প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাংলাদেশ ও ভারতসহ ৪ দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসায় অস্ট্রেলিয়ার কড়াকড়ি

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ ও ভারতসহ ৪ দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসায় অস্ট্রেলিয়ার কড়াকড়ি

Manual2 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান থেকে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ভিসা যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর হচ্ছে। ‘উদীয়মান ইন্টিগ্রিটি ইস্যু’র কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার নীরবে দক্ষিণ এশিয়ার এই চার দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে ফেডারেল সরকার।

Manual3 Ad Code

গত বছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির প্রায় এক–তৃতীয়াংশই ছিল এই চার দেশের। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন দপ্তরের সাবেক উপসচিব ড. আবুল রিজভি জানান, ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ভাবে নির্ধারিত সময়ের বাইরে এনে এসব দেশকে এভিডেন্স লেভেল–২ (ইএল২) থেকে এভিডেন্স লেভেল–৩ (ইএল৩)–এ উন্নীত করা হয়েছে।

হোম অ্যাফেয়ার্স বিভাগের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, ‘২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এভিডেন্স লেভেল পরিবর্তন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উদীয়মান ইন্টিগ্রিটি ইস্যুগুলো কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে, একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষা নিতে আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ অব্যাহত থাকবে।’

মুখপাত্রের ভাষায়, ‘অস্ট্রেলীয় সরকার চায়, শিক্ষার্থীরা এখানে অবস্থানকালে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পাক এবং উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করুক। আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামের সঠিক কাঠামো থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত হতে পারে যে তারা সর্বোত্তম শিক্ষায় বিনিয়োগ করছে।’

এই সিদ্ধান্তের আগে গত মাসে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল ভারত সফরে গিয়ে মাঠপর্যায়ে হোম অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সরলীকৃত স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক (এসএসভিএফ) অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতে এভিডেন্স লেভেল দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণা বা অন্যান্য কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের হার, শিক্ষার্থী ভিসাধারীদের অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার হার এবং পরবর্তী সময়ে শরণার্থী আবেদন করার হার।

Manual2 Ad Code

ইএল৩ ক্যাটাগরিতে পড়লে ভিসা আবেদনকারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত বিস্তারিত নথি জমা দিতে হয়। ড. রিজভির ভাষায়, ‘এভিডেন্স লেভেল যত বাড়ে, ভিসা কর্মকর্তা তত কম কাগজে প্রতিষ্ঠানের কথার ওপর নির্ভর করেন। উচ্চ ঝুঁকির স্তরে গেলে আরও বেশি নথি চাওয়া হয় এবং সেগুলো খুঁটিয়ে যাচাই করা হয়। ট্রান্সক্রিপ্ট যাচাইয়ে প্রতিষ্ঠানকে ফোন করা হতে পারে, ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক বিবরণীও মিলিয়ে দেখা হতে পারে।’

সাধারণত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আগের বছরের তথ্যের ভিত্তিতে এসব রেটিং সংশোধন করা হয়। তবে এবার ভারতকে সরাসরি সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তরে নেওয়া হয়েছে।

ড. রিজভি বলেন, ‘শেষবার জুলাই–আগস্টে চীনকে ইএল১ থেকে ইএল২–এ আনা হয়েছিল, ফলে চীন, ভারত ও নেপাল একই স্তরে পড়ে—যা কিছুটা অদ্ভুত ছিল। পরে মনে হয় বিশেষ ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। হয়তো নমুনাভিত্তিক কিছু কেস পর্যালোচনায় প্রতারণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।’

Manual2 Ad Code

তার মতে, গত ডিসেম্বরের শুরুতে ভারতে বড় ধরনের ভুয়া ডিগ্রি জালিয়াতির ঘটনায়—যেখানে এক লাখের বেশি জাল সনদ জব্দ হয়—এই বাড়তি নজরদারি আরোপে ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসা অধিকাংশ শিক্ষার্থী এমন ঝুঁকি নেবে বলে আমার মনে হয় না।’

ড. রিজভির ধারণা, নতুন যাচাই প্রক্রিয়ায় মূলত আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত পটভূমির দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, ইংরেজি ভাষা পরীক্ষার চেয়ে তা কম গুরুত্ব পাবে। এর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সময়ও ‘উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর’ হবে বলে তিনি মনে করছেন।

তবে সরকার ২০২৬ সালের জন্য জাতীয় পরিকল্পনায় নির্ধারিত ২ লাখ ৯৫ হাজার ভিসা কোটায় কোনো পরিবর্তন আনেনি। যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২৫ হাজার বেশি এবং গত অক্টোবরে ঘোষণা করা হয়েছিল।

ড. রিজভি বলেন, ‘প্রত্যাখ্যানের হার বাড়লে ঘাটতি অন্য উৎস থেকে পূরণ করতে হবে।’ তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে কড়াকড়ির কারণে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো ইএল১ দেশ থেকে শিক্ষার্থী বাড়তে পারে।

ইউনিভার্সিটিজ অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিবর্তনের প্রভাব বোঝার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সদস্যদের সঙ্গে কাজ করছে। সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতারণামূলক আবেদন বৃদ্ধি উদ্বেগজনক। প্রকৃত শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও আমাদের বিশ্বমানের শিক্ষা খাতের সুনাম রক্ষায় ইন্টিগ্রিটি ব্যবস্থা জোরদার করাকে আমরা সমর্থন করি।’

Manual5 Ad Code

আন্তর্জাতিক শিক্ষা অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ফিল হানি উড বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বাধার মুখে পড়া বহু শিক্ষার্থী এখন অস্ট্রেলিয়ায় আবেদন করছে। এর মধ্যে অনেক ক্ষেত্রেই আর্থিক ও শিক্ষাগত নথিতে জালিয়াতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।’

তার মতে, ‘এই দেশগুলোকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তরে নেওয়ায় আবেদনকারীদের যাচাই আরও শক্ত হবে এবং প্রকৃত পড়াশোনার উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা সহজ হবে।’ তিনি যোগ করেন, ভর্তি সীমা থাকায় এসব পদক্ষেপের ফলে শেষ পর্যন্ত ‘মানসম্মত শিক্ষার্থী’ই বেশি আসবে।

এদিকে গত জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ান স্কিলস কোয়ালিটি অথরিটি (এএসকিউএ) অমান্যকারী বা প্রতারণামূলক রেজিস্টার্ড ট্রেনিং অর্গানাইজেশনগুলোর ইস্যু করা ২৫ হাজারের বেশি সনদ বাতিল করেছে, যার মধ্যে বয়স্ক সেবা, শিশু যত্ন ও নির্মাণ খাতও রয়েছে।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল চীন (১ লাখ ৯২ হাজার ২২৫), এরপর ভারত (১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭১), নেপাল (৬৮ হাজার ৪৫৬) এবং ভিয়েতনাম (৩৬ হাজার ৪১৫)।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code