সিলেটে ঝোপ আর হাওরে মিলছে প্রবাসীদের মরদেহ : জনমনে আতঙ্ক
সিলেটে ঝোপ আর হাওরে মিলছে প্রবাসীদের মরদেহ : জনমনে আতঙ্ক
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
ছুটি পেয়ে দেশে এসেও নিরাপদ নন প্রবাসীরা। প্রথমে তারা নিখোঁজ আর পরে তাদের মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে সীমান্ত লাগোয়া হাওর কিংবা ঝোপের মধ্যে। সিলেটে একের পর এক হত্যার শিকার হচ্ছেন প্রবাসীরা। নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়রি করেও কোন প্রতিকার মিলছে না। গত এক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসা প্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফি ও কিরগিজস্তানপ্রবাসী ইমরান আহমদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ দুটি ঘটনায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা হলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। এই দুটি হত্যাকান্ড নিয়ে এখন ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে পুলিশ।
Manual2 Ad Code
জানা যায়,সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর সীমান্ত এলাকার একটি ঝোপ থেকে ইমরান আহমদ প্রবাসীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের কামলাঘাট সীমান্ত এলাকায় ঝোপের ভেতর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত প্রবাসীর নাম ইমরান আহমদ (২৪)। তিনি উপজেলার লামনীগাঁও গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। এর আগে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাড়ি থেকে সিলেট শহরে যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়ে নিখোঁজ হন।
Manual1 Ad Code
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমরান আহমদ কিরগিজস্তানপ্রবাসী ছিলেন। তিনি গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন। জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি চলছিল। মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় লোকজন সীমান্ত এলাকার ঝোপে একটি ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
পরিবারের অভিযোগ, ইমরানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা নজরুল ইসলাম আট জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। ওই মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’
এর আগে গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কুলাউড়া যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন যুক্তরাজ্য প্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফি (৫৪)। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় শফির বোন আসমা জাহান সাধারণ ডায়রি করেন। নিখোঁজের ৪ দিন পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
Manual3 Ad Code
সেই সাথে মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় লবণের একটি প্যাকেট। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মরদেহ উদ্ধারের পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম মরদেহের পরিচয় প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে। নিহত বুরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে।
Manual4 Ad Code
তবে শফি যেদিন বাসা থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যান সেসময় এক যুবক তার সাথে ছিলেন। সেই যুবককে শফির পরিবারের কেউই চিনেন না। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে এ দৃশ্যটি ধরা পড়ার পর নতুন করে মোড় নিয়েছে তদন্তে। সেই যুবককে শনাক্ত করতে পারলেই শফি হত্যার রহস্যের জট খুলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য দল সেই যুবকের খোঁজে মাঠে নেমেছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে ধরে নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।মোটরসাইকেলযোগে শফির সঙ্গে যাওয়া যুবককে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাকে শনাক্ত ও আটক করা গেলে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় দায়ের করা জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সজিব হোসেন জানান, যেহেতু শফি হত্যার শিকার হয়েছেন, তাই ঘটনাটির তদন্ত এখন জকিগঞ্জ থানা পুলিশ করছে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) বিষয়টি তদন্তে যুক্ত রয়েছে।