স্পোর্টস ডেস্ক:
মেলবোর্নের বোলিং সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়া জেতেনি। ইংল্যান্ড চতুর্থ টেস্টের ফল নিজেদের পক্ষে এনে সিরিজের ব্যবধান ৩–১ ব্যবধানে নামিয়ে এনেছে। তবে এর আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। শনিবার চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই কার্যত ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়। একই দিনে টেস্ট ক্রিকেটে চলতি পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ঐতিহাসিক এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ক।
৩৫ বছর বয়সী স্টার্ক ২০২৫ সালে লাল বলের ক্রিকেটে ৫৫টি উইকেট শিকার করেছেন। ন্যূনতম ৫০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে কম স্ট্রাইকরেটে উইকেট নেওয়ার বিশ্বরেকর্ডও এখন তার দখলে। চলমান অ্যাশেজ সিরিজে এখনো একটি টেস্ট বাকি রয়েছে। সিডনিতে পঞ্চম টেস্ট শুরু হবে ৪ জানুয়ারি। অর্থাৎ বছরের শেষ ম্যাচ ইতোমধ্যে খেলে ফেলেছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
Manual2 Ad Code
এর আগে এই কীর্তির মালিক ছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিস। ১৯৯৩ সালে তিনি এক বছরে ৫৫ উইকেট নিয়েছিলেন ২৯.৫ স্ট্রাইকরেটে, যা টানা ৩২ বছর অক্ষত ছিল। স্টার্ক সেই রেকর্ড ভেঙে ৫৫ উইকেট নিয়েছেন ২৮.৩ স্ট্রাইকরেটে। যদিও ম্যাচসংখ্যার দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে—স্টার্ক এই উইকেটগুলো নিয়েছেন ১১ টেস্টে, আর ওয়াকার ইউনিস নিয়েছিলেন মাত্র ৭ টেস্টে।
Manual1 Ad Code
এক পঞ্জিকাবর্ষে টেস্ট ক্রিকেটে আরও বেশি উইকেট নেওয়া বোলারের তালিকায় অবশ্য তাদের ওপরে আছেন অনেকে। সেখানে সবার শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন। ২০০৫ সালে তিনি ১৫ টেস্টে নিয়েছিলেন ৯৬ উইকেট। পরের বছর শ্রীলঙ্কার মুত্তিয়া মুরালিধরন ১১ টেস্টে শিকার করেন ৯০ উইকেট। এ ছাড়া এক বছরে ৮০ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে অস্ট্রেলিয়ার ডেনিস লিলি (৮৫), দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যালান ডোনাল্ড (৮০) এবং মুরালিধরনের (৮০) নামের পাশে।
চলতি বছরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টার্ক খেলেছেন ১১টি টেস্ট। ২২ ইনিংসের মধ্যে মাত্র দুই ইনিংসে তিনি কোনো উইকেট পাননি। বাকি ২০ ইনিংসেই নিয়েছেন অন্তত একটি করে উইকেট। বছরের শুরুতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ১৮ ওভারে ৪৯ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি, যদিও পরের ইনিংসে ছিলেন উইকেটশূন্য। শ্রীলঙ্কা সফরে চার ইনিংসে তার বোলিং ফিগার ছিল ১৩/২, ১৪/১, ৩৭/৩ ও ২২/০। এ ছাড়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন ৫টি উইকেট।