প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কীভাবে মধ্যস্থতা করলো পাকিস্তান?

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে কীভাবে মধ্যস্থতা করলো পাকিস্তান?

Manual8 Ad Code

 

প্রজন্ম ডেস্ক:

অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার আয়োজন করতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তার সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা ‘সব জায়গায়’ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।

 

শেহবাজ শরিফ বলেন, এর আগে ট্রাম্প ও তেহরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেটির ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ‌‘‘গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বড় কূটনৈতিক বিজয় অর্জন করেছে পাকিস্তান।’’

‘‘এটি সেই সব সংশয়বাদী ও নেতিবাচক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের ভুল প্রমাণ করেছে; যারা মনে করেছিলেন পাকিস্তানের এমন এক জটিল ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার সক্ষমতা নেই।’’

• ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কেমন?

তেহরানে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি বলেন, ‘‘এই অঞ্চলের একমাত্র দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের শক্তিশালী গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।’’

 

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইরানের সঙ্গে দেশটির ৯০০ কিলোমিটার (৫৬০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংযোগও রয়েছে।

ইরানের পর পাকিস্তান হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ।

 

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর পাকিস্তানকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল ইরান। পাকিস্তানও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সেই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে একইভাবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রতিদান দিয়েছিল।

 

Manual5 Ad Code

ওয়াশিংটনে তেহরানের কোনও দূতাবাস না থাকায় সেখানে ইরানের কিছু কূটনৈতিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে পাকিস্তান।

 

• যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক কেমন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। বিভক্ত কাশ্মির ঘিরে পাকিস্তান ও ভারতের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার মাঝে গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ওয়াশিংটন সফর করেন তিনি। সেই সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এই প্রধানকে সামরিক পোশাকের বদলে পশ্চিমা স্যুটে দেখা যায়।

ভারত-পাকিস্তানের মাঝে সেই সংঘাতের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘‘সাহসী ও দূরদর্শী’’ হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছিলেন শেহবাজ শরিফ। আর অসীম মুনির বলেছিলেন, পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশীর মাঝে সংঘাতের অবসানে মধ্যস্থতা করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য।

ইরান সঙ্গে সংঘাত ইস্যুতে ট্রাম্প বলেছেন, পাকিস্তান ওই দেশটিকে ‘‌‘অন্যদের চেয়ে ভালো’’ জানে। পরিবর্তনশীল কৌশলগত স্বার্থের কারণে প্রায়ই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিলেও দীর্ঘকাল ধরে সেই সম্পর্ককে জোরদার করতে সহায়তা করেছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক।

 

এমনকি ৯/১১ হামলা পরবর্তী ‘‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধে’’ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বাইরের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় ন্যাটো জোটের সৈন্যদের ওপর হামলায় জড়িত জঙ্গিদের পাকিস্তান আশ্রয় দিচ্ছে বলে সেই সময় অভিযোগ করা হয়।

২০১১ সালে ইসলামাবাদকে না জানিয়ে পাকিস্তানি ভূখণ্ডে ঢুকে মার্কিন সৈন্যরা অভিযান চালিয়ে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। সেই সময় আল-কায়েদার ওই পলাতক নেতাকে পাকিস্তান আশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করে ওয়াশিংটন।

 

• আঞ্চলিক অন্য পক্ষগুলোর ভূমিকা কী?

Manual8 Ad Code

২০২৫ সালে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। এই চুক্তি দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও মজবুত করলেও ইরানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের জন্য সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।

শরিফ ও তার সরকার রিয়াদকে পাশে রাখতে তৎপর এবং সম্প্রতি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আলোচনার জন্য দেশটিতে সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। বেইজিংয়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে পাকিস্তানের। এএফপিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে সহায়তা করেছে বেইজিং।

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সংঘাতের সমাধানের বিষয়ে আলোচনার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। এরপর এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বেইজিংয়ে যান তিনি।

এরপর ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীন দীর্ঘদিনের দক্ষিণ এশীয় মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে একটি পরিকল্পনার আহ্বান জানায়। ‘‘পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তানের অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের’’ প্রতি সমর্থন জানায় চীন।

 

Manual5 Ad Code

• মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের লাভ কী?

পাকিস্তানের জন্য নিরপেক্ষ থাকা অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক। কারণ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান এবং দেশটি নিজের ঘরের দোরগোড়ায় নতুন করে কোনও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চায়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতো, দাম বেড়ে যেতো এবং অর্থ সংকটে থাকা পাকিস্তানের সরকারের ওপর আরও কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতো।

যুদ্ধের স্থায়ী অবসান কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই বাড়াবে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের অবস্থানকেও উন্নত করবে। তবে এমন এক সময়ে এই মধ্যস্থতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যখন দেশটি প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার এক বছরও পার হয়নি।

 

Manual1 Ad Code

• পাকিস্তানের পরবর্তী ভূমিকা কী হবে?

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, তিনি আগামী ১০ এপ্রিল থেকে রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাবেন।

দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত দুররানি বলেন, ‘‘ইরান ইসলামাবাদে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এ কারণেই তারা পাকিস্তানের মধ্যস্থতা মেনে নিয়েছে পাকিস্তান দুই পক্ষকে তাদের মধ্যকার অমীমাংসিত মতভেদের অবসানে সহায়তা করতে পারে।’’

তিনি বলেন, যদি সরাসরি আলোচনা হয় এবং সেখানে কোনও অচলাবস্থা তৈরি হয়, তাহলে পাকিস্তান সব পক্ষকে আলোচনার ভাষা পরিমার্জনে সাহায্য করতে পারে। দুই পক্ষ যদি সরাসরি মুখোমুখি বসতে রাজি না হয়, সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয় না পাকিস্তান। তারপরও দেশটির মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় বোমা হামলা স্থগিতের বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল বলেছে, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়; যেখানে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

ইসরায়েলের এই অবস্থান অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আগের বক্তব্যের বিপরীত। এর আগে, তিনি বলেছিলেন, এই যুদ্ধবিরতি ‘লেবাননসহ সব জায়গার’ জন্য প্রযোজ্য হবে।

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code