প্রকাশনার ১৬ বছর

রেজি নং: চ/৫৭৫

৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জ্বালানী সংকটে বড় ভূমিকা রাখছে বিয়ানীবাজার থেকে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ণ
জ্বালানী সংকটে বড় ভূমিকা রাখছে বিয়ানীবাজার থেকে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন

Manual2 Ad Code

 

# কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত হয় পেট্রোল ও অকটেন

# গড়ে ১শ’ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদিত হয়

 

Manual1 Ad Code

মিলাদ জয়নুল:

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানী সংকটে বড় ভূমিকা রাখছে বিয়ানীবাজার থেকে আহরিত কনডেনসেট। ভেজা গ্যাস হিসেবে উত্তোলিত এই পদার্থ থেকে উৎপাদিত হয় পেট্রোল ও অকটেন। আর বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ড বাংলাদেশের অন্যতম কনডেনসেট সমৃদ্ধ গ্যাসক্ষেত্র। ১৯৮১ সালে এই গ্যাস ক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হলেও এর আধুনিকায়ন হয়নি বললেই চলে। ফলে দিনদিন এর উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

Manual7 Ad Code

বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের অধিনে বর্তমানে দুইটি গ্যাস কূপ রয়েছে। তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ এ অঞ্চল থেকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করলে জ্বালানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জনপদ থেকে গ্যাসের উপজাত হিসেবে কনডেনসেট উৎপাদন হয়-এ সম্পর্কে স্থানীয়দেরও ধারণা নেই।

তথ্য অনুযায়ী, এখান থেকে দৈনিক প্রায় ২২৯ ব্যারেলের বেশি কনডেনসেট উৎপাদিত হত। বর্তমানে তা কমে ১০০ ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের কুপগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি উপজাত হিসেবে কনডেনসেট পাওয়া যায়। উৎপাদিত এই লাইট কনডেনসেট পাইপলাইনের মাধ্যমে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল)-এর আওতাধীন ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্টে পাঠানো হয়। সেখানে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করা হয়। বাংলাদেশে যে কয়টি ফিল্ডে সবচেয়ে বেশি কনডেনসেট পাওয়া যায়, তার মধ্যে বিয়ানীবাজার অন্যতম। এখান থেকে দেশের চাহিদার প্রায় ৫-৭ভাগ পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করা সম্ভব।

Manual6 Ad Code

সংশ্লিষ্টরা জানান, কনডেনসেট (লাইট জ্বালানি তেল) বর্ণহীন অথবা ঈষৎ হলুদ বর্ণের তরল হাইড্রোকার্বন। প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকালে ভূগর্ভ থেকে গ্যাসের সঙ্গে কনডেনসেট বেরিয়ে আসে। বেশিরভাগ কনডেনসেটই হাল্কা গ্যাসোলিন পরিসরে (বিউটেন, পেন্টেন ও হেক্সেন) বিদ্যমান সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন দ্বারা গঠিত।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে। এর মধ্যে বিয়ানীবাজারের গ্যাসক‚প থেকে গড়ে ১শ’ ব্যারেল বা ২২ হাজার লিটার কনডেনসেট পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বিয়ানীবাজারে কনডেনসেট উৎপাদনের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। তথ্য সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি সর্বপ্রথম বিয়ানীবাজারের এই ভূকাঠামো

 

Manual5 Ad Code

টিকে চিহ্নিত করে এবং ১৯৭৯-৮০ সালে প্রাকলা ভূ-কম্পন উপাত্তের দ্বারা এটি সম্পর্কে আরও অধিক নিশ্চিত হওয়া যায়।
সূত্র জানায়, দেশে উৎপাদিত পেট্রোলের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকায় পেট্রোলের চাহিদার শতভাগই দেশ থেকে মেটানো হয়। তবে বাংলাদেশে বিক্রিত অকটেনের মান আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় কম হওয়ায় অনেক সময় আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে বিক্রয়যোগ্য অকটেন তৈরি হয়।

 

বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু জাফর মো: সালেহ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারও অকটেন উৎপাদন বাড়াতে বলছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেয়া হচ্ছে। তাঁরমতে, বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।

 

 

জানা যায়, আমদানি করা তেলের মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। কিন্তু এখন বিয়ানীবাজারেও তেলের জন্য যে হাহাকার এবং দীর্ঘ সারি তার অধিকাংশই অকটেন ও পেট্রোলের জন্য। তেলের চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বরাদ্দকৃত তেল ফুরিয়ে অনেক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকতেও দেখা যাচ্ছে।

 

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code