প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দম্ভচূর্ণ

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের দম্ভচূর্ণ

Manual3 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি ইতোমধ্যেই মার্কিন জনগণের কাছে বেশ অজনপ্রিয় হয়ে গেছে। এ যুদ্ধ এখন আরও জটিল ও সমস্যাপূর্ণ এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এর কারণ হলো খবর এসেছে যে ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।

এখনো অনেক কিছুই আমাদের অজানা। ওই বিমানের দুই ক্রু সদস্যের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানা যায়নি। সিএনএন রিপোর্ট করেছে, তাদের একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনি চিকিৎসাধীন, তবে অন্যজনের ভাগ্য সম্পর্কে আমরা এখনো জানি না।

এর পর পরই আরেকটি খবরে জানা যায়, ইরান গত শুক্রবার আরও একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে। তবে পাইলট দক্ষতার সঙ্গে বিমানটিকে ইরানের সীমার বাইরে নিয়ে গিয়ে ইজেক্ট করেন। এরপর তাকে উদ্ধার করা হয়।

এই ঘটনাগুলোর কোনোটিই এমনটা বোঝায় না যে ইরান হঠাৎ করেই সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মার্কিন হতাহতের সংখ্যাও সীমিত, গত তিন সপ্তাহে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

কিন্তু যে যুদ্ধে সামরিক আধিপত্যই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি, সেখানে এই ঘটনাটি ‘অসম যুদ্ধের’ বিপদকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ইতোমধ্যে এর জন্য মাশুল গুনতে অনীহা প্রকাশ করছে।

এই ঘটনাগুলো ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে এক মাস ধরে তারা যে ‘অভেদ্য’ ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছিল, তাতেও ফাটল ধরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি এর আগেও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান ঘটনাটি তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।

Manual2 Ad Code

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরানের ওপর দিয়ে বিমান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। তারা তেহরানকে এমনভাবে তুলে ধরছিলেন যেন তাদের যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে প্রতিহত করার কোনো ক্ষমতাই নেই।

গত ৪ মার্চ এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেছিলেন, ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ আধিপত্য খুব শিগগির অর্জিত হতে যাচ্ছে।

হেগসেথ বলেছিলেন, ‘গত রাত থেকে (৩ মার্চ) শুরু করে আগামী কয়েক দিন বা এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি বিমানবাহিনী ইরানি আকাশপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে।’ তিনি একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশপথ’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

Manual6 Ad Code

তিনি আরও বলেছিলেন, যোগ করেন, ‘ইরান একে প্রতিরোধ করতে পারবে না।’

ট্রাম্পও গত দুই সপ্তাহ ধরে এই আকাশপথের আধিপত্যের কথা ফলাও করে প্রচার করছেন। ২৪ মার্চ তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের বিমানগুলো আক্ষরিক অর্থেই তেহরান এবং তাদের দেশের অন্যান্য অংশের ওপর দিয়ে উড়ছে; তারা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারছে না।’

Manual1 Ad Code

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারে এবং ‘তারা কিছুই করতে পারবে না।’

প্রেসিডেন্ট কয়েক সপ্তাহ ধরে বলে আসছেন, ইরানের ‘কোনো নৌবাহিনী নেই,’ ‘কোনো সেনাবাহিনী নেই,’ ‘কোনো বিমানবাহিনী নেই’ এবং ‘কোনো বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই’।

১ মার্চ রাতে হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে তিনি জানান, তিনি ইরানের তেল স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে পারেন এবং তাদের কিছুই করার থাকবে না।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের কোনো বিমান বিধ্বংসী সরঞ্জাম নেই। তাদের রাডার ১০০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। সামরিক শক্তি হিসেবে আমরা অপ্রতিরোধ্য।’

এটা ঠিক, হাজার হাজার বিমানের মধ্যে মাত্র দুটি বিমান ভূপাতিত হয়েছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে জোর দিয়ে বলেছে, কিছু বিপত্তি আসতে পারে, এমনকি প্রাণহানিও হতে পারে। হেগসেথ ৪ মার্চের সেই একই ব্রিফিংয়ে স্বীকার করেছিলেন যে এমন পরিস্থিতি হতে পারে যেখানে ‘ইরান কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যভেদ করতে পারে বা দুঃখজনক কিছু ঘটতে পারে।’

কিন্তু আকাশপথে সামরিক আধিপত্য নিয়ে প্রশাসনের দাবিগুলো ছিল চরম। যে দাবি করতে গিয়ে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ এবং ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আকাশপথ’-এর মতো শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি তারা ইরানকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে যেন পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো অস্ত্রশস্ত্রও তাদের কাছে নেই।

এটি ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠদের দ্বারা সামরিক সাফল্যকে অতিরঞ্জিত করে দেখানোর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ মাত্র।

গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর ট্রাম্প বারবার বলেছিলেন, দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ‘নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে এবং এটি আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে তেমনটা দেখা যায়নি। আর ঠিকই ৯ মাস পর প্রশাসন আবার হঠাৎ করেই ইরানকে আসন্ন পারমাণবিক হুমকি হিসেবে প্রচার শুরু করে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছু দিন পরেই ট্রাম্প একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ইরানকে দায়ী করেছিলেন। পরে প্রাথমিক তদন্ত এবং অন্যান্য প্রমাণ থেকে জানা যায়, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রই চালিয়েছিল।

৩ এপ্রিল সিএনএন রিপোর্ট করেছে, ইরানের মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ছিল অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আআরজিসি) এখনো তাদের সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক অবশিষ্ট আছে।

এসবের রাজনৈতিক সমস্যা হচ্ছে, সামরিক সাফল্যকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রধান অর্জন হিসেবে ধরে নিয়েছিল।

মার্কিন জনগণের এই অভিযানের ওপর আস্থা খুব কম। তারা মনে করেন না যে এর উদ্দেশ্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যুদ্ধের চারটি লক্ষ্যের তালিকা বারবার বদলে ফেলছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর সম্ভবত সবচেয়ে বড় সমস্যাটি হলো অর্থনৈতিক মন্দা, যা হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এটা ঘটেছে। মার্কিনিরা একেবারেই মনে করেন না যে যুদ্ধটি এত ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার মতো মূল্যবান কিছু।

পুরো সময়ে হেগসেথ যুক্তি দিয়েছেন যে মিডিয়া এই সামরিক অভিযানের সাফল্যকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না।

Manual1 Ad Code

৪ মার্চের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ফেক নিউজ (ভুয়া সংবাদ), যা এড়িয়ে যাচ্ছে তা হলো আমরা কোনো স্থলসেনা ছাড়াই ইরানের আকাশপথ এবং জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছি।’

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এক মাস পর দেখা যাচ্ছে সেই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি এখনো বড় ব্যতিক্রম হিসেবে রয়ে গেছে। ইরানের আকাশপথের নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করার বিষয়টি বিজ্ঞাপনে যতটা প্রচার করা হয়েছে, বাস্তবে ততটা পূর্ণাঙ্গ বলে মনে হচ্ছে না।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code