প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

‘এক কোটি জীবন রক্ষা’—পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে ট্রাম্পের প্রশংসা

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১, ২০২৬, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
‘এক কোটি জীবন রক্ষা’—পাকিস্তান সেনাপ্রধানকে ট্রাম্পের প্রশংসা

Manual7 Ad Code

স্টাফ রিপোর্টার:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-আ-লাগোতে সম্প্রতি রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। গত ২২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি আটটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ঠেকিয়েছেন এবং নতুন ধরনের ভারী অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাতও তারা থামিয়েছেন। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পর্যন্ত বলেছেন—ট্রাম্প প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে অন্তত ১০ বার ট্রাম্প প্রকাশ্যে মুনিরের প্রশংসা করেছেন।

গত অক্টোবরে মিসরের শারম আল-শেখে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষে ভাষণে ট্রাম্প পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধানকে উল্লেখ করে মুনিরকে ‘প্রিয় ফিল্ড মার্শাল’ বলে অভিহিত করেন।

সম্পর্কের উষ্ণতায় পাকিস্তানের নতুন ভূরাজনৈতিক অবস্থান
২০২৫ সালের ভারত–পাকিস্তান চার দিনের সশস্ত্র সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র–পাকিস্তান নতুন কূটনৈতিক সম্পর্কের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। দুদেশই আকাশযুদ্ধে বিজয়ের দাবি করলেও ফলাফলের চেয়ে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক ব্যবহারকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুররম দস্তগীরের মতে, এই সংঘাত মুনিরকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরেছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছে।

Manual2 Ad Code

সংঘাত থেকে যুদ্ধবিরতি
২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরে বেসামরিক নাগরিক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়ে। হামলা ও পাল্টা হামলার তিন দিনের পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। পাকিস্তান এ ঘটনার কৃতিত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেয় এবং তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়নের উদ্যোগ নেয়।

তবে ভারত দাবি করে—সমঝোতা হয়েছে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই। এরপর একাধিক ভাষণে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনিই যুদ্ধ থামিয়েছেন এবং পাকিস্তানের দাবি সমর্থন করেন।

যুক্তরাষ্ট্র–পাকিস্তান সম্পর্কের ধারা পরিবর্তন
একসময়ই মার্কিন প্রধান মিত্র ছিল পাকিস্তান; তবে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে’ দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগে সম্পর্ক খারাপ হয়। এখন দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে কাবুল বোমা হামলাকারী ধরতে সহযোগিতার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান—যা সম্পর্কের মোড় ঘোরার সংকেত বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিল্ড মার্শাল মুনির কৌশলী সামরিক-কূটনৈতিক পদক্ষেপে পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন মিত্র হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন।

Manual8 Ad Code

ক্ষমতাকাঠামোতে মুনিরের উত্থান
ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল করা হয় এবং পরে নতুন পদ ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) যুক্ত হয়। ফলে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী তাঁর অধীনে আসে। পদোন্নতি ও ক্ষমতাবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনা থাকলেও বৈদেশিক সাফল্যে পাকিস্তান লাভবান হয়েছে।

বাংলাদেশ, মধ্য এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগসূত্র বৃদ্ধিও নজরকাড়া। ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বৈঠক, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং গাজায় শান্তিরক্ষা বাহিনীতে অংশগ্রহণের আগ্রহ পাকিস্তানকে নতুন ভূরাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

Manual6 Ad Code

বিদেশে সাফল্য, ঘরে বিতর্ক
বিদেশনীতি সফল হলেও দেশের অভ্যন্তরে সহিংসতা, স্বাধীনতা সংকোচন ও ২৭তম সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আসিম মুনিরের অতিরিক্ত ক্ষমতা, ইমরান খানের কারাবাস, বেলুচিস্তান সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যু গোপনে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বাইরের সাফল্যের আড়ালে—এমন মন্তব্যও আছে। তবে সমর্থকদের যুক্তি—রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও সংস্কারে সেনাবাহিনীর শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন ছিল।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৭৮
৯১০১১১১৩৪১৫
১৬১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৯
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code