দেশের রাজনীতি এখন গরম। দেশজুড়ে নির্বাচনী আবহ। সবাই অপেক্ষা করছে একটি রাজনৈতিক সরকারের। সবারই আশা, নতুন সরকার এলে সবার মধ্যে আস্থা ফিরবে। ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশল নিতে পারবেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের সময় থেকে বিপর্যস্ত অর্থনীতি বহু আকাঙ্ক্ষার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও গতিশীল না হওয়ায় সার্বিক অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়ে। ফলে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যিক পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা কখনো বলেন আইসিইউতে আছে; কখনো বলেন (রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ভালো থাকায়) ‘হৃৎপিণ্ড’ সচল, কিন্তু কিডনি ও লিভার (ব্যাংকিং খাত ভঙ্গুর ও রাজস্ব ঘাটতি) অকেজো। কর-জিডিপি অনুপাত কম থাকায় (১০ শতাংশের নিচে থাকলে) এমন অর্থনীতিকে কেউ কেউ ‘আর্থিক রক্তশূন্যতা’ও বলছেন।
সব মিলিয়ে বিনিয়োগ মন্দা, বড় রাজস্ব ঘাটতি, বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, অদক্ষ এডিপি বাস্তবায়ন ও হতাশাজনক জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারের কারণে একে অনেকে ‘মুমূর্ষু’ রোগীর সঙ্গেও তুলনা করছেন। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই অর্থনীতি বেশ চাপের মুখে। ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে যাওয়া রিজার্ভ কমতে কমতে ২১ বিলিয়নে এসে থামে।
৮৬ টাকার ডলার কিনতে হচ্ছে ১২৪-১২৫ টাকায়। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘর ছাড়িয়ে যায়। সেটিকে অন্তর্বর্তী সরকার এসে কমানোর জন্য দফায় দফায় সুদের হার বাড়িয়ে ১৪-১৬ শতাংশে নিয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে এলেও তা অসহনীয় মাত্রায় রয়েছে। আর ডিসেম্বরে এসে তা আবারও বেড়ে ৮.৪৯ শতাংশে পৌঁছে।
অথচ মজুরি সে হারে বাড়ছে না। মজুরি বাড়ছে ৮.০৮ শতাংশ হারে। অথচ মজুরি বাড়ার কথা ছিল মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি হারে। এই মূল্যস্ফীতি সহনীয় করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হারকে অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছে।
এর ফলে হয়েছে বিনিয়োগহীন মূল্যস্ফীতি। যাকে অর্থনীতির ভাষায় ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতা বলা হয়। এ সময় অর্থনীতি উচ্চমূল্যস্ফীতি থাকে। বিনিয়োগ থাকে না। আবার বেকারত্বও থাকে। এসবই এখন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিদ্যমান।
বেসরকারি খাতে বর্তমানে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬.৫৮ শতাংশ, যা অনেক কম। এর মানে হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশি সুদ আরোপ করে বাজারে টাকার প্রবাহ কমিয়ে রেখেছে। এর ফলে কেউ ঋণ নিতে পারছে না। কাঙ্ক্ষিত ঋণ না পাওয়ায় নতুন ব্যবসা বা কারখানা স্থাপন করা যাচ্ছে না। পুরনো ব্যবসারও সম্প্রসারণ থমকে আছে। এতে মানুষের কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। আবার নতুন নতুন বেকারও হচ্ছে। বর্তমানে অর্থনীতিতে বেকারত্ব বাড়ছে। প্রতিদিনই কেউ না কেউ বেকার হচ্ছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হচ্ছে।
সর্বশেষ একটি তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, শুধু ঢাকার পার্শ্ববর্তী গাজীপুর ও সাভার শিল্পাঞ্চলে ৩২৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এখানে বেকার হয়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষ। একদিন আগে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের একটি সেমিনারে রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতা এ কে আজাদ জানিয়েছে, ১২ লাখ মানুষ নতুন করে বেকার হয়েছে। আর আগামী ছয় মাসে আরো ১২ লাখ মানুষ বেকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই চিত্র থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বেসরকারি খাত কিভাবে ধুঁকছে। দেশি বিনিয়োগকারীরা তো বিনিয়োগ করতে পারছেনই না, বিদেশি বিনিয়োগও আসছে না। সরকারের সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৮ শতাংশ কমেছে। বেসরকারি খাতে এমন অবস্থা চলছে অথচ সরকারি খাত ঠিকই ব্যাংকের টাকা নিয়ে খরচ মেটাচ্ছে। সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ২৩ শতাংশ। যখন বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হয় না, উল্টো সরকার ব্যাংকের টাকা নিজে নিয়ে খরচ করে, তখন মূল্যস্ফীতি কমানোর যে কিতাবি কথা সেটিও কাজ করে না। অর্থনীতির ভাষায় এটিকে বলে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’। এর অর্থ হলো—একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কথা বলে বাজারে টাকার প্রবাহ কমাতে চায়, আবার বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকের টাকা ঋণ নিয়ে খরচ করছে। অর্থাৎ ব্যাংকের টাকা সরকার নিয়ে নেওয়ায় বেসরকারি খাত টাকা পাচ্ছে না।
Manual6 Ad Code
বলা যায়, বিনিয়োগে স্থবিরতা। এটি যখন হয়, তখন অর্থনীতিতে নানামুখী সংকট দেখা দেয়। এর ফলে কম্পানি ও ব্যক্তির আয় কমে। এতে রাজস্ব আয়ও কমে। যেটি এখন দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আদায় করার কথা ছিল দুই লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতি হওয়ার কারণেই সরকারকে ঋণ নিয়ে খরচ মেটাতে হচ্ছে। তহবিল সংকটে এডিপি বাস্তবায়নও থমকে আছে। প্রকল্পে অগ্রগতি নেই। বরাদ্দে কাটছাঁট চলছে। অর্থবছরের ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭.৫৪ শতাংশ, যা গত দুই দশকের মধ্যে সবনিম্ন। এডিপি ঠিকমতো বাস্তবায়ন না হলে প্রবৃদ্ধি থমকে যায়। এখন তাই চলছে। এডিপি বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ মানুষেরও আয় কমে, সরকারেরও রাজস্ব আয় কমে।
সরকারের আয় মানে কর-জিডিপি অনুপাত কম হলে সরকারের বিনিয়োগও কমে। কর-জিডিপি ১০ শতাংশে থাকতে হয়। বাংলাদেশে আছে ৮ শতাংশের নিচে। এটির অর্থ হলো—সরকারের পক্ষে বড় উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া কিংবা সামাজিক নিরাপত্তায় বড় কোনো বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাওয়া। সেটিই এখন ঘটছে বাংলাদেশে। এটিকেই অর্থনীতিবিদরা ‘রাজস্বের রক্তশূন্যতা’ বলছেন।
ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা কাটানো যায়নি। এ খাতে খেলাপি ঋণকে ‘ক্যান্সার’ বলা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, খেলাপি ঋণ যখন ১৭-২০ শতাংশ হয় এবং কিছু ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারে না, তখন সেই অর্থনীতিকে সুস্থ বলা কঠিন। বাংলাদেশে টাকা না দিতে পারা পাঁচটি ব্যাংককে মার্জ করা হয়েছে। এর ভুল বার্তাও গেছে। বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত শেষ। এখানে লেনদেন করা ঝুঁকিপূর্ণ। সামনে আরো কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে মার্জ করার কথা বলা হচ্ছে। এমনকি কয়েকটি রেখে সব ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়ার মতো কথাও শোনা যাচ্ছে। এসবই ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থা নির্দেশ করছে। আর এটি ইমজে সংকট বাড়িয়ে দিচ্ছে।
Manual7 Ad Code
ব্যবসায়ীদের কাছে তারল্য ও জ্বালানি হচ্ছে ‘অক্সিজেন’। এই দুটির সংকটকে তাঁরা ‘শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা’ বলছেন। এখন তারল্য ও জ্বালানি সংকট চলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, একটি কারখানার জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস হলো অক্সিজেন। বর্তমানে গ্যাসসংকটে অনেক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। উৎপাদন না থাকলে ব্যাংকঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যায়। তখন অর্থনীতি নাজুক হয়ে যায়। যাকে তাঁদের কেউ কেউ ‘মুমূর্ষু’ অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন।
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা এবং বিনিয়োগ মন্দা মিলে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা লুটপাটের সংস্কৃতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা সরবরাহ কমানোর জন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করলেও বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে এর সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। অন্যদিকে সুদের হার বৃদ্ধির ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকে স্থবির করে দিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের এই মন্দা অবস্থার কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা এখন বিনিয়োগের চেয়ে টিকে থাকার লড়াই করছেন বেশি। কারণ জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং আমদানির ক্ষেত্রে ডলার সংকটের ধকল এখনো পুরোপুরি কাটেনি।’
কোনো কোনো ব্যবসায়ী অর্থনীতির এই পরিস্থিতিকে যেহেতু স্টাগফ্লেশন বা স্থবিরতার সঙ্গে তুলনা করছেন, তার মানে হলো—এটি অর্থনীতির সবচেয়ে খারাপ অবস্থাগুলোর একটি। এমন অবস্থায় মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়। শেয়ারবাজার থেকেও মুখ ফিরিয়ে নেয়। বর্তমানে শেয়ারবাজার একেবারে নড়বড়ে অবস্থায়। লেনদেন দুই হাজার কোটি থেকে ৫০০ কোটির ঘরে নেমে এসেছে। সূচক ৫৭০০ পয়েন্ট থেকে ৫০০০ পয়েন্টের নিচে চলে এসেছে। আর এ রকম একটি অবস্থাকেও ব্যবসায়ীরা ‘মুমূর্ষু’ অবস্থা বলছেন।
Manual4 Ad Code
রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তা ও নিট খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফজলুল হক বলেন, ‘সরকারের কাজের কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাই না। যখন দেখি ৪৫ বছরের মধ্যে রাজস্ব বাজেটে ঘাটতির সময় আমলাদের বেতন দ্বিগুণ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এটা কিভাবে করেন তাঁরা? সমালোচনার পর সরে এসেছেন। কিন্তু চাপটা রেখে যাবেন পরের সরকারের জন্য। যদি পরের সরকারের ওপরই রেখে দেবেন, তাহলে মৌমাছির চাকে কেন ঢিল দিলেন? টাকাটা কোথা থেকে আসবে? সবকিছু অপরিকল্পিত। আশা করেছিলাম, এ সরকার অর্থনীতিটাকে ভালো করবে। কিছুই হলো না। রেমিট্যান্স ছাড়া সব খারাপ। কবে ভালো হবে জানি না। রপ্তানিও এখন চ্যালেঞ্জে। এর মধ্যে আবার সুতা আমদানিতে ৪০ শতাংশ বেশি শুল্ক আরোপের কথা বলা হচ্ছে। অদ্ভুত সব ব্যাপার!’
তথ্য-উপাত্ত বলছে, ২০২৬ সালে এসেও অর্থনীতি একটি জটিল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। রাজস্ব আয়ে মন্দার কারণে প্রচুর ঋণ করছে। বর্তমানে মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির প্রায় ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে। রপ্তানি আয় ভালো অবস্থায় থাকলেও সেটিও গত তিন মাস ধরে টানা কমছে। ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৪ শতাংশ। রপ্তানিকারকরা বলছেন, মার্কিন শুল্কের প্রভাব রয়েছে। এখন নতুন করে সুতা আমদানিতে ৪০ শতাংশ বেশি শুল্ক আরোপের কথা বলা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।
Manual6 Ad Code
অর্থনীতির স্লথগতির প্রভাব পড়েছে শ্রমবাজারে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ২০ লাখ। বর্তমানে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৭ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশের ঘরে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতেন। সেটিও এখন নাজুক। বিশেষ করে ফ্লোরপ্রাইস’ তুলে দেওয়ার পর থেকে অনেক শেয়ারের দর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে। যার ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিঃস্ব রয়েছেন। সাংঘর্ষিক নীতি, আস্থাহীনতা আর কারসাজির ভয়ে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের চেয়ে ব্যাংকে টাকা রেখে ১১ থেকে ১২ শতাংশ মুনাফা তুলবেন—সেটিকেই মন্দের ভালো বলে মেনে নিচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এই ‘সংকট’ অবস্থা থেকে টেনে তুলতে হলে আমূল এবং গুণগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে। রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সরকারকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রবাহ আরো কমিয়ে দিচ্ছে। এই দুষ্টচক্র থেকে বের হতে হলে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, এনবিআরের আমূল সংস্কার এবং তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড এখনো সচল থাকলেও এর প্রধান অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার নিরাময় কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আপসহীন সংস্কারের মাধ্যমেই সম্ভব।”