প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
সৌদির অর্থ, পাকিস্তানের পারমাণবিক ও তুরস্কের সামরিক শক্তি মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’

Manual6 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামোয় যুক্ত হতে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই নিরাপত্তা চুক্তির কাঠামো অনেকটাই ন্যাটোর ‘সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা নীতি’র আদলে, যেখানে বলা হয়েছে—এক সদস্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘যে কোনো আগ্রাসন’কে সব সদস্যের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিষয়টি ন্যাটোর বিখ্যাত আর্টিকেল–৫–এর সঙ্গে তুলনীয় বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বার্তাসংস্থা ব্লুমবার্গ।

প্রথমে রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এই চুক্তি এখন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে আঙ্কারার দিকে এগিয়েছে। সম্ভাব্য দায়িত্ব বণ্টনের কাঠামো অনুযায়ী, সৌদি আরব অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে, পাকিস্তান যুক্ত করবে তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও জনবল, আর তুরস্ক দেবে সামরিক দক্ষতা ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা। আঙ্কারা–ভিত্তিক থিংক ট্যাংক টেপাভের কৌশলবিদ নিহাত আলি ওজচান এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওজচান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন ক্রমশ নিজের স্বার্থ এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন আঞ্চলিক সংঘাতের পরিবর্তিত বাস্তবতা ও তার প্রভাব দেশগুলোকে নতুনভাবে বন্ধু ও প্রতিপক্ষ চিহ্নিত করার জন্য ভিন্নধর্মী নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো বলেছে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের কৌশলগত স্বার্থ দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে ক্রমেই কাছাকাছি আসছে। এ কারণে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা জোট গঠনকে স্বাভাবিক ও যৌক্তিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে তিন দেশ ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের পথেও এগোচ্ছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি সপ্তাহে আঙ্কারায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি যৌথ নৌবাহিনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Manual7 Ad Code

এই সম্ভাব্য জোটের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় এই কারণে যে, তুরস্ক কেবল আরেকটি আঞ্চলিক শক্তি নয়। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র–নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর ন্যাটোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনীর অধিকারী।

Manual8 Ad Code

সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ইরানকে ঘিরে কিছু অভিন্ন উদ্বেগ রয়েছে। যদিও দুই দেশই সামরিক সংঘাতের বদলে তেহরানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে তারা একটি স্থিতিশীল, সুন্নি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার পক্ষে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে একমত।

Manual6 Ad Code

অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বহুদিনের। তুরস্ক ইতোমধ্যে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জন্য করভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে, পাকিস্তানের এফ–১৬ যুদ্ধবিমান বহর আধুনিকায়ন করেছে এবং সৌদি আরব ও পাকিস্তান—উভয় দেশের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে। এর পাশাপাশি, তুরস্ক তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ প্রকল্পে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও আগে জানিয়েছিল ব্লুমবার্গ।

এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা আলোচনা এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মে মাসে চার দিনব্যাপী সামরিক উত্তেজনার পর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত ওই সংঘাত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত, যেখানে তুরস্ক প্রকাশ্যভাবেই পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Manual8 Ad Code

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code