এক অভিনব সিন্ডিকেটে ফতুর হচ্ছেন বিয়ানীবাজারবাসী। কেবল টাকা নয় পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। ক্রমেই বেপরোয়া হওয়া এই সিন্ডিকেট অপসারন না করলে ‘মাছ-ভাত খাওয়া’ বিয়ানীবাজারবাসীকে দূর্ভোগ পোহাতে হবে। গত কয়েকদিন থেকে তাদের এই অজানা সিন্ডিকেটের গোমড় ফাঁস করছেন খোদ মৎস্যজীবিরা।
Manual5 Ad Code
আলাপকালে জানা যায়, অন্তত: এক দশক থেকে বিয়ানীবাজার এলাকার মৎস্য ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছেন ৮-১০জন আড়তদার। তারা ইচ্ছেমত মাছের দাম বাড়াচ্ছেন আবার সদয় হলে কমাচ্ছেন। ভালো মানের দেশী মাছ বাড়তি মুনাফায় তারা রাজধানীতে পাঠিয়ে দেন। প্রতিদিন গড়ে দুই ট্রাক দেশীয় পুষ্টিকর মাছ বিয়ানীবাজার থেকে ঢাকা চলে যায়। এতে স্থানীয়ভাবে মাছের অনেকটা আকাল দেখা দিয়েছে।
Manual8 Ad Code
বিভিন্ন সুত্র জানায়, বিয়ানীবাজারের মাছের আড়তে হাকালুকি, মুড়িয়া হাওরসহ অন্যান্য ছোট-বড় বিল থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ মাছ আসে। এসব মাছের মধ্যে ভালো জাতের মাছ তারা আলাদা করে তুলনামুলক অপুষ্টিকর মাছ স্থানীয় বাজারের জন্য রেখে দেন। আবার বাড়তি দাম পেলে কিছুটা তারা স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করেন।
ইদানীং আড়তদারদের মনগড়া দাম নিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন পৌরশহরের কিচেন মার্কেটের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা ঢাকায় মাছ পাচার বন্ধ করে স্থানীয়ভাবে অধিক যোগান দেয়ার দাবী তুলেন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে ওঠেন পাইকারী আড়তদাররা। তারা শুক্রবার মাছের মেলা করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিপদগ্রস্ত করার পায়তারা করেন। আর এমন হলে বিয়ানীবাজারের আড়তদারদের কাছ থেকে মাছ ক্রয় বন্ধ রাখবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিচেন মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ীরা। এমন অবস্থায় আড়তদাররা নিজেদের উদ্যোগে কিচেন মার্কেটের পাশে পৃথক আরেকটি মাছ বাজার বসানোর পায়তারা করছেন। এসব নিয়ে দু’পক্ষ এখন মুখোমুখি অবস্থানে।
Manual7 Ad Code
বৃহস্পতিবার বিয়ানীবাজার পৌরশহরের মৎস্য আড়ৎ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে এ সিন্ডিকেটের কিছুটা রহস্য জানা গেছে। তবে উভয়পক্ষের কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। এদিন বাজারে ছোট চিংড়ি মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। যা অন্যান্য বাজারে ৪শ’ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এমন আকাশচুম্বি দামের পিছনে আড়তদাররা দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন কিচেন মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ীরা।