‘বডি কন্ট্রাক্ট’ সিন্ডিকেট: বিমানবন্দরে মানবপাচারে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা
‘বডি কন্ট্রাক্ট’ সিন্ডিকেট: বিমানবন্দরে মানবপাচারে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৯, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
প্রজন্ম ডেস্ক:
Manual5 Ad Code
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মানবপাচারের একটি বড় সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা। সিভিল এভিয়েশন, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই চক্রে অন্তত ২৫-৩০ জন জড়িত বলে তথ্য মিলেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরের ভেতরে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তা ‘বডি কন্ট্রাক্ট’-এর নামে অর্থের বিনিময়ে যাত্রীদের অবৈধভাবে বিদেশে পাঠিয়ে আসছিলেন। উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে যাওয়া এসব মানুষ অনেক ক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েছেন—কেউ প্রাণ হারিয়েছেন, কেউ অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মুক্তিপণ দিয়ে দেশে ফিরেছেন।
সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। এর পর বিমানবন্দরকেন্দ্রিক মানবপাচার সিন্ডিকেট নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সেই অনুসন্ধানে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশগামী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও, ‘বডি কন্ট্রাক্ট’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধাপে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়।
তিনি বলেন, অনুসন্ধানে বিমানবন্দরে কর্মরত একাধিক সরকারি কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্য এবং বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ওই কর্মকর্তা জানান, একাধিকবার যাচাই-বাছাই ও ক্রসচেক করে তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করেও তথ্যগুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, বডি কন্ট্রাক্টের এই চক্রে সিভিল এভিয়েশনের অন্তত ১০ জন, এসবির ১০-১২ জন এবং বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ১০-১২ জন প্রতিনিধি জড়িত। তারা প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে অবৈধভাবে ফ্লাইটে তুলে দেওয়ার কাজে যুক্ত।
জড়িতদের নামসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তালিকা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। একইসঙ্গে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
Manual5 Ad Code
এর আগে মানবপাচার প্রতিরোধে বিমানবন্দরজুড়ে চতুর্মুখী নজরদারি জোরদার করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একাধিক সংস্থা বিশেষ তৎপরতা শুরু করে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে মানবপাচার প্রতিরোধে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা করছে।
Manual1 Ad Code
তিনি বলেন, কারা এই চক্রে জড়িত সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ‘বডি কন্ট্রাক্ট’ বা জাল ভিসার মাধ্যমে যাত্রী পার করলেও দীর্ঘদিন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিচয় না জানায় মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন না। ফলে অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।