প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে, তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার শীর্ষে, তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন

Manual5 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

Manual4 Ad Code

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে লন্ডনে প্রায় দুই দশক স্বেচ্ছানির্বাসনের ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখান থেকে দেশে ফিরে মাত্র দেড় মাসের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি।

একসময় যার ওপর দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর দমন-পীড়ন নেমে এসেছিল, সেই নরম স্বভাবের ৬০ বছর বয়সী নেতা এখন দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Manual3 Ad Code

 

২০০৮ সালে সেনাবাহিনী-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার ও কারাবন্দি অবস্থায় অমানবিক নির্যাতনের পর চিকিৎসার প্রয়োজন দেখিয়ে দেশ ছাড়েন তারেক। প্রায় ১৬ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় ফেরেন।

ফেরার দিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো নেতাকর্মীর ভিড়, ঢাকায় বিজয়ী প্রত্যাবর্তনের আবেগ- সব মিলিয়ে এক নাটকীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেশের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সময়ের স্রোত এত দ্রুত বয়ে গেছে যে, নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেও যেন সময় পাননি তিনি। গত শনিবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, যেদিন থেকে দেশে নেমেছি, সময় কীভাবে কাটছে বুঝতেই পারছি না।

 

তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বংশ পরম্পরার একটি প্রতীকী নাম। তার মা বেগম খালেদা জিয়া, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের বিএনপি প্রধান, যিনি গত ৩০ ডিসেম্বর দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যুবরণ করেন। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচদিনের মাথায় মাকে হারান তারেক রহমান।

তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ১৯৭৭-১৯৮১ মেয়াদের রাষ্ট্রপতি। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার মৃত্যু দেশকে আবারও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। তিন বছর পর খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাতে হাত মিলিয়েছিলেন। পরে দুই নেত্রীর বৈরিতা বাড়তে বাড়তে ‘ব্যাটলিং বেগমস’ আখ্যা পায়।

 

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের দিকে বিএনপি

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি পেয়েছে ২০০টির বেশি আসন, যা দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিজয়গুলোর একটি। ২০০১ সালে তারা পেয়েছিল ১৯৩টি আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অবশ্য আওয়ামী লীগ ২৩০টির বেশি আসন জিতেছিল। তারপর আওয়ামী লীগের অধীনে হওয়া তিনটি নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে।

এদিকে, গণঅভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলতে গেলে একপ্রকার ব্যর্থই হয়েছে। ১১ দলীয় জোট থেকে নির্ধারিত ৩০টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে মাত্র ছয়টি।

Manual7 Ad Code

রাস্তায় বিপুল উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ভোটে তা রূপ দিতে পারেনি দলটি। নির্বাচনের আগেই জরিপে এমন ইঙ্গিত ছিল। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আপস করে এনসিপির জোট গঠনের বিষয়টি অনেক তরুণ সমর্থকের কাছে দলের আদর্শবিরোধী হিসেবে ধরা পড়েছে।

 

গণভোটেও জয়ের ইঙ্গিত

জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি সাংবিধানিক গণভোট। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, বিভিন্ন জরিপ ও স্থানীয় টিভির তথ্য অনুযায়ী- হ্যাঁ ভোট ২০ লাখের বেশি আর না ভোট ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি।

গণভোটের যেসব প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য- নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদ, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও দৃঢ় করা, প্রধানমন্ত্রীদের জন্য দুই মেয়াদে ১০ বছর সীমা

বিএনপির নীরব উদযাপন, শুক্রবার বিশেষ দোয়ার ডাক

Manual6 Ad Code

নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরও বিএনপি কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা না করার নির্দেশ দিয়েছে। দলের বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে বিজয় সত্ত্বেও কোনো বিজয় মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে না। বরং দেশের কল্যাণে জুমার নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

সামনে কোন পথে তারেক রহমান?

তারেক রহমান এখনো নিজেকে ‘রাজনৈতিক বংশধর’ হিসেবে নয়, বরং ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের নেতৃত্ব’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ কেবল গণতন্ত্র চর্চার মধ্য দিয়েই সম্ভব। পররাষ্ট্রনীতির পুনর্বিন্যাস, বিনিয়োগ বাড়ানো, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি ও নতুন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা- সব মিলিয়ে তিনি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছেন।

এদিকে, তারেক রহমানের আকস্মিক উত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নও তুলেছে। তরুণদের নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের ঢেউ এসেছিল, তা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়নি। আবার, দুই দলের আধিপত্যের পরিচিত কাঠামোয় বিএনপির এই বিজয় অনেকের কাছে প্রত্যাবর্তন বলেই ধরা পড়ছে।

আবার গণভোটের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার প্রতি জনসমর্থনও স্পষ্ট। সব মিলিয়ে ২০২৪-২০২৫ সালের এই অধ্যায় ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে আঁকতে পারে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code