১,৭৪৩ কোটি টাকা পরিশোধের মাধ্যমে বিদ্যুতের ভর্তুকির যাত্রা শুরু
১,৭৪৩ কোটি টাকা পরিশোধের মাধ্যমে বিদ্যুতের ভর্তুকির যাত্রা শুরু
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
Manual5 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
বিদ্যুৎ বিক্রির ক্ষতির ভর্তুকি পরিশোধের মাধ্যমে নতুন সরকারের ভর্তুকির যাত্রা শুরু হলো। বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতি মোকাবেলার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রকৃত ক্ষতি বাবদ ১,৭৪৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অনুকূলে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অর্থ সচিবের এ সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মাধ্যমে নতুন সরকারের ভর্তুকি দেওয়া শুরু হলো।
Manual1 Ad Code
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম মূল্যে বিদ্যুৎ বিক্রয়ের কারণে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের লোকসান মিটানোর লক্ষ্যে ভর্তুকি দেওয়া অব্যাহত আছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার (আইপিপি), রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট এবং ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য অপেক্ষা কমমূল্যে বাল্ক কনজিউমারস- এর নিকট বিদ্যুৎ বিক্রয় করার ফলে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ট্যারিফ ঘাটতি বাবদ মোট ২,৭৯১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা বিদ্যুৎ ভর্তুকি দাবি করা হয়েছে।
Manual4 Ad Code
বিদ্যুৎ বিভাগের ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের ভর্তুকি চাহিনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট বিক্রয়মূল্য হতে বিপিডিবি কর্তৃক বিইআরসি-এর ‘বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল’- এ প্রদত্ত ০.১৫ টাকা/ইউনিট বিয়োগ করে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট বিক্রয়মূল্য হিসাব করা হয়েছে। ফলে উক্ত টাকাও ভর্তুকি চাহিদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
যেহেতু অতীতে কখনও বিইআরসির ‘বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল’- এর টাকা অর্থ বিভাগ ভর্তুকি আকারে দেয়নি, সেহেতু পূর্বের একই ধারাবাহিকতায় উক্ত ০.১৫ টাকা/ইউনিট যোগ করে প্রতি ইউনিট বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে ভর্তুকির প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পাওয়ার ইমপোর্ট ফ্রম ইন্ডিয়া থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ইতোপূর্বে কখনো ভর্তুকি দেওয়া হয়নি।
Manual4 Ad Code
উল্লেখ্য, অর্থ বিভাগের ০৬/১২/২০১৬ এবং ১৯/০১/২০২৬ তারিখে জারিকৃত আর্থিক ক্ষমতা পুনঃনির্ধারণ সংক্রান্ত পরিপত্র অনুযায়ী গণখাতে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনুন্নয়ন খাতে ৫০ কোটি টাকার উর্ধ্বে সকল ক্রয় প্রস্তাবে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা/উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন।
বিগত ১৪ মে ২০২৫ হতে অনুমোদনবিহীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের ট্যারিফ সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন গ্রহণের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে একাধিক চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়।
ভর্তুকি প্রস্তাবের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৮৭টি IPP ও ৯টি RPP সহ মোট ৯৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে অদ্যাবধি Bangladesh China Power Company Ltd. (BCPCL) Bangladesh India Friendship Power Company Ltd. (BIFPCL)-এই দুইটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্যারিফের বিষয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি হতে অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি। এমতাবস্থায়, এই দুইটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া ভর্তুকি বর্তমানে দেওয়ার সুযোগ নেই।
সুতরাং ‘বিদ্যুৎ খাত উন্নয়ন তহবিল’- এর জন্য কর্তনকৃত ০.১৫ টাকা/ইউনিট সমন্বয়পূর্বক এবং Power Import from India বাবদ দাবিকৃত ১৩৫.৬৯ কোটি টাকা ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রী/উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন নেই এরূপ ২টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঘাটতি বাবদ দাবিকৃত ৮৫৩.১৭ কোটি টাকা বাদ দিয়ে ৮৫টি IPP এবং ৯টি RPP এর বিপরীতে জানুয়ারি/২০২৬ মাসের প্রকৃত ক্ষতির পরিমান ১,৭৪৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত (২৩ মাস) সময়ের বিদ্যুৎ খাতের ক্রমপুঞ্জিভুত ট্যারিফ ঘাটতির ৫৯,৬০০ কোটি টাকা গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দ থেকে পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ‘বিদ্যুৎ ভর্তুকি’ খাতে ৩৬,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
উক্ত বরাদ্দ হতে এ পর্যন্ত ছাড় করা হয়েছে ২০,২৯৯ কোটি টাকা; ফলে অব্যয়িত রয়েছে (৩৬,০০০-২০,২৯৯)=১৫,৭০১ কোটি টাকা। এ পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রকৃত ক্ষতি বাবদ ১,৭৪৩.৩২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অনুকূলে ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।
এ অবস্থায়, বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতি মোকাবেলা বাবদ Independent Power Producer (IPP) এবং Rental Power Plant (RPP) এর বকেয়া বিল পরিশোধের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষতির সম্পূর্ণ ইতোমধ্যে পরিশোধ করায় বর্তমানে ৮৫টি। PP এবং ৯টি RPP এর বিপরীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের যাচাইকৃত প্রকৃত ক্ষতি ১,৭৪৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে অর্থ বিভাগের অধীন ভর্তুকি ও প্রণোদনা ব্যবস্থাপনা খাত দেওয়া হয়েছে।
ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত দিয়েছে: (ক) ট্যারিফের বিষয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা/উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন না থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্রুত অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে: (খ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিপরীতে ইতঃপূর্বে ছাড়কৃত ভর্তুকির সঙ্গে বর্তমানে অনুমোদিত ট্যারিফ রেট অনুযায়ী প্রকৃত ভর্তুকি সমন্বয় করতে হবে এবং এ বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে নিশ্চিত করতে হবে; (গ) এ অর্থ ৮৫টি IPP এবং ৯টি RPP-এর বিল পরিশোধ ব্যতীত অনা কোনো উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাবে না: (ঘ) অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে; ( ৪) এ অর্থ দিয়ে বিল পরিশোধের বিবরণী পরবর্তী প্রস্তাবের সামে দাখিল করতে হবে; (৫) IPP, Rental Power Plant & Quick Rental Power Plant-এর মাসভিত্তিক আর্থিক ক্ষতির বিবরণী পৃথকভাবে পরবর্তী মাসের ১ম সপ্তাহের মধ্যে অর্থ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে; (৬) এ অর্থ ভবিষ্যতে অডিটের মাধ্যমে নিরুপিত মোট প্রদেয় অর্থের সাথে সমন্বয় করতে হবে; (জ) PPA-এ ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ যৌক্তিকভাবে হ্রাস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (৭) সুষ্ঠু ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে পিডিবি, অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটসমূহে Real Time Data নির্ভর ইআরপি (ERP) সফটওয়্যার অতিসত্বর বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; এবং (৮) আর্থিক শৃংখলা ও জাতীয় বাজেট ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ আদেশ, ২০১৫ অনুযায়ি fiscal burden বা আর্থিক সংশ্লেষ সম্বলিত বিষয়াবলী (যেমন: বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি নবায়ন অথবা নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন) বিবেচনার জন্য অর্থ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে।