যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করছেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করছেন ট্রাম্প
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
ডিজিটাল ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে যাওয়া—যা “বার্থ ট্যুরিজম” নামে পরিচিত—এখন কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইল থেকে জানা গেছে, সংস্থাটি “বার্থ ট্যুরিজম ইনিশিয়েটিভ” নামে নতুন একটি উদ্যোগ চালু করেছে। এর আওতায় দেশজুড়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন সব সংগঠিত নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে, যারা গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিতে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে সাহায্য করে।
এই নারীদের প্রধান লক্ষ্য থাকে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নবজাতকের জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা। ট্রাম্প প্রশাসন এই বিষয়টিকে সামনে এনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।
Manual2 Ad Code
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, এই ধরনের জন্ম পর্যটন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তাঁর দাবি, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জন্মের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয় না।
অন্যদিকে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই বেআইনি নয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় যদি ভিসা জালিয়াতি বা প্রতারণা ঘটে, সেসব ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চালু হওয়া একটি নীতিমালায় বলা হয়েছিল—শুধুমাত্র সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পর্যটক ভিসা ব্যবহার করা যাবে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হতে পারে।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে “বার্থ ট্যুরিজম” কতটা বড় সমস্যা, তা স্পষ্ট নয়। সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় ৩৬ লাখ শিশুর তুলনায় এই সংখ্যা খুবই সামান্য।
Manual8 Ad Code
তবুও রিপাবলিকান নেতারা এই ইস্যু সামনে এনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, দেশটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই নাগরিকত্ব পায়—যা দীর্ঘদিনের আইনি নজির।
Manual3 Ad Code
ক্ষমতায় ফিরে প্রথম দিনেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বলা হয়—যদি বাবা-মায়ের কেউ মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে তাদের সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও নাগরিকত্ব পাবে না। এই সিদ্ধান্তটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে কয়েকজন ফেডারেল বিচারক তা স্থগিত করেন, এবং বিষয়টি এখন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বর্তমান নিয়ম “বার্থ ট্যুরিজম”-কে উৎসাহিত করছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের একটি প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে, যাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাস্তব সংযোগ কম।
এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই)। সংস্থাটি বিশেষভাবে জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত চক্রগুলো ভেঙে দিতে কাজ করবে।
Manual5 Ad Code
এর আগে ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় “বার্থ হাউস” পরিচালনার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যেখানে বিদেশি নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। সেই ঘটনাকে জন্ম পর্যটনের বিরুদ্ধে প্রথম বড় আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এখনো বহাল থাকলেও, এই সুযোগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জালিয়াতি চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।