ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে শপথ নেবেন এটি স্পষ্ট। তবে শপথ নিয়ে তারেক রহমানের চেয়ারে বসতে আরও কিছু সাংবিধানিক ধাপ রয়েছে।
যার মধ্যে রয়েছে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও শপথ পাঠ। এর মাধ্যমেই নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকালের অবসান এবং নির্বাচিত সরকারের পথচলা শুরু হবে।
সংসদ সদস্যদের শপথ:
ইতোমধ্যে যে বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে। গেজেট প্রকাশের আগে আর কতটুকু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে সে সম্পর্কে শুক্রবার দুপুরে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে ফাইনাল রেজাল্ট শিটটা আসবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা (শুক্রবার) সন্ধ্যা নাগাদ হার্ডকপিতে বা স্পেশাল মেসেঞ্জারে পাঠাবেন।
সবগুলো রেজাল্ট শিট আসার পর সেই শিটের সঙ্গে বার্তা শিটটা ম্যাচ করে একত্রে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি। সংবিধানের তৃতীয় তফসিলের বিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার পড়ান। তবে স্পিকারের পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় তাদের শপথ পাঠ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।
তবে শপথ পাঠের পরবর্তী পদ্ধতি সংবিধানেই বলা আছে। সংবিধানের ১৪৮(২)ক অনুচ্ছেদে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে এই সংবিধানের অধীন এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তদুদ্দেশ্যে অনুরূপ ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনো ব্যক্তি যে কোনো কারণে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ পরিচালনা করিতে ব্যর্থ হইলে বা না করিলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উহার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে উক্ত শপথ পাঠ পরিচালনা করিবেন, যেন এই সংবিধানের অধীন তিনিই ইহার জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি।
Manual2 Ad Code
প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ:
Manual3 Ad Code
সংসদ সদস্যগণ শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি, যে দল বা জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জিতেছে, অর্থাৎ ১৫১টি বা তার বেশি আসনে জয়ী হয়েছে, তাকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাবেন। তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের আস্থাভাজন হিসেবে প্রথমে সংসদ নেতা হবেন এবং এরপর আমন্ত্রণ পেয়ে নতুন সরকার গঠন করবেন।
এ বিষয়ে সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বিষয়ে বলা হয়েছে, ৫৬।
(১) একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রী থাকিবেন।
(২) প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদিগকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করিবেন।
Manual3 Ad Code
(৩) সংসদ-সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাঁহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন।
প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের পদের ক্ষমতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এর মধ্য দিয়েই আগের সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হয়ে নতুন সরকার গঠন হয়ে যাবে।
কারণ, সংবিধান অনুযায়ী শপথ গ্রহণ হয়ে গেলেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে গণ্য হবে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “এই সংবিধানের অধীন যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পক্ষে কার্যভার গ্রহণের পূর্বে শপথগ্রহণ আবশ্যক, সেই ক্ষেত্রে শপথগ্রহণের অব্যবহিত পর তিনি কার্যভার গ্রহণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।’’
Manual1 Ad Code
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংবিধানের এই প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে হয়তো আরও চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগরন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, যেহেতু সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়নি। গেজেট প্রকাশের তিনদিনের মধ্যে শপথ পড়াতে হবে। যেহেতু স্পিকার/ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। কিন্তু এবার স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কেউ না থাকায় রাষ্ট্রপতি কাউকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন। এরপর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ ও শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
শপথ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ১২ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের বলেন, ১৭ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই, অর্থাৎ রমজানের আগেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ফলাফলের গেজেট নোটিফিকেশনের পর যত দ্রুত সম্ভব সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে। এরপর নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করবে।