপ্ত তথ্য এখনো হাতে নেই, তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিগুলো ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।
Manual4 Ad Code
আন্তর্জাতিক মানবিক আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা অন্য কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিউ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি যদি আমাদের হামলা হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিরক্ষা দপ্তর বিষয়টি তদন্ত করবে।’ তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করে না। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, চলমান সামরিক অভিযানে বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখছে।
Manual8 Ad Code
জাতিসংঘের শান্তি নির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল রোজমেরি ডিকার্লোও জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া মৃত্যুর খবর সম্পর্কে তারা অবগত এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছেন।