স্পোর্টস ডেস্ক:
বল দখল, গোলে শট, আক্রমণ কিংবা প্রতি আক্রমণ—বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো বিভাগেই স্পেনের সঙ্গে পেরে ওঠেনি আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি তারা হেরেছে ১-০ গোলের ব্যবধানে।
কিন্তু স্পষ্ট পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা শিরোপার মঞ্চে এমন ছন্নছাড়া কেন ছিল? পুরো ম্যাচ বিশ্লেষণ করলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পেছনে চারটি বড় কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যার প্রভাবে শিরোপাটাও খুইয়েছে লিওনেল মেসিদের দল।
Manual2 Ad Code
আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব
স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে আক্রমণের অভাবেই ভুগেছে আর্জেন্টিনা। আক্রমণভাগ যেন কার্যত অকেজো ছিল মেসিদের। মাঝমাঠ থেকে বলের সীমিত সরবরাহ থাকলেও সামনে গিয়ে আক্রমণগুলো ভেঙে যেত। স্পেনের রক্ষণকে নিয়মিত চাপে ফেলার মতো পরিষ্কার সুযোগ খুব কমই তৈরি করতে পেরেছিল স্কালোনির দল।
Manual5 Ad Code
স্পেনের মিডফিল্ডের দখল
ম্যাচের দীর্ঘ সময় স্পেন মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল। বলের দখল ধরে রেখে তারা আর্জেন্টিনাকে ছন্দে ফিরতে দেয়নি। ফলে আর্জেন্টিনাকে অনেক সময়ই রক্ষণে নেমে খেলতে হয়েছে এবং পাল্টা আক্রমণের সুযোগও সীমিত ছিল। উল্টো আর্জেন্টিনা বল হারিয়েছে বারবার।
এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড
অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। তার চলে যাওয়ার প্রভাব ভালোভাবে পড়ে ম্যাচে। একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ায় আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ দুর্বল হয়ে পড়ে। সংখ্যাগত এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্পেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয়।
Manual2 Ad Code
দুই কোচই বদলি খেলোয়াড় নামালেও পার্থক্য গড়ে দেয় স্পেনের বেঞ্চ। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ফেরান তরেস ১০৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন। মিকেল মেরিনা, দানি ওলমো, পেদ্রি নিজেদের দ্রুতেই ম্যাচের ছন্দে নিয়ে আসেন। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার বদলি খেলোয়াড়রা ম্যাচে তেমন কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেননি। উল্টো বারবার বডি চার্জ করে শঙ্কায় ফেলে দেয় দলের।
Manual1 Ad Code
সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা লড়াই করলেও আক্রমণে ধার না থাকা, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো, লাল কার্ডের ধাক্কা, বেঞ্চের সীমিত অবদান এবং রক্ষণে এক মুহূর্তের ভুল—এই চার কারণই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার।