সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আরএসএফ’র হামলায় নিহত ২৭
সুদানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরীতে আরএসএফ’র হামলায় নিহত ২৭
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) সোমবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী সিনজায় সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালালে এতে ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক ও স্বাস্থ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
Manual6 Ad Code
সিন্নার রাজ্যের রাজধানী সিনজা, খার্তুম থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। জাতীয় রাজধানীকে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা একটি কৌশলগত সড়কের পাশে নগরীটির অবস্থান।
পূর্বাঞ্চলীয় নগরী পোর্ট সুদানের যুদ্ধকালীন ঘাঁটি থেকে প্রায় তিন বছর কার্যক্রম চালানোর পর সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকার খার্তুমে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই এই হামলা ঘটে।
২০২৪ সালের শেষ দিকে একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী এলাকা পুনর্দখল করার পর সিনজা দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতের বাইরে ছিল। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় পরে খার্তুমও পুনর্দখলে নেয় সেনাবাহিনী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সামরিক সূত্র জানায়, আরএসএফের ড্রোনগুলো সিনজায় সেনাবাহিনীর ১৭তম পদাতিক ডিভিশনের সদর দফতর লক্ষ্য করে এ হামলা চালায়।সিন্নার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আওয়াদ জানান, হামলায় আরও ৭৩ জন আহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, একাধিক পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলীয় রাজ্যের সামরিক, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চলা একটি বৈঠকের সময় সেনাবাহিনীর সদর দফতর লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়।
Manual6 Ad Code
রাজ্যের যোগাযোগ দফতর জানায়, হোয়াইট নাইল রাজ্যের গভর্নর অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। দফতরটি জানায়, তাঁর দেহরক্ষী ও প্রটোকল প্রধানও এতে নিহত হয়েছেন।
Manual7 Ad Code
সিনজার এক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবর্ষণের আওয়াজ শুনেছেন।
সিন্নার অঞ্চলটি সর্বশেষ গত অক্টোবরে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।
Manual7 Ad Code
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশের ভেতরে ও সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বাস্তুচ্যুত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ । এই সংঘাত বিশ্বে সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্য সংকটের জন্ম দিয়েছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, সিন্নার পুনর্দখলের পরবর্তী এক বছরে দুই লক্ষাধিক মানুষ রাজ্যটিতে ফিরে এসেছেন।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাদের প্রত্যাবর্তন ঘটেছে।
যুদ্ধের শুরুতে আরএসএফ যোদ্ধারা দ্রুত খার্তুম দখল করে নেওয়ার পর রাজধানী ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন কয়েক লাখ বেসামরিক মানুষ।
গত বছর সেনাবাহিনী পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ধীরে ধীরে প্রায় ১২ লাখ মানুষ খার্তুমে ফিরে এসেছেন।
পুনর্গঠন কার্যক্রম চললেও আরএসএফ ও তাদের মিত্ররা এখন দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
তারা মাঝেমধ্যে সেনাবাহিনী-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। সেনাবাহিনী ও তাদের সরকার সুদানের উত্তর, পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।
অন্যদিকে আরএসএফ দেশের বিশাল পশ্চিমাঞ্চল দারফুরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা দক্ষিণাঞ্চলীয় কোরদোফান অঞ্চল দিয়েও অগ্রসর হচ্ছে। খার্তুমের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়ক হবে—এমন নগরীগুলো দখলের লক্ষ্য তাদের।
একাধিক নগরী আধাসামরিক বাহিনীর অবরোধে থাকায় কোরদোফানে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছে।
জাতিসংঘ এই সংঘাতকে ‘নৃশংসতার যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়েছে। উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে।