বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ: ভোটাররা চান রাস্তা সংস্কার, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা
বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ: ভোটাররা চান রাস্তা সংস্কার, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
মিলাদ জয়নুল:
Manual3 Ad Code
রাস্তার পাশে চায়ের দোকান। সেখানে বসে আছেন যুবক, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী পুরুষ। ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে ভোটের আলাপ নিয়ে মশগুল হয়েছেন তাঁরা। নির্বাচনে কোন প্রার্থী জিততে পারেন, কোন প্রার্থী কেমন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে চলছে জোরালো তর্কবিতর্ক। চা বানাতে ব্যস্ত দোকানিও মাঝেমধ্যে তাঁদের আলাপে শামিল হচ্ছেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকায় গিয়ে সরজমিন এই চিত্র দেখা যায়।
সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই জনপদের মানুষ রাস্তাঘাট নিয়ে সবচেয়ে বেশী অবহেলিত। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নদী ভাঙ্গন, স্বাস্থ্যসহ মৌলিক অধিকারের বিষয়গুলো নিযে তারা বেশী দূর্ভোগে আছেন। তাছাড়া আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।
Manual7 Ad Code
Manual3 Ad Code
৫ লক্ষাধিক ভোটারের এই সিলেট-৬ আসনে ভোটের মাঠে এবার ৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজ ফখরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুন নুর এবং গণঅধিকার মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জাহিদুর রহমান।
বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকানগুলোয় গল্প-আড্ডার প্রধান বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে নির্বাচন। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোট এলে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘোরেন; কিন্তু ভোটে জয়ী হলে আর তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না। তাঁদের কাছের লোকেরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। আর সাধারণ ভোটারদের দুঃখ-কষ্ট রয়েই যায়।
Manual5 Ad Code
কসবা গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, ‘যে আমাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে, আমাদের দুঃখ-কষ্টগুলো বুঝবে, আমরা এমন প্রার্থীকেই ভোট দেব। আমাদের উপজেলাকে সুন্দরভাবে যে সাজাবে, আমরা চাই সে-ই বিজয়ী হোক।’
শ্রীধরা গ্রামের আহমদ মহসিন বাবর বলেন, ‘যে ভালো কাজ করবে, জনগণের পাশে দাঁড়াবে, আমরা এমন মানুষকে ভোট দেব। আমরা একজন জনবান্ধব এমপি চাই।’
একই গ্রামের শিক্ষক শামীম আহমদ বলেন, ‘আমাদের এই উপজেলার স্কুল-কলেজগুলো অবহেলিত থাকে। প্রচুর শিক্ষক সংকট, বেকার সমস্যাও বেশি। তাই বেকার সমস্যা বিষয়ে যে বেশি গুরুত্ব দেবে এবং বেকার সমস্যা দূরীকরণের জন্য যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, আমরা তাকেই ভোট দিতে চাই।’
কালাইউরা গ্রামের তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা এমন একজন এমপি দেখতে চাই, যিনি সৎ এবং যোগ্য। যিনি সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। সুখ-দুঃখে মানুষের হয়ে কাজ করবেন। স্বাস্থ্য খাতে নজর দেবেন। আমাদের হাসপাতালে কোন চিকিৎসক নেই। রোগীরা সেবা পাচ্ছেনা। এমন একজন মানুষকেই আমরা এমপি হিসেবে চাই।’
খাসা গ্রামের মনসুর আহমদ বলেন, ‘আমাদের উপজেলার রাস্তাঘাটের সংকট খুব বেশী। কোন রাস্তাই চলাচলের উপযোগী নয়। সাধারণ মানুষের খুব কষ্ট হয়। আমরা এমন একজন এমপি চাই, যিনি রাস্তা সংস্কার, স্বাস্থ্য খাত ও শিক্ষায় বেশি নজর দেবেন।’
চারখাইয়ের চায়ের দোকানি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে চায়ের দোকানে প্রতিদিনই ভিড় হয়। চায়ের দোকানে একটাই আলোচনা, তা হলো নির্বাচন। কে হবে আগামীর এমপি? যারা চা খেতে আসছেন, প্রার্থীদের নিয়ে তাঁরা কথা বলছেন। তবে তাঁদের একটাই চাওয়া, এমপি যিনি হন, তিনি যেন জনবান্ধব হন। ভোটের এই গল্পগুলো আমি চা বানাই আর শুনতে থাকি।’
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ওমর ফারুক বলেন, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বিয়ানীবাজার এলাকায় এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের পুলিশ, প্রশাসন সবসময় সজাগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে হাবীবা মজুমদার বলেন, ‘সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা। আমাদের প্রশাসন সব সময় তৎপর রয়েছে।’