হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে এক বিকাশ কর্মীকে হাতে পায়ে ছুরিকাঘাত করে তার সাথে থাকা নগদ প্রায় চার লাখ টাকার বেশী ও একটি আইফোন ১১ প্রোম্যাক্স মডেলের একটি মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে বিষয়টি স্থানীয় কয়েকটি শিশু এলাকার লোকজনকে অবগত করলে স্থানীয়রা আহত শহিদুলকে উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
Manual3 Ad Code
বুধবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টায় উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের শরীফ উদ্দিন সড়ক সংলগ্ন পিটা বাড়ি এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। আহত শহিদুল ইসলাম উপজেলার শিবপাশা ইউনিয়নের হুকুড়া গ্রামের বাসিন্দা কিতাব আলী মিয়ার পুত্র।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে জলসুখা বাজারের বিকাশ এজেন্ট গ্রাহকদের লেনদেন শেষ করে জলসুখা বাজার থেকে একই ইউনিয়নের নোয়াগড় বাজারে রওনা দেন। পথিমধ্যে উল্লেখিত স্থানে পৌঁছালে চারজন যুবক তাকে আটক করে দুই হাতে পায়ে ছুরিকাঘাত করে সাথে থাকা প্রায় চার লাখ টাকার বেশী ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় আঘাতে জ্ঞাণ হারান শহিদুল।
Manual2 Ad Code
একই সময়ে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নাসিরপুরের বাসিন্দা গোলাম হোসেন মিয়ার পুত্র রকি মিয়া মোটরসাইকেল যোগে হবিগঞ্জ থেকে ফেরার পথে ঘটনাস্থলে আসার একটু সামনে আসার সময় দুর্বৃত্তরা তাকেও আটকের চেষ্টা করে। তবে তিনি বাইকের গতি বাড়িয়ে দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করলে তাকে আটকাতে ব্যার্থ হয় দুর্বৃত্তরা।
Manual1 Ad Code
রকি মিয়ার সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি হবিগঞ্জ থেকে ফেরার পথে উল্লেখিত স্থানে আসতে দেখি রাস্তার পাশ থেকে চারজন লোক দৌড়ে রাস্তায় উঠছে। আমার বিষয়টি সন্দেহ হলে আমি বাইকের গতি বাড়িয়ে সামনে চলে আসি। সামনে এসে দেখি একজন ছেলে পড়ে আছে এবং স্থানীয়রা সেখানে ভিড় করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বাহার বলেন, রাস্তায় শহিদুলকে পড়ে থাকতে দেখে দুটি শিশু স্থানীয়দের অবগত করেন। তখন বিষয়টি জানার পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।
Manual1 Ad Code
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শরীফ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, উনার দুই হাত এবং পায়ে ধারালো অস্ত্রের মোট আটটি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উনাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।
আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবিএম মাঈদুল হাছান বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি এবং ঘঠনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। অভিযোগ পেলে আমরা এ বিষয়ে মামলা গ্রহণ করবো।