স্টাফ রিপোর্টার:
কয়েক দিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতের বাংলা ভাষাভাষীদের বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে পুশ ইন করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। মৌলভীবাজার সীমান্তে এমন ৭৪ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের পুশ ইন ঠেকাতে বিজিবির পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিতে বিজিবির সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাতে সীমান্তে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটা সময় বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গিয়ে বিভিন্ন কাজকর্মে যুক্ত হন আটক ব্যক্তিরা। তাঁদের মধ্যে কেউ তিন মাস, আবার কেউ দুই বছর আগে ভারতে গিয়েছেন।
বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে যান তাঁরা। তাঁদের মধ্যে কেউ রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রিসহ বিভিন্ন কাজ করতেন সেখানে। একটা সময় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে বিএসএফ। পরে তাঁদের সীমান্ত দিয়ে পুশ ইন করে।
৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত মৌলভীবাজার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইন করার কারণে ৭৪ জনকে আটক করেছে বিজিবি। এর মধ্যে কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন ও লাতু সীমান্ত দিয়ে ৫৯ জনকে আটক করে বিজিবি।
আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আরও অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে পুশ ইন করার খবর পাওয়া গেছে।
Manual8 Ad Code
আরও জানা যায়, জেলার ৫টি উপজেলার সীমান্তবর্তী দৈর্ঘ্য ২৭১ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল ৪৯ দশমিক ২৭, কমলগঞ্জ ৭৩ দশমিক ১৬, কুলাউড়া ৪৩ দশমিক ৭৭, জুড়ী ৬৪ দশমিক ৭৩, বড়লেখা ৪০ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার। বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল ও লাতু সীমান্ত, কুলাউড়ার মুরইছড়া ও কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই সীমান্ত দিয়ে এসব ঘটনা ঘটেছে।
Manual6 Ad Code
এ বিষয়ে বিজিবি ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া বলেন, ‘পুশ ইন ঘটনার পর আমরা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি। কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তে পুলিশ সদস্যরাও কাজ করছেন।’
Manual2 Ad Code
বিজিবি ৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান বলেন, জেলার সীমান্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। চৌকিতে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত ফাঁড়িগুলোতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।
পুশ ইন করা হয়েছে তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক হলেও এভাবে পাঠানো ঠিক হয়নি। নির্দিষ্ট কূটনৈতিক পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠানো যেত। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে দলালের মাধ্যমে গেছেন।