সিলেট-৬ আসনে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনের পরাজয়ের নেপথ্যে
সিলেট-৬ আসনে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনের পরাজয়ের নেপথ্যে
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
Manual4 Ad Code
স্টাফ রিপোর্টার:
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ঢাকা মহানগর (উত্তর) জামায়াতে ইসলামীর আমির। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬, (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে ব্যাপক আলোচনায় থাকা ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। শুরু থেকে সিলেট-৬ আসনের ভোটের মাঠে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। হাটে-ঘাটে মাঠে সর্বত্রই ছিলেন তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
এই আসনে অন্য প্রার্থীর থেকে এগিয়ে ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী কৌশল, নিজ এলাকায় একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় তিনি ভোটের লড়াইয়ে হেরে যান। একই সাথে কার্যক্রম নিষিদ্ধ নীরব আওয়ামী লীগের ভোট ভাগে আনতে পারেননি তিনি। এই আসনে তাকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ)।
জানা যায়, এই- আসনে ১১-দলীয় জোটের হেভিওয়েট প্রার্থী ও ঢাকা (উত্তর) জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এ আসনে এ দুই প্রার্থীসহ তিনজন প্রার্থী ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ ফলাফল ঘোষণার পর গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
Manual4 Ad Code
Manual8 Ad Code
নির্বাচনি মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা ৫ প্রার্থীর মধ্যে ১১-দলীয় জোট প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ ৪ জনের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলায়। আর বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর বাড়ী গোলাপগঞ্জ উপজেলায়। বিয়ানীবাজার চেয়ে ভোটও বেশি গোলাপগঞ্জে। সেলিম উদ্দিনের সঙ্গে একই উপজেলার স্বতন্ত্র প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হেভিওয়েট প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুন নূর। তারাও ভোটে ভাগ বসান। ফলে সেলিম উদ্দিন এককভাবে বিয়ানীবাজার উপজেলার ভোট টানতে পারেননি।
এদিকে গোলাপগঞ্জে একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী থাকায় ছিলেন সুবিধাজনক অবস্থানে। তিনি গোলাপগঞ্জে প্রায় ৭১ হাজার ভোট পান। তার সঙ্গে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াত নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন প্রায় ৫৬ হাজার ভোট। বিয়ানীবাজার থেকে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রায় ৪১ হাজার ভোট পেলেও অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার ভোট।
Manual6 Ad Code
অনেকেই বলছেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার ৪ জন প্রার্থী থাকা এবং আওয়ামী লীগের নীরব ভোট টানতে না পারা সেলিম উদ্দিনের ভরাডুবির কারণ। আর অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী গোলাপগঞ্জে একক প্রার্থী থাকা এবং অন্যদিকে ভোট বেশি থাকায় তার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৬১২টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতা ও ১১-দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮। এ হিসেব মতে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী ১০ হাজার ৮৬৪ ভোটের ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লার সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে তিনি বিজয় অর্জন করেন।